ব্রাজিলের বিশ্বকাপ থেকে বিদায় শুধু কোটি সমর্থককেই নয়, কাঁদিয়েছে অভিনেত্রী ও মডেল সাফা কবিরকেও। যুক্তরাষ্ট্রের নিউজার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে বসে প্রিয় দলের হার দেখেছেন তিনি। ম্যাচ শেষে নেইমারের অশ্রুসিক্ত বিদায় তাঁর মন ভেঙে দিয়েছে বলে জানিয়েছেন এই ব্রাজিল সমর্থক।
ব্রাজিলের বিশ্বকাপ মিশন শেষ হয়েছে নরওয়ের কাছে হেরে। সেই ম্যাচটি যুক্তরাষ্ট্রের নিউজার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে গ্যালারিতে বসে সরাসরি দেখেছেন অভিনেত্রী ও মডেল সাফা কবির। ম্যাচ শেষে একটি গণমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে তিনি জানান, নেইমারের কান্নার দৃশ্য তাঁকে গভীরভাবে নাড়া দিয়েছে।
সাফা বলেন, অন্যদিকে নেইমারের কান্নার দৃশ্যটা আমার মন ভেঙে দিয়েছে। কিছুদিন ধরেই শোনা যাচ্ছিল, এটি হয়তো তাঁর শেষ বিশ্বকাপ হতে পারে। যদি সত্যিই সেটিই হয়ে থাকে, তাহলে ফুটবলপ্রেমীদের জন্য এটি খুবই বেদনাদায়ক।
তিনি আরও বলেন, নেইমার একদিনে এই জায়গায় আসেননি। বছরের পর বছর পরিশ্রম ও অসাধারণ প্রতিভা দিয়ে তিনি নিজেকে বিশ্বের সেরা ফুটবলারদের একজন হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। ম্যাচ শেষে তাঁর কান্না দেখে একজন ব্রাজিল সমর্থক হিসেবে খুব খারাপ লেগেছে। মনে হচ্ছিল, হয়তো আমরা একটি যুগের সমাপ্তি দেখছি।
বিশ্বকাপে গ্যালারিতে বসে প্রিয় দলের খেলা দেখার অভিজ্ঞতাও ভাগ করে নেন সাফা। তিনি জানান, নিউইয়র্ক থেকে নিউজার্সি যাওয়ার পুরো পথজুড়েই ছিল ব্রাজিল সমর্থকদের উচ্ছ্বাস। স্টেডিয়ামের গ্যালারিও ছিল হলুদ জার্সির সমুদ্রে পরিণত। তাঁর ভাষায়, মনে হয়েছিল প্রায় ৭০ শতাংশ দর্শকই ব্রাজিলের সমর্থক। এত সমর্থন দেখে বিশ্বাস ছিল দলটি জিতেই মাঠ ছাড়বে।
নরওয়ের হয়ে আর্লিং হলান্ড গোল করার পরও আশা ছাড়েননি তিনি। সাফা বলেন, শেষ বাঁশি বাজার আগ পর্যন্ত তিনি বিশ্বাস করছিলেন ব্রাজিল ম্যাচে ফিরবে। এমনকি মনে হয়েছিল, ম্যাচ টাইব্রেকারে গেলে জিতবে ব্রাজিলই।
ব্রাজিলের প্রতি ভালোবাসার শুরুর গল্পও জানান এই অভিনেত্রী। ২০০২ বিশ্বকাপে ব্রাজিলের শিরোপা জয়, রোনালদোর জনপ্রিয়তা এবং শৈশবের স্মৃতি থেকেই ব্রাজিলের সমর্থক হয়ে ওঠেন তিনি। ২০২৬ বিশ্বকাপ যুক্তরাষ্ট্রে হবে জানার পর থেকেই গ্যালারিতে বসে ব্রাজিলের খেলা দেখার পরিকল্পনা শুরু করেন বলে জানান সাফা।
বর্তমান ব্রাজিল দল নিয়েও নিজের মূল্যায়ন দিয়েছেন তিনি। তাঁর মতে, রোনালদো, রোনালদিনহো, কাকা কিংবা রবার্তো কার্লোসদের সময়কার সেই জাদুকরী সমন্বয় এখন আর দেখা যায় না। বিশ্বকাপের মতো বড় আসরে আরও ভালো প্রস্তুতি ও পরিকল্পনা নিয়ে মাঠে নামা উচিত ছিল বলে মনে করেন তিনি।
ম্যাচ শেষে যদি হলান্ডের সঙ্গে দেখা হতো, তাহলে তাঁকে অভিনন্দন জানাতেন বলেও জানান সাফা। তবে একজন ব্রাজিল সমর্থক হিসেবে গোল দুটি তাঁর জন্য ছিল সবচেয়ে কষ্টের মুহূর্ত।
গ্যালারিতে বাংলাদেশের পতাকা নিয়ে উপস্থিত ছিলেন সাফা কবির। তিনি জানান, অনেক ব্রাজিলিয়ান সমর্থক বাংলাদেশের পতাকা দেখে তাঁর সঙ্গে কথা বলেছেন এবং বাংলাদেশ থেকে ব্রাজিলের খেলা দেখতে আসায় তাঁকে আন্তরিকভাবে স্বাগত জানিয়েছেন। সেই ভালোবাসা ও আন্তরিকতা তাঁকে মুগ্ধ করেছে।
সবশেষে সাফা কবির বলেন, ব্রাজিলের সামনে এখনো অনেক সম্ভাবনা রয়েছে। দলটি যদি আরও ভালো প্রস্তুতি নিয়ে ফিরে আসে, তাহলে আগামী বিশ্বকাপে আবারও সেই চিরচেনা জাদুকরি ব্রাজিলকে দেখা যাবে বলেই তাঁর বিশ্বাস।