কমলগঞ্জে ধলাই নদীর ভাঙনে পানিবন্দি ১৫ হাজার মানুষ

কমলগঞ্জ (মৌলভীবাজার) সংবাদদাতা

সারাদেশ

মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলায় টানা বৃষ্টি ও ভারত থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে ধলাই নদীর প্রতিরক্ষা বাঁধ ভেঙে বন্যার সৃষ্টি হয়েছে।

2026-07-09T16:22:35+00:00
2026-07-09T16:22:35+00:00
  শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬,
২৬ আষাঢ় ১৪৩৩
 
শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬
সারাদেশ
কমলগঞ্জে ধলাই নদীর ভাঙনে পানিবন্দি ১৫ হাজার মানুষ
কমলগঞ্জ (মৌলভীবাজার) সংবাদদাতা
বৃহস্পতিবার, ৯ জুলাই, ২০২৬, ৪:২২ পিএম 
ছবি ভোরের ডাক
মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলায় টানা বৃষ্টি ও ভারত থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে ধলাই নদীর প্রতিরক্ষা বাঁধ ভেঙে বন্যার সৃষ্টি হয়েছে। এতে ইসলামপুর, মাধবপুর ও আদমপুর ইউনিয়নের অন্তত ১৫টি গ্রাম প্লাবিত হয়ে প্রায় ১৫ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। পাশাপাশি পানির স্রোতে রোপণ করা আউশ ধান ও বিভিন্ন শাকসবজির ক্ষেতের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, কয়েকদিনের ভারী বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে নদী, ছড়া ও খাল-বিলের পানি উপচে পড়ে। বুধবার রাতে ধলাই নদীর ইসলামপুর ইউনিয়নের মখাবিল এলাকায় প্রায় ১০০ মিটার প্রতিরক্ষা বাঁধ ভেঙে যায়। এর ফলে ইসলামপুর, আদমপুর ও মাধবপুর ইউনিয়নের মখাবিল, গোলের হাওর, ভান্ডারিগাঁও, গঙ্গানগর, কোনাগাঁও, বেরিগাঁও, শ্রীপুর, পাতারিগাঁও, কালায়েরবিল, আধকানী, ছনগাঁও, বন্দেরগাঁও, তেঁতইগাঁও, ভানুবিল ও ঘোরামারা গ্রাম প্লাবিত হয়।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, ধলাই নদীর মখাবিল এলাকার বাঁধ দীর্ঘদিন ধরেই ঝুঁকিপূর্ণ ছিল। সময়মতো সংস্কার করা হলে এত বড় ক্ষয়ক্ষতি এড়ানো যেত। বন্যার পানিতে ঘরবাড়িতে পানি ঢুকে পড়েছে এবং আউশ ধানসহ বিভিন্ন ফসল তলিয়ে গেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা সাকিব মিয়া ও জাকির হোসেন বলেন, বুধবার রাত প্রায় ১০টার দিকে হঠাৎ করে বাঁধ ভেঙে যায়। এরপর দ্রুত কয়েকটি ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়। এতে হাজারো মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়েছেন।

মৌলভীবাজার পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) সূত্রে জানা গেছে, ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)-এর আপত্তির কারণে মখাবিল এলাকায় ধলাই নদীর প্রতিরক্ষা বাঁধ মেরামতের কাজ করা সম্ভব হয়নি। ফলে প্রতি বছর নদী ভরাট হয়ে এ এলাকায় বাঁধ ভেঙে বন্যার সৃষ্টি হয়। বর্তমানে বন্যার পানি নিম্নাঞ্চলের দিকে প্রবাহিত হওয়ায় শমশেরনগর, পতনঊষার ও মুন্সিবাজার ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায়ও পানি বাড়ছে। এতে কৃষকদের আউশ ধান ও সবজির ক্ষেত মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকলে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

এদিকে, টানা বৃষ্টির কারণে পাহাড়ি ঢলে কমলগঞ্জের মাধবপুর-ভানুগাছ হয়ে শ্রীমঙ্গলগামী সড়কের নুরজাহান চা বাগানের গোয়াবাড়ি এলাকায় একটি কালভার্ট ধসে পড়েছে। এছাড়া আদমপুর-ইসলামপুর সড়ক পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় যোগাযোগ ব্যবস্থা ব্যাহত হচ্ছে।

শ্রীমঙ্গল আবহাওয়া অফিসের তথ্য অনুযায়ী, বুধবার সকাল ৬টা পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টায় ৯১ মিলিমিটার, বুধবার সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত আরও ৭৯ মিলিমিটার এবং বৃহস্পতিবার সকাল ৬টা পর্যন্ত ৯৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা জয়ন্ত কুমার রায় বলেন, টানা বৃষ্টির কারণে সৃষ্ট বন্যায় কৃষিজমির ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। তবে এখনও পানি থাকায় প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ করা সম্ভব হয়নি।

মৌলভীবাজার পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী খালেদ বিন ওয়ালিদ বলেন, ধলাই নদীর মখাবিল এলাকায় ভাঙন দেখা দিয়েছে। ভারতীয় বিএসএফের আপত্তির কারণে ওই অংশে প্রতিরক্ষা বাঁধের কাজ করা সম্ভব হয়নি।

কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আসাদুজ্জামান বলেন, টানা বৃষ্টি ও ধলাই নদীর বাঁধ ভেঙে বন্যার সৃষ্টি হয়েছে। তবে বৃহস্পতিবার বৃষ্টিপাত না হওয়ায় পানি কমতে শুরু করেছে। প্লাবিত এলাকায় শুকনো খাবার বিতরণ করা হচ্ছে এবং পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।


Loading...
Loading...

সারাদেশ- এর আরো খবর

Loading...
Loading...
© 2026 Daily Daily Bhorer Dak
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে.এম. বেলায়েত হোসেন
৪-ডি, মেহেরবা প্লাজা, ৩৩ তোপখানা রোড, ঢাকা-১০০০ থেকে প্রকাশিত এবং মনিরামপুর প্রিন্টিং প্রেস ৭৬/এ নয়াপল্টন, ঢাকা থেকে মুদ্রিত। পিএবিএক্স: ৪১০৫২২৪৫, ৪১০৫২২৪৬, ০১৭৭৫-৩৭১১৬৭, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন: ৪১০৫২২৫৮
ই-মেইল : [email protected], [email protected]
ফলো করুন: