মুন্সীগঞ্জের টঙ্গীবাড়িতে পূর্বের দুই বিয়ের তথ্য গোপন করে তৃতীয় বিয়ে করাকে কেন্দ্র করে দাম্পত্য কলহের জেরে আছমা আক্তার (২৬) নামে এক গৃহবধূকে হত্যার অভিযোগ উঠেছে তার স্বামী মো. মুহাসিন মাতুব্বরের (৩২) বিরুদ্ধে। ঘটনার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই রহস্য উদঘাটন করে অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।
পিবিআই জানায়, টঙ্গীবাড়ি উপজেলার বালিগাঁও ইউনিয়নের পূর্ব বালিগাঁও এলাকায় একটি ভাড়া বাসায় স্ত্রী আছমা আক্তার ও চার বছর বয়সী মেয়েকে নিয়ে বসবাস করতেন মুহাসিন মাতুব্বর। প্রায় চার মাস আগে ইসলামী শরীয়াহ অনুযায়ী তাদের বিয়ে হয়। তদন্তে জানা গেছে, বিয়ের আগে আছমা তার পূর্বের দুটি বিয়ের তথ্য স্বামীর কাছে গোপন রেখেছিলেন। বিষয়টি জানার পর থেকেই তাদের মধ্যে দাম্পত্য কলহ শুরু হয়।
প্রাথমিক তদন্ত অনুযায়ী, ঘটনার আগের রাত থেকেই স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বিরোধ তীব্র হয়। ৭ জুলাই সকালে নাস্তা তৈরি না করা এবং মাথাব্যথাকে কেন্দ্র করে আবারও তাদের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে মুহাসিন স্ত্রীকে মারধর করেন। পরে গলা চেপে ধরে ধাক্কা দিলে আছমা ঘরের কাঠের পাটাতনে আঘাত পেয়ে ঘটনাস্থলেই মারা যান।
হত্যাকাণ্ডকে আত্মহত্যা হিসেবে দেখাতে অভিযুক্ত ওড়না দিয়ে মরদেহ ঝুলিয়ে রাখার চেষ্টা করেন। তবে তা সম্ভব না হওয়ায় মরদেহ খাটের ওপর রেখে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান।
এ ঘটনায় নিহতের ভাই শামীম তালুকদার টঙ্গীবাড়ি থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। এরপর পিবিআই ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে প্রযুক্তির সহায়তায় তদন্ত শুরু করে।
তদন্তের একপর্যায়ে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ৮ জুলাই গোপালগঞ্জের মকসুদপুর এলাকা থেকে পিবিআইয়ের একটি দল মুহাসিন মাতুব্বরকে গ্রেপ্তার করে। জিজ্ঞাসাবাদে তিনি হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেন। পরে আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিও দেন।
পিবিআই জানিয়েছে, পূর্বের দুই বিয়ের তথ্য গোপন রাখা এবং তা নিয়ে পারিবারিক বিরোধের জেরেই এ হত্যাকাণ্ড ঘটেছে বলে প্রাথমিক তদন্তে প্রতীয়মান হয়েছে। তবে ঘটনার অন্যান্য দিকও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।