চট্টগ্রাম, কক্সবাজার ও তিন পার্বত্য জেলায় ভারি থেকে অতিভারি বৃষ্টির পূর্বাভাসের মধ্যে ভূমিধসের বিশেষ সতর্কতা জারি করেছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। বৃহস্পতিবার থেকে শনিবার পর্যন্ত কোথাও কোথাও ৫০০ মিলিমিটার পর্যন্ত বৃষ্টিপাত হতে পারে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি। ইতোমধ্যে কয়েক দিনের টানা বৃষ্টিতে পাহাড়ি এলাকার মাটি নরম হয়ে যাওয়ায় ভূমিধসের ঝুঁকি বেড়েছে।
বুধবার (৮ জুলাই) রাতে জারি করা বিশেষ সতর্কবার্তায় বলা হয়, ভারতের উত্তর-পশ্চিম মধ্যপ্রদেশ ও আশপাশের এলাকায় অবস্থানরত সুস্পষ্ট লঘুচাপ এবং উত্তর বঙ্গোপসাগরে সক্রিয় প্রবল মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে বৃহস্পতিবার থেকে শনিবার পর্যন্ত চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, বান্দরবান, রাঙামাটি ও খাগড়াছড়ি জেলায় ভারি থেকে অতিভারি বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের গাণিতিক মডেলের পূর্বাভাস অনুযায়ী, এ সময়ে পাঁচ জেলায় মোট ২০০ থেকে সর্বোচ্চ ৫০০ মিলিমিটার পর্যন্ত বৃষ্টিপাত হতে পারে। এ কারণে ভূমিধসের উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে বিশেষ সতর্কতা জারি করা হয়েছে।
ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার মধ্যে রয়েছে কক্সবাজার জেলার টেকনাফ, উখিয়া ও কক্সবাজার সদর উপজেলা। এছাড়া চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের ৭ নম্বর পশ্চিম ষোলশহর, ৮ নম্বর শুলকবহর, ৯ নম্বর উত্তর পাহাড়তলি ও ১৪ নম্বর লালখান বাজার ওয়ার্ড, বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি, লামা ও সদর উপজেলা এবং রাঙামাটি ও খাগড়াছড়ি জেলার পাহাড়ি এলাকাগুলোও বিশেষ ঝুঁকিতে রয়েছে।
আবহাওয়া ও ভূপ্রাকৃতিক কেন্দ্র চট্টগ্রামের উপপরিচালক মোহাম্মদ আবদুর রহমান খান বলেন, সপ্তাহের শুরু থেকেই ভারি বৃষ্টির কারণে ভূমিধসের সতর্কতা দেওয়া হচ্ছিল। সর্বশেষ গাণিতিক মডেলের তথ্য বিশ্লেষণ করে বিশেষ সতর্কতা জারি করা হয়েছে। তিনি বলেন, বর্তমানে বৃষ্টির তীব্রতা কিছুটা কমলেও সামনে আরও বৃষ্টি হবে। গত কয়েক দিনের বৃষ্টিতে পাহাড়ের মাটি নরম হয়ে থাকায় পাহাড়ধসের আশঙ্কা অনেক বেড়েছে।
এদিকে আবহাওয়া অফিসের তথ্য অনুযায়ী, পতেঙ্গা কেন্দ্রে বৃহস্পতিবার সকাল ৯টা পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টায় ১৭১ দশমিক ৬ মিলিমিটার এবং দুপুর ১২টা পর্যন্ত ১৯২ দশমিক ৬ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।
অন্যদিকে নগরীর আমবাগান আবহাওয়া অফিসে বৃহস্পতিবার সকাল ৯টা পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টায় ৩৩৬ মিলিমিটার এবং দুপুর ১২টা পর্যন্ত ২১৯ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। সকাল থেকে কিছু সময় বৃষ্টির তীব্রতা কম থাকলেও দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে আবারও চট্টগ্রাম নগরীতে মুষলধারে বৃষ্টি শুরু হয়।
আবহাওয়া অধিদপ্তর পাহাড়ি এলাকার ঝুঁকিপূর্ণ বসতি ও ঢালসংলগ্ন অঞ্চলের বাসিন্দাদের প্রয়োজন ছাড়া বাইরে না যাওয়া এবং স্থানীয় প্রশাসনের নির্দেশনা অনুসরণের আহ্বান জানিয়েছে।