যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার যুদ্ধবিরতি চুক্তি ভেঙে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, আজ রাতেই ইরানে আবারও কঠোর ও বড় ধরনের হামলা চালানো হতে পারে।
বুধবার তুরস্কের রাজধানী আঙ্কারায় অনুষ্ঠিত ন্যাটো শীর্ষ সম্মেলনের ফাঁকে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সঙ্গে বৈঠকের আগে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন ট্রাম্প। এ সময় তিনি ইরানকে নতুন করে হামলার হুঁশিয়ারি দেন।
ট্রাম্প বলেন, ‘আমি তাদের (ইরানকে) একটি ছোট সতর্কবার্তা দিচ্ছি—আজ রাতেই আমরা তাদের ওপর আবারও অত্যন্ত কঠিন ও মারাত্মক আঘাত হানতে যাচ্ছি।’
এর আগে ট্রাম্পের এই ঘোষণার আগেই হরমুজ প্রণালি ও ইরানের উপকূলীয় এলাকায় দেশটির বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, রাডার স্টেশন, কমান্ড সেন্টার এবং ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ডসের (আইআরজিসি) ঘাঁটিসহ ৮০টির বেশি স্থাপনায় বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায় মার্কিন সামরিক বাহিনী। এসব হামলায় অন্তত ৬০টি যুদ্ধজাহাজও লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।
সেন্টকমের তথ্য অনুযায়ী, হরমুজ প্রণালিতে তিনটি তেলের ট্যাংকারে ইরানের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার জবাব হিসেবেই এই অভিযান চালানো হয়। হামলায় ইরানের বন্দর আব্বাস, সিরিক ও কেশম দ্বীপ এলাকায় একাধিক বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এর কিছু ভিডিও ফুটেজ ট্রাম্প নিজেও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করেছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের হামলার পর ইরানও পাল্টা প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। ওয়াশিংটনের বিরুদ্ধে যুদ্ধবিরতি চুক্তি লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলেছে দেশটি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বিবৃতিতে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় দাবি করেছে, দক্ষিণ উপকূলের নজরদারি ও পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রগুলোতে মার্কিন বিমান হামলা অন্তর্বর্তীকালীন শান্তি চুক্তির গুরুতর লঙ্ঘন।
পাশাপাশি মার্কিন ট্রেজারি বিভাগ আন্তর্জাতিক বাজারে মার্কিন ডলারের মাধ্যমে ইরানের তেল বিক্রির ক্ষেত্রে ৬০ দিনের নিষেধাজ্ঞা মওকুফ সুবিধা বাতিল করেছে। তেহরানের দাবি, এতে ইরানের ওপর অর্থনৈতিক চাপ বাড়বে এবং এটি যুদ্ধবিরতির শর্তের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।
ইরান আরও অভিযোগ করেছে, লেবাননে ইসরায়েলের চলমান সামরিক অভিযানই শান্তি চুক্তি ভেঙে পড়ার অন্যতম কারণ। তেহরানের দাবি, বর্তমান পরিস্থিতির জন্য যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল দায়ী।
অন্যদিকে, সেন্টকম তাদের সামরিক অভিযানকে বৈধ ও আত্মরক্ষামূলক পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করেছে। তাদের দাবি, বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি সরবরাহ রুট হরমুজ প্রণালিতে আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই ইরানের সামরিক সক্ষমতাকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে।
পরিস্থিতি বিবেচনায় ইরান প্রতিবেশী দেশগুলোকেও সতর্ক করেছে। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, কোনো প্রতিবেশী রাষ্ট্র যেন তাদের ভূখণ্ড বা সামরিক ঘাঁটি যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের ব্যবহারের সুযোগ না দেয়। কোনো দেশ এ ধরনের সহযোগিতা করলে তাকে আগ্রাসনের অংশীদার হিসেবে বিবেচনা করা হবে বলেও সতর্ক করেছে তেহরান।
জাতিসংঘ সনদের ৫১ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী নিজেদের সার্বভৌমত্ব রক্ষার অধিকার রয়েছে উল্লেখ করে ইরান জানিয়েছে, যেকোনো হামলার উৎস ও এর পরিকল্পনাকারীদের লক্ষ্যবস্তু করতে তাদের সশস্ত্র বাহিনী প্রস্তুত রয়েছে।