ইরানে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় শেষ শ্রদ্ধা নিবেদনের পর এবার ইরাকে নেওয়া হচ্ছে আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির কফিন। শিয়া মুসলিমদের অন্যতম পবিত্র শহর নাজাফে তার জানাজা ঘিরে চলছে ব্যাপক প্রস্তুতি। ইতোমধ্যে লাখো শোকাহত মানুষের সমাগমের পাশাপাশি কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করেছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ, ফলে পুরো অঞ্চলজুড়ে তৈরি হয়েছে গভীর শোক ও আবেগঘন পরিবেশ।
ইরাকের পবিত্র শহর নাজাফে পৌঁছেছে ইরানের নিহত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মরদেহবাহী কফিন। ইরানে কয়েক দফা জানাজা ও শোকানুষ্ঠান শেষে কফিনটি নাজাফে নেওয়া হয়।
ইরাকি রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের খবরে বলা হয়েছে, নাজাফ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে কফিনটি গ্রহণ করেন ইরাকের প্রধানমন্ত্রী আলী আল-জাইদি ও দেশটির জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা। পরে সেখানে আনুষ্ঠানিক অভ্যর্থনার পর জানাজা ও জনসাধারণের অংশগ্রহণে শোক মিছিলের প্রস্তুতি নেওয়া হয়।
শিয়া মুসলিমদের কাছে নাজাফ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি ধর্মীয় নগরী। কারণ, এখানে সমাহিত আছেন মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর চাচাতো ভাই ও জামাতা ইমাম আলী (রা.)। এ কারণে খামেনির মরদেহ নাজাফে নেওয়াকে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় খামেনি নিহত হন। এরপর জানাজা ও একাধিক দিনের শোক র্যালির অংশ হিসেবে মরদেহ নেওয়া হয় ইরাকের এই পবিত্র শহরে।
এদিকে জানাজা ও শোক র্যালির আনুষ্ঠানিকতায় অংশ নিতে নাজাফে পৌঁছেছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ানও। বিমানবন্দরে আয়োজিত অভ্যর্থনা অনুষ্ঠানে ইরাকের রাজনৈতিক নেতা, শিয়া ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব ও বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। এরপর কফিনটি শহরজুড়ে জনশোক কর্মসূচির অংশ হিসেবে নিয়ে যাওয়া হবে। বুধবার সেখানে বড় পরিসরের শোকমিছিল অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
গত শুক্রবার থেকে ইরানে রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাপনায় খামেনির জানাজা ও শোক র্যালি শুরু হয়। প্রায় চার দশক ধরে ইরানের নেতৃত্ব দেওয়া এই নেতার মৃত্যুতে আয়োজিত শোকানুষ্ঠানগুলোকে শুধু ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা নয়, বরং ইসলামী প্রজাতন্ত্রের ধারাবাহিকতা ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার বার্তা দেওয়ার প্রচেষ্টা হিসেবেও দেখা হচ্ছে।