টানা তিন দিনের ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলার বিস্তীর্ণ নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। এতে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে এবং দেখা দিয়েছে স্বল্পমেয়াদি বন্যার আশঙ্কা। দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ ও প্রশাসনিক সহায়তার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
সরেজমিনে দেখা যায়, বুধবার (৮ জুলাই) টানা বৃষ্টিতে উপজেলার ভোয়ালিয়াপাড়া, রূপকানিয়া, চরতি, কাঞ্চনা, এওচিয়া,বাজালিয়ার মাহালিয়া, ঢেমশা ও কেওঁচিয়াসহ বিভিন্ন এলাকার নিচু স্থান তলিয়ে গেছে এবং বসতবাড়িতে পানি ঢুকে গেছে। অবিরাম বর্ষণে দানুরমার ঘাটের গুরুত্বপূর্ণ সাঁকোটি পানির তীব্র স্রোতে ভেঙে যাওয়ায় নদী পারাপারে স্থানীয়দের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। জরুরি প্রয়োজনে সাধারণ মানুষকে ঝুঁকি নিয়ে বিকল্প পথে চলাচল করতে হচ্ছে।
এদিকে, ২০২৩ সালের বন্যায় ভেঙে যাওয়া দক্ষিণ ভোয়ালিয়াপাড়া ৮ নম্বর ওয়ার্ড ও এওচিয়া ৭-৮ -৯ ওয়ার্ড নদীতীরের ক্ষতিগ্রস্ত অংশটি দীর্ঘ সময়েও সংস্কার না করায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ও আতঙ্ক বিরাজ করছে। চলমান বর্ষণে ওই স্থানে আবারও বড় ধরনের ভাঙনের আশঙ্কায় রয়েছেন এলাকাবাসী। অন্যদিকে, পূর্ব ছদাহা এলাকায় বন্যার পানি প্রবেশ করায় ছদাহা–মাহালিয়া সড়কের ওপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছে, যা যোগাযোগ ব্যবস্থাকে ব্যাহত করছে বাড়িঘরে পানি ঢুকে গেছে।
পাহাড়ি ঢল ও টানা বর্ষণে সাঙ্গু ও ডলু নদীতে তীব্র স্রোত দেখা দিয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, সাঙ্গু নদীর পানি বিপৎসীমার কাছাকাছি পৌঁছেছে। এতে নিম্নাঞ্চলের চর ও বিল এলাকা প্লাবিত হয়ে কৃষকের সবজি ক্ষেত ও বীজতলা তলিয়ে যাওয়ায় বড় ধরনের ক্ষতির আশঙ্কা করছেন কৃষকরা। এছাড়া বৈরী আবহাওয়ার মধ্যেও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলা থাকায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন শিক্ষার্থীরা।
ভবিষ্যৎ পরিস্থিতি নিয়ে এলাকাবাসীর মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে। বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকলে নদীতীরবর্তী বসতঘর বিলীন হওয়া এবং পাহাড়ধসের ঝুঁকিও ক্রমেই বাড়ছে বলে শঙ্কা প্রকাশ করছেন স্থানীয়রা।
এ বিষয়ে সাতকানিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) খোন্দকার মাহমুদুল হাসান বলেন, টানা বৃষ্টিপাত, ডলু (সাঙ্গু) নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় নদীতীরবর্তী ও নিম্নাঞ্চলের বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।
তিনি আরও জানান, সম্ভাব্য বন্যা ও জলাবদ্ধতা মোকাবিলায় উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সার্বিক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যে পর্যাপ্ত শুকনো খাবার মজুত রাখা হয়েছে এবং প্রয়োজন সাপেক্ষে দ্রুত ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে ত্রাণ সহায়তা বিতরণ করা হবে।