সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনী বাতিলের দাবিতে করা আপিলের শুনানি আগামী বুধবার (৮ জুলাই) পর্যন্ত মুলতবি করেছেন আপিল বিভাগ।
মঙ্গলবার (৭ জুলাই) প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন আপিল বেঞ্চে শুনানি শেষে এ আদেশ দেওয়া হয়।
আদালতে রিটকারী ড. বদিউল আলম মজুমদারের পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী শরীফ ভূঁইয়া। জামায়াতে ইসলামীর পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির এবং বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. মোফাজ্জল হোসেনের পক্ষে শুনানি করেন ব্যারিস্টার এ এস এম শাহরিয়ার কবির।
এর আগে গত ১৩ নভেম্বর হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করার অনুমতি দেন আপিল বিভাগ। এরপর থেকেই মামলাটির আপিল শুনানি শুরু হয়।
২০১১ সালের ৩০ জুন জাতীয় সংসদে সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনী আইন পাস হয়। এই সংশোধনীর মাধ্যমে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বিলোপসহ সংবিধানের বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে পরিবর্তন আনা হয়। একই বছরের ৩ জুলাই রাষ্ট্রপতি এ আইনে সম্মতি দেন।
পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বাতিলের পাশাপাশি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে জাতির পিতা হিসেবে সাংবিধানিক স্বীকৃতি দেওয়া হয়। এছাড়া জাতীয় সংসদে নারীদের জন্য সংরক্ষিত আসন ৪৫ থেকে বাড়িয়ে ৫০ করা হয়।
এ সংশোধনীর মাধ্যমে সংবিধানে ধর্মনিরপেক্ষতা ও ধর্মীয় স্বাধীনতা পুনর্বহাল করা হয়। পাশাপাশি রাষ্ট্রীয় মূলনীতি হিসেবে জাতীয়তাবাদ, সমাজতন্ত্র, গণতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষতার নীতি পুনরায় সংযোজন করা হয়।
এছাড়া অসাংবিধানিকভাবে রাষ্ট্রক্ষমতা দখলকে রাষ্ট্রদ্রোহ হিসেবে গণ্য করে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান যুক্ত করা হয়। একই সঙ্গে আগে মেয়াদ শেষ হওয়ার পরবর্তী ৯০ দিনের মধ্যে নির্বাচন অনুষ্ঠানের বিধান পরিবর্তন করে মেয়াদ শেষ হওয়ার আগের ৯০ দিনের মধ্যে নির্বাচন আয়োজনের বিধান অন্তর্ভুক্ত করা হয়।
পঞ্চদশ সংশোধনী বাতিলের নির্দেশনা চেয়ে সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন)-এর সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদারসহ পাঁচ বিশিষ্ট ব্যক্তি হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন। ওই রিটের পরিপ্রেক্ষিতে ২০২৪ সালের ১৯ আগস্ট হাইকোর্ট রুল জারি করেন। রুলে জানতে চাওয়া হয়, সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনী আইন কেন সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক ঘোষণা করা হবে না।
পরে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার, গণফোরামসহ বিভিন্ন ব্যক্তি ও সংস্থা ইন্টারভেনার হিসেবে মামলায় যুক্ত হয়ে নিজেদের বক্তব্য উপস্থাপন করেন।
এ ছাড়া নওগাঁর রানীনগর উপজেলার নারায়ণপাড়া গ্রামের বাসিন্দা বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. মোফাজ্জল হোসেনও এ বিষয়ে পৃথক রিট দায়ের করেন। রুলের ওপর শুনানি শেষে ২০২৪ সালের ১৭ ডিসেম্বর হাইকোর্ট রায় দেন।