রাজধানীর মহাখালীতে অটোরিকশাচালক স্বামীকে হত্যা করে লাশ ছয় টুকরা করে গুমের চেষ্টার ঘটনায় স্ত্রী ফাতেমা বেগম ওরফে শিল্পীকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে লাশ গুমের অপরাধে তাকে সাত বছরের কারাদণ্ড এবং ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২ জুন) ঢাকার ১৬তম অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালতের বিচারক নাজমুন নাহার নিপু এ রায় ঘোষণা করেন। বিচার চলাকালে আদালত ১৭ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ করেন। রায়ে আদালত বলেন, স্বামীকে নৃশংসভাবে হত্যা করে লাশ গুমের চেষ্টা করায় আসামি সর্বোচ্চ শাস্তির যোগ্য। ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৭৪ ধারা অনুযায়ী হাইকোর্টের অনুমোদনের পর তার মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হবে।
রায় ঘোষণার আগে শিল্পীকে কারাগার থেকে আদালতে হাজির করা হয়। পরে সাজা পরোয়ানাসহ তাকে আবার কারাগারে পাঠানো হয়।
মামলার বিবরণে জানা যায়, ২০২১ সালের ৩০ মে রাতে রাজধানীর মহাখালীর আমতলী এলাকায় একটি ড্রাম থেকে অটোরিকশাচালক ময়না মিয়া ওরফে শাকিলের মাথাবিহীন মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। একই রাতে মহাখালী বাস টার্মিনালের এনা কাউন্টারের সামনে একটি ব্যাগ থেকে তার দুই হাত ও দুই পায়ের খণ্ডিত অংশ উদ্ধার করা হয়। পরে তদন্তে ঘটনাটির রহস্য উদ্ঘাটন করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের গুলশান বিভাগ।
ঘটনার ১২ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেপ্তার হন নিহতের স্ত্রী ফাতেমা বেগম ওরফে শিল্পী। জিজ্ঞাসাবাদে তিনি স্বামীকে হত্যার কথা স্বীকার করেন। তদন্তে জানা যায়, পারিবারিক কলহ, টাকাপয়সা নিয়ে বিরোধ এবং স্বামীর দ্বিতীয় বিয়েকে কেন্দ্র করে তিনি হত্যার পরিকল্পনা করেন। পরিকল্পনা অনুযায়ী স্বামীকে ঘুমের ওষুধ খাইয়ে অচেতন করার পর গলা কেটে হত্যা করেন এবং মরদেহ ছয় খণ্ড করে বিভিন্ন স্থানে ফেলে দেন।
এ ঘটনায় নিহতের দ্বিতীয় স্ত্রী নাসরিন ২০২১ সালের ১ জুন তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানায় হত্যা মামলা করেন। পরে গ্রেপ্তারের পর শিল্পী ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। তদন্ত শেষে ২০২২ সালের ২৪ অক্টোবর তার বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়। ২০২৩ সালের ১২ মার্চ আদালত অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরু করেন। দীর্ঘ শুনানি শেষে বৃহস্পতিবার এ বহুল আলোচিত মামলার রায় ঘোষণা করা হয়।