দুই দশক ধরে বিশ্ব ফুটবলকে রাঙানো দুই মহাতারকার বিশ্বকাপ যাত্রার শেষটা হলো না স্বপ্নের মতো। ক্যারিয়ারের শেষ বিশ্বকাপ খেলতে নেমেও শিরোপার স্বাদ অধরাই থেকে গেল ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো ও নেইমারের।
একদিকে অবসরের ঘোষণা দিয়ে বিশ্বকাপকে বিদায় বলেছেন নেইমার, অন্যদিকে শেষ বিশ্বকাপেও ট্রফি ছুঁতে না পেরে খালি হাতেই ফিরেছেন রোনালদো। ফলে বিশ্ব ফুটবলের এক গৌরবময় অধ্যায়েরও যেন আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘটল।
বিষয়টা আগেই পরিষ্কার ছিল। এটাই হতে চলেছে তাদের শেষ বিশ্বকাপ। সে বিশ্বকাপ থেকে রিক্ত হাতেই বিদায় নিয়েছিলেন নেইমার। গত রাতে সে বিদায়ের পর তিনি অবসরের ঘোষণাও দিয়ে দিয়েছেন।
পালা ছিল ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর, যিনি আগেই ঘোষণা দিয়ে রেখেছেন এটাই হতে চলেছে তার শেষ বিশ্বকাপ। ৪১ বছর বয়সে বিশ্বকাপ খেলতে এলে সেটা আর না বলে দিলেও হতো। শেষ বেলাতে এসেও বিশ্বকাপে রঙ ছড়াতে পারেননি তিনি। খালি হাতেই বিদায় নিয়েছেন।
গত রাতে নরওয়ের বিপক্ষে হেরে বিদায় নিয়েছে ব্রাজিল। এই ম্যাচের পরই বড় এক ঘোষণা দেন নেইমার। তিনি জানিয়ে দেন, জাতীয় দলের হয়ে তার পথচলা এখানেই শেষ। ম্যাচ শেষে নেইমার বলেন, ‘আমি চেষ্টা করেছি। আমি চেষ্টা করেছি। মেট লাইফ স্টেডিয়ামে শুরু হয়েছিল, এখানেই শেষ হলো। এখন সব শেষ।’
এদিকে স্পেনের বিপক্ষে হেরে বিদায় নিয়েছে রোনালদোর পর্তুগাল। ম্যাচের একেবারে শেষ মুহূর্তে মিকেল মেরিনোর গোলে হারতে হয় পর্তুগালকে। এর আগে ম্যাচে দুর্দান্ত এক বাইসাইকেল কিক করেছিলেন রোনালদো। তবে স্পেনের গোলরক্ষক উনাই সিমন সেই শট দারুণভাবে ঠেকিয়ে দেন।
দুই দশক ধরে বিশ্ব ফুটবলে রাজত্ব করেছেন এই দুই তারকা। মেসির সঙ্গে নেইমার আর রোনালদো, এই তিন নাম নিয়েই চলেছে বিশ্ব ফুটবলের গল্প। এবার সেই গল্পের একটা বড় অধ্যায় শেষ হয়ে গেল।
তারা বিদায় নিলেন। তাদের জায়গা নিলেন নতুন তারকারা। লামিন ইয়ামাল, হালান্ডের মতো তরুণ তারকারা এখন নজর কাড়ছেন।
বিশ্বকাপের বাকি পথটা এবার নতুন মুখদের নিয়েই এগোবে। নেইমার আর রোনালদো ছাড়া এই বিশ্বকাপ দর্শকদের কাছে কেমন লাগবে, সেটাই এখন দেখার বিষয়।