বিশ্বকাপের নাটকীয় জয়ের পর মাঠে আবেগে ভাসেন লিওনেল মেসি। তবে শুধু পারফরম্যান্স নয়, ম্যাচ শেষে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন এক সাংবাদিককে সময় দিয়ে আবারও মানবিকতার দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক। মাঠের সাফল্যের পাশাপাশি তার এই মানবিক দৃষ্টান্ত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছে।
মিশরের বিপক্ষে ৩-২ গোলের রুদ্ধশ্বাস জয়ের পর মিক্সড জোনে হুইলচেয়ারে থাকা ভেনেজুয়েলার সাংবাদিক মানু গুতিয়েরেস সাক্ষাৎকার নেওয়ার অপেক্ষায় ছিলেন। অন্য অনেক ফুটবলার দ্রুত স্থান ত্যাগ করলেও মেসি থেমে যান এবং ধৈর্যসহকারে তার সব প্রশ্নের উত্তর দেন। উপস্থিত সাংবাদিকদের পাশাপাশি ভক্তদের কাছেও মুহূর্তটি বিশেষভাবে প্রশংসিত হয়।
সাক্ষাৎকারে নতুন রেকর্ড গড়ার বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে মেসি বলেন, আমি আসলে এসব রেকর্ডের হিসাব রাখিনি। ম্যাচ খেলতে খেলতেই এগুলো হয়েছে। ঈশ্বরের কৃপায় দল এগিয়ে যাচ্ছে এবং লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে। এই জয়ে আমরা খুবই আনন্দিত।
ম্যাচে আর্জেন্টিনার দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তনের ব্যাখ্যাও দেন তিনি। মেসির ভাষ্য, মাঝমাঠে খেলা খুব কঠিন ছিল। লাউতারো মার্তিনেজ মাঠে নামার পর মাঝখানে ভিড় বেড়ে যায়। তখন আমি ডান পাশে কিছুটা ফাঁকা জায়গা খুঁজে পাই। সেখান থেকেই আমরা একটি গোল ফিরিয়ে দিতে সক্ষম হই।
ম্যাচ শেষে কান্নায় ভেঙে পড়ার কারণও জানান আর্জেন্টাইন অধিনায়ক। তিনি বলেন, আমরা যখন ২-০ গোলে পিছিয়ে ছিলাম, তখন পরিস্থিতি খুব কঠিন হয়ে গিয়েছিল। জানতাম, ফিরে আসা সহজ হবে না। শেষ বাঁশির পর কান্নাটা ছিল সব চাপ থেকে মুক্তির অনুভূতি। আমরা বাড়ি ফিরতে চাইনি। আমরা বিশ্বাস করতাম, এই টুর্নামেন্টে আরও অনেক দূর যাওয়ার সামর্থ্য আমাদের আছে।
মাঠে নেতৃত্ব আর দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের পাশাপাশি মাঠের বাইরেও বিনয়ী ও মানবিক আচরণের মাধ্যমে আবারও কোটি ভক্তের হৃদয় জয় করলেন লিওনেল মেসি। বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন সাংবাদিককে সময় দেওয়ার এই ঘটনা বিশ্বজুড়ে প্রশংসার নতুন উপলক্ষ হয়ে উঠেছে।