বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা নিশ্চিত করার পর নতুন এক আলোচনায় এসেছে আর্জেন্টিনা। মিসরের বিপক্ষে ৩-২ গোলের রোমাঞ্চকর জয় পেলেও ফিফার লাইভ র্যাঙ্কিংয়ে শীর্ষস্থান ধরে রাখতে পারেনি লিওনেল স্কালোনির দল। সর্বশেষ হালনাগাদ র্যাঙ্কিংয়ে এক নম্বর থেকে দ্বিতীয় স্থানে নেমে গেছে আলবিসেলেস্তেরা।
এই পরিবর্তনের পর আবারও আলোচনায় এসেছে বিশ্বকাপের বহুল আলোচিত ‘ফিফা র্যাঙ্কিং অভিশাপ’। ১৯৯২ সালে ফিফা বিশ্ব র্যাঙ্কিং চালুর পর থেকে বিশ্বকাপ শুরুর সময় শীর্ষ র্যাঙ্কিংয়ে থাকা কোনো দলই শেষ পর্যন্ত শিরোপা জিততে পারেনি। সেই কারণেই অনেক আর্জেন্টিনা সমর্থক মনে করছেন, এক নম্বর স্থান হারানো তাদের জন্য অশুভ নয়, বরং ইতিবাচক ইঙ্গিত হতে পারে।
শেষ ষোলোতে মিসরকে হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে উঠলেও রেটিং পয়েন্টে আর্জেন্টিনাকে ছাড়িয়ে গেছে ফ্রান্স। প্যারাগুয়েকে ১-০ গোলে হারিয়ে ফরাসিরা ১৯২৫.৮৬ পয়েন্ট নিয়ে আবার শীর্ষস্থান দখল করেছে। অন্যদিকে আর্জেন্টিনার বর্তমান রেটিং পয়েন্ট ১৯২৫.১৫।
দুই দলের মধ্যে পয়েন্টের ব্যবধান খুবই কম। বিশ্বকাপ চলাকালে প্রতিটি ম্যাচের ফল অনুযায়ী ফিফার লাইভ রেটিং নিয়মিত পরিবর্তিত হওয়ায় সামনের ম্যাচগুলোতে আবারও র্যাঙ্কিংয়ে পরিবর্তন আসতে পারে।
কোয়ার্টার ফাইনালে আর্জেন্টিনার প্রতিপক্ষ সুইজারল্যান্ড। অন্যদিকে ফ্রান্স খেলবে মরক্কোর বিপক্ষে। দুই দলই এখনও শিরোপার লড়াইয়ে থাকায় র্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষস্থান নিয়েও প্রতিযোগিতা অব্যাহত থাকবে।
বিশ্বকাপ শুরুর আগে প্রস্তুতি ম্যাচে হন্ডুরাস ও আইসল্যান্ডকে হারিয়ে শীর্ষে উঠেছিল আর্জেন্টিনা। একই সময়ে ফ্রান্স আইভরি কোস্টের কাছে ২-১ গোলে হারে এবং স্পেন ইরাকের সঙ্গে ১-১ গোলে ড্র করায় দুই দলই মূল্যবান রেটিং পয়েন্ট হারায়। সেই সুযোগ কাজে লাগিয়েই এক নম্বরে উঠে এসেছিল আলবিসেলেস্তেরা।
তবে নকআউট পর্বে এসে পরিস্থিতি বদলে গেছে। প্যারাগুয়ের বিপক্ষে জয় তুলে নিয়ে ফ্রান্স আবারও শীর্ষস্থান ফিরে পেয়েছে, আর দ্বিতীয় স্থানে নেমে গেছে আর্জেন্টিনা।
বিশ্বকাপের ইতিহাসে এই কথিত ‘র্যাঙ্কিং অভিশাপ’-এর বেশ কয়েকটি উদাহরণ রয়েছে। ১৯৯৪ সালে শীর্ষ র্যাঙ্কিংয়ে থাকা জার্মানি কোয়ার্টার ফাইনাল থেকেই বিদায় নেয়। ১৯৯৮ সালে এক নম্বরে থাকা ব্রাজিল ফাইনালে ফ্রান্সের কাছে হেরে শিরোপা হারায়। আর ২০০২ সালে শীর্ষ র্যাঙ্কিংয়ে থাকা ফ্রান্স গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নেয়, সে বছর চ্যাম্পিয়ন হয় ব্রাজিল।
এই পরিসংখ্যানের কারণেই অনেক আর্জেন্টিনা সমর্থক বিশ্বাস করছেন, শীর্ষস্থান হারানো হয়তো তাদের জন্য সৌভাগ্যের বার্তা। এখন দেখার বিষয়, কথিত ‘র্যাঙ্কিং অভিশাপ’ থেকে মুক্তির এই ঘটনা শেষ পর্যন্ত আর্জেন্টিনাকে বিশ্বকাপ ট্রফির আরও কাছে নিয়ে যেতে পারে কি না।