রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ৭৩তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উৎসবমুখর পরিবেশে নানা আয়োজনে উদযাপিত হয়েছে। ‘শিক্ষা-গবেষণা ও গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রায় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা, আলোচনা সভা, বৃক্ষরোপণ, খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে দিনটি উদযাপন করেন শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও সাবেক শিক্ষার্থীরা। আনন্দ-উচ্ছ্বাস ও মিলনমেলায় মুখর হয়ে ওঠে দেশের অন্যতম প্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী এই উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান।
সোমবার (৬ জুলাই) সকাল ১০টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের জোহা চত্বরসংলগ্ন প্রশাসনিক ভবন প্রাঙ্গণে শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মাধ্যমে জাতীয় পতাকা উত্তোলনের পর ভূমিমন্ত্রী ও রাজশাহী-২ আসনের সংসদ সদস্য মিজানুর রহমান মিনু প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর উদ্বোধন করেন। এ সময় বেলুন ও পায়রা উড়িয়ে উৎসবের আনুষ্ঠানিকতা শুরু করা হয়।
পরে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের করা হয় এবং সিনেট ভবন চত্বরে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। এরপর সিনেট ভবনে আলোচনা সভায় ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য প্রফেসর মো. রফিকুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস, বিভিন্ন গণতান্ত্রিক আন্দোলনে রাবির ভূমিকা এবং শিক্ষা-গবেষণায় অর্জন তুলে ধরে প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে ভূমিমন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনু বলেন, ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের অবদান অনস্বীকার্য। দেশের পাশাপাশি বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে এ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছেন। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের অবকাঠামোগত উন্নয়নে সরকারের সহযোগিতার আশ্বাস দেন এবং নিজের বাবা ফয়েজ রহমানের নামে বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়নের জন্য এক সপ্তাহের মধ্যে ১০ লাখ টাকা অনুদান দেওয়ার ঘোষণা দেন।
তিনি আরও বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের ৭৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে আমন্ত্রণ জানানো হবে। পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্মস্থান বড়কুঠি আবারও রাবির কাছে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে উদ্যোগ নেওয়ার আশ্বাস দেন।
সভাপতির বক্তব্যে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. ফরিদুল ইসলাম বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতাদের অবদান এবং শহীদ ড. শামসুজ্জোহার আত্মত্যাগ সবসময় শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করা হবে। বিশ্ববিদ্যালয়কে আন্তর্জাতিক মানে এগিয়ে নিতে প্রশাসন পরিকল্পিতভাবে কাজ করছে। তিনি জানান, সরকারি নির্দেশনার কারণে জ্বালানি সাশ্রয়ের লক্ষ্যে এবার প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে আলোকসজ্জা করা হয়নি।
অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ও বর্তমান প্রশাসনের সদস্য, সংসদ সদস্য, রাজশাহী সিটি করপোরেশনের মেয়র, বিভিন্ন হলের প্রাধ্যক্ষ, শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং আমন্ত্রিত অতিথিরা উপস্থিত ছিলেন।
দিনব্যাপী আয়োজনের অংশ হিসেবে বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয় স্টেডিয়ামে খেলাধুলা এবং সন্ধ্যায় মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।