গ্রাম আদালতে বিরোধ নিষ্পত্তিতে স্থায়ী শান্তি

চট্টগ্রাম ব্যুরো

সারাদেশ

গ্রাম আদালত সক্রিয়করণ ও টেকসই করতে স্থানীয় প্রশাসনের ভূমিকা ও করণীয় বিষয়ে চট্টগ্রামে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। জেলা প্রশাসনের আয়োজনে

2026-07-04T21:05:17+00:00
2026-07-04T21:05:17+00:00
  শনিবার, ৪ জুলাই ২০২৬,
২০ আষাঢ় ১৪৩৩
 
শনিবার, ৪ জুলাই ২০২৬
সারাদেশ
গ্রাম আদালতে বিরোধ নিষ্পত্তিতে স্থায়ী শান্তি
চট্টগ্রাম ব্যুরো
শনিবার, ৪ জুলাই, ২০২৬, ৯:০৫ পিএম 
গ্রাম আদালতে বিরোধ নিষ্পত্তিতে স্থায়ী শান্তি
গ্রাম আদালত সক্রিয়করণ ও টেকসই করতে স্থানীয় প্রশাসনের ভূমিকা ও করণীয় বিষয়ে চট্টগ্রামে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। জেলা প্রশাসনের আয়োজনে এবং ‘বাংলাদেশে গ্রাম আদালত সক্রিয়করণ (তৃতীয় পর্যায়)’ প্রকল্পের সহযোগিতায় শনিবার (৪ জুলাই) সকাল ৯টায় চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসের সম্মেলন কক্ষে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন স্থানীয় সরকার বিভাগের অতিরিক্ত সচিব ও প্রকল্পের জাতীয় প্রকল্প পরিচালক সুরাইয়া আখতার জাহান। চট্টগ্রামের স্থানীয় সরকারের উপপরিচালক (উপসচিব) গোলাম মাঈনউদ্দিন হাসানের সঞ্চালনায় সভাপতিত্ব করেন চট্টগ্রাম বিভাগের বিভাগীয় কমিশনার ড. মো. জিয়াউদ্দীন। স্বাগত বক্তব্য দেন চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে সুরাইয়া আখতার জাহান বলেন, গ্রাম আদালতের মূল উদ্দেশ্য হলো পারিবারিক ও স্থানীয় পর্যায়ের বিরোধ দ্রুত, সহজে এবং স্বল্প ব্যয়ে নিষ্পত্তির মাধ্যমে সামাজিক সম্প্রীতি বজায় রাখা। ভাইয়ে-ভাইয়ে কিংবা প্রতিবেশীদের মধ্যে সৃষ্ট বিরোধ গ্রাম আদালতের মাধ্যমে নিষ্পত্তি হলে পারস্পরিক বিরোধ ও ক্ষোভ কমে এবং সমাজে স্থায়ী শান্তি-শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠিত হয়।

তিনি বলেন, গ্রাম আদালতকে আরও কার্যকর ও টেকসই করতে ‘এক্সিট প্ল্যান’-এর আওতায় আন্তঃমন্ত্রণালয় সমন্বয়ের মাধ্যমে ব্যাপক প্রচার-প্রচারণার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানদের প্রতি জনগণের আস্থা বৃদ্ধির অন্যতম মাধ্যম হতে পারে গ্রাম আদালত। তাই চেয়ারম্যানদের আরও দায়িত্বশীল ও সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে হবে।

তিনি জানান, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তারা (ইউএনও) নিয়মিত গ্রাম আদালতের শুনানি কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করবেন। পাশাপাশি মাঠপর্যায়ে আদালতের কার্যক্রম তদারকিতে বিট পুলিশ সহায়ক ভূমিকা পালন করবে। গ্রাম আদালতকে আরও প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে পৃথক বাজেট কোড প্রণয়নের পরিকল্পনাও রয়েছে। এছাড়া সরকারি কর্মমূল্যায়নেও গ্রাম আদালতের কার্যক্রমকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

স্থানীয় সরকার নির্বাচন শেষে নবনির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের জন্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের উদ্যোগে গ্রাম আদালত বিষয়ে বিশেষ প্রশিক্ষণের আয়োজন করা হবে বলেও জানান তিনি। একই সঙ্গে বিচার প্রক্রিয়ায় নারী, সংখ্যালঘু ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

সভাপতির বক্তব্যে বিভাগীয় কমিশনার ড. মো. জিয়াউদ্দীন বলেন, গ্রাম আদালত সম্পর্কে সাধারণ মানুষের ধারণা এখনো স্পষ্ট নয়। তাই প্রতিটি ইউনিয়ন পরিষদে প্রয়োজনীয় অবকাঠামো ও উপযুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করে এর কার্যক্রম আরও গতিশীল করতে হবে। তিনি বলেন, অতীতের গ্রাম পঞ্চায়েত ব্যবস্থার ইতিবাচক দিকগুলো কাজে লাগিয়ে গ্রামীণ শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষায় গ্রাম আদালত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। উচ্চ আদালতের মামলার চাপ কমাতেও সরকার এ ব্যবস্থাকে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে।

তিনি বিচারকার্য পরিচালনাকারীদের জন্য নির্দিষ্ট পোশাক বা পরিচিতির ব্যবস্থা এবং উচ্চ আদালতে যাওয়ার আগে ইউএনও কার্যালয়ে একটি ‘চেকলিস্ট’ রাখার বিষয়টি বিবেচনার সুপারিশ করেন।

স্বাগত বক্তব্যে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা বলেন, সরকার দীর্ঘদিন ধরে গ্রাম আদালত কার্যক্রমকে শক্তিশালী করতে কাজ করছে। সময়ের সঙ্গে গ্রামীণ সমাজ ও প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোয় পরিবর্তন এলেও প্রান্তিক মানুষের সহজ, দ্রুত ও স্বল্প ব্যয়ে বিচারপ্রাপ্তি নিশ্চিত করতে গ্রাম আদালতের গুরুত্ব কমেনি।

তিনি বলেন, সরকার গ্রাম আদালতকে স্থানীয় পর্যায়ে সুশাসন ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার গুরুত্বপূর্ণ মাপকাঠি হিসেবে বিবেচনা করছে। তাই জেলা ও উপজেলা প্রশাসনকে আরও আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করতে হবে, যাতে সাধারণ মানুষ ছোটখাটো বিরোধ নিয়ে দূরের আদালতে যেতে বাধ্য না হয় এবং ইউনিয়ন পর্যায়ে গ্রাম আদালতের প্রতি মানুষের আস্থা তৈরি হয়।

তিনি আরও বলেন, উন্নত দেশের সঙ্গে আমাদের বড় পার্থক্য হলো সেখানে প্রতিষ্ঠান শক্তিশালী, আর আমাদের সমাজে অনেক ক্ষেত্রে ব্যক্তি বেশি শক্তিশালী হয়ে ওঠে। একটি ন্যায়ভিত্তিক ও টেকসই রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ে তুলতে হলে ব্যক্তিনির্ভরতা কমিয়ে প্রতিষ্ঠানগুলোকে শক্তিশালী করতে হবে। গ্রাম আদালত সেই প্রাতিষ্ঠানিক শক্তি গড়ে তোলার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

সভায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন স্থানীয় সরকারের উপপরিচালক (উপসচিব) গোলাম মাঈনউদ্দিন হাসান। উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সরকার বিভাগের পরিচালক মনোয়ারা বেগম, যুগ্ম সচিব রোঁকসানা খান, উপসচিব (আইন-১) ড. শাহেদ মোস্তফা, জেলা লিগ্যাল এইড অফিসার ও সিনিয়র সহকারী জজ সুব্রত দাশ, সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপপরিচালক মোহাম্মদ ওমর ফারুক, যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের উপপরিচালক মোহাম্মদ আবুল বাসার, চট্টগ্রামের বিভিন্ন উপজেলার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তারা, বাংলাদেশ বেতারের আঞ্চলিক পরিচালক শাহীন আকতার, গ্রাম আদালত প্রকল্পের বাস্তবায়ন সহযোগী সংস্থা ইপসার পরিচালক (সামাজিক উন্নয়ন) নাছিম বানুসহ বিভিন্ন সরকারি কর্মকর্তা, ধর্মীয় প্রতিনিধি, যুব প্রতিনিধি এবং প্রকল্প-সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।


Loading...
Loading...

সারাদেশ- এর আরো খবর

Loading...
Loading...
© 2026 Daily Daily Bhorer Dak
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে.এম. বেলায়েত হোসেন
৪-ডি, মেহেরবা প্লাজা, ৩৩ তোপখানা রোড, ঢাকা-১০০০ থেকে প্রকাশিত এবং মনিরামপুর প্রিন্টিং প্রেস ৭৬/এ নয়াপল্টন, ঢাকা থেকে মুদ্রিত। পিএবিএক্স: ৪১০৫২২৪৫, ৪১০৫২২৪৬, ০১৭৭৫-৩৭১১৬৭, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন: ৪১০৫২২৫৮
ই-মেইল : [email protected], [email protected]
ফলো করুন: