দেশের শুকিয়ে যাওয়া ও মৃতপ্রায় খাল পুনঃখননের মাধ্যমে কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি এবং সেচব্যবস্থা আরও কার্যকর হবে বলে জানিয়েছেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের পরিচালক (ত্রাণ) ও যুগ্ম সচিব রাসেল সাবরিন।
শনিবার (৪ জুলাই) বিকেলে ঝালকাঠির রাজাপুর উপজেলার ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা প্রকল্পের আওতায় বাস্তবায়নাধীন চার কিলোমিটার খাল পুনঃখনন প্রকল্প পরিদর্শনকালে তিনি এ কথা বলেন।
পরিদর্শনের সময় তিনি উপজেলার বড়ইয়া ইউনিয়নের ভাতকাঠী-আধাখোলা এবং রাজাপুর সদর ইউনিয়নের ছোট কৈবর্তখালীর ফকিরহাট থেকে বড় কৈবর্তখালী পর্যন্ত পুনঃখননকৃত খালের কাজ ঘুরে দেখেন। এ সময় প্রকল্পের অগ্রগতি, কাজের গুণগত মান এবং স্থানীয় কৃষকদের সম্ভাব্য সুফল সম্পর্কে খোঁজখবর নেন।
প্রকল্প সূত্রে জানা গেছে, চার কিলোমিটার খাল পুনঃখননে ব্যয় হচ্ছে এক কোটি তিন লাখ টাকার বেশি।
রাসেল সাবরিন বলেন, সরকার দেশের মৃতপ্রায় খালগুলো পুনরুজ্জীবিত করতে কাজ করছে। এতে কৃষকরা সেচের জন্য পর্যাপ্ত পানি পাবেন, কৃষি উৎপাদন বাড়বে এবং স্থানীয় পরিবেশেরও ইতিবাচক পরিবর্তন ঘটবে।
তিনি জানান, প্রকল্পের আওতায় খালের দুই তীরে গাছের চারা রোপণ করা হবে। এসব গাছের পরিচর্যায় স্থানীয় জনগণের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, সরকার আগামী পাঁচ বছরে ২৫ কোটি গাছের চারা রোপণের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে।
বরিশাল বিভাগের বিভিন্ন জেলার প্রকল্প পরিদর্শনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে যুগ্ম সচিব বলেন, কোথাও কোথাও বৃক্ষরোপণের কাজ শুরু না হলেও অধিকাংশ প্রকল্পের কাজ সন্তোষজনক। তবে কোনো ধরনের অনিয়ম বা দুর্নীতির অভিযোগ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও সতর্ক করেন তিনি।
পরিদর্শনকালে উপস্থিত ছিলেন রাজাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রিফাত আরা মৌরি, সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. শামীম রেজা সজীব, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. শফিউল বশার, উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক জাকির মোল্লা, বড়ইয়া ইউনিয়নের প্যানেল চেয়ারম্যান মাকসুদা আক্তার, রাজাপুর সদর ইউনিয়নের প্যানেল চেয়ারম্যান আল আমিন, ইউপি সদস্য দেলোয়ার হোসেন, বাদশা বেপারীসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।