হরমুজে কঠোর অবস্থানে ইরান, পথ না মানলে জবাবের হুঁশিয়ারি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক

হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী সব তেলবাহী জাহাজের জন্য নতুন সতর্কবার্তা জারি করেছে ইরানের যৌথ সামরিক কমান্ড। বৃহস্পতিবার প্রকাশিত এক ঘোষণায়

2026-07-03T09:14:10+00:00
2026-07-03T09:14:10+00:00
  শুক্রবার, ৩ জুলাই ২০২৬,
১৯ আষাঢ় ১৪৩৩
 
শুক্রবার, ৩ জুলাই ২০২৬
আন্তর্জাতিক
হরমুজে কঠোর অবস্থানে ইরান, পথ না মানলে জবাবের হুঁশিয়ারি
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
শুক্রবার, ৩ জুলাই, ২০২৬, ৯:১৪ এএম 
সংগৃহীত ছবি
হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী সব তেলবাহী জাহাজের জন্য নতুন সতর্কবার্তা জারি করেছে ইরানের যৌথ সামরিক কমান্ড। বৃহস্পতিবার প্রকাশিত এক ঘোষণায় বলা হয়েছে, সব জাহাজকে ইরানের নির্ধারিত ও অনুমোদিত নৌপথ ব্যবহার করতে হবে। এই নির্দেশ অমান্য করলে সংশ্লিষ্ট জাহাজকে ‘কঠোর সামরিক জবাবের’ মুখোমুখি হতে হবে।

বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন পথ হিসেবে পরিচিত হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে এই ঘোষণার পর আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বৈশ্বিক তেল পরিবহনের একটি বড় অংশ এই জলপথ দিয়ে সম্পন্ন হয়। ফলে ইরানের নতুন অবস্থান আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজার ও সামুদ্রিক নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা বাড়িয়েছে।

ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের খবরে বলা হয়েছে, দেশটির খাতাম আল-আম্বিয়া যৌথ সামরিক কমান্ড এই সতর্কবার্তা দিয়েছে। এর এক দিন আগে বুধবার কাতারে মধ্যস্থতাকারীদের উপস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের কূটনীতিকদের মধ্যে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বর্তমানে যুদ্ধ-পরবর্তী পরিস্থিতি এবং হরমুজ প্রণালির ভবিষ্যৎ ব্যবস্থাপনা নিয়ে আলোচনা চলছে।

এদিকে ইরান সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির জানাজার প্রস্তুতিও নিচ্ছে। বৃহস্পতিবার রাতে দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে একটি কফিনের ছবি প্রচার করা হয়। সেখানে দাবি করা হয়, কফিনটিতে খামেনির মরদেহ রাখা হয়েছে এবং বিদায় অনুষ্ঠানের জন্য সেটি ইমাম খোমেনি হুসাইনিয়ায় নেওয়া হয়েছে। প্রচারিত ভিডিওতে সবুজ কাপড়ে মোড়ানো কফিনের পাশে শত শত মানুষকে দোয়া ও শোক প্রকাশ করতে দেখা যায়। শনিবার থেকে সপ্তাহব্যাপী সরকারি জানাজা ও শোক কর্মসূচি শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।

তেলবাহী জাহাজ নিয়ে এই সময়ে নতুন সতর্কবার্তা দেওয়ার কারণ আনুষ্ঠানিকভাবে ব্যাখ্যা করেনি তেহরান। তবে এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় সামরিক কমান্ড বাহরাইনে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করে। বৈঠক শেষে তারা জানায়, হরমুজ প্রণালি দিয়ে বাণিজ্যিক নৌচলাচল অবাধ রাখার বিষয়ে অংশগ্রহণকারী দেশগুলো তাদের যৌথ অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে। বিশ্লেষকদের ধারণা, এই বক্তব্যেই অসন্তুষ্ট হয়েছে ইরান।

ইরানের সামরিক কমান্ডের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, হরমুজ প্রণালিতে নির্ধারিত নিয়ম না মানা, অনুমোদিত পথ থেকে সরে যাওয়া অথবা ইরানের নৌচলাচল সংক্রান্ত নির্দেশনা অমান্য করলে সশস্ত্র বাহিনী তাৎক্ষণিক কঠোর ব্যবস্থা নেবে। এতে নিয়ম ভঙ্গকারী জাহাজগুলোর নিরাপত্তা ঝুঁকির মুখে পড়বে বলেও সতর্ক করা হয়েছে। একই সঙ্গে জানানো হয়েছে, হরমুজ প্রণালিতে যুক্তরাষ্ট্রের বাহিনী কোনো ধরনের হস্তক্ষেপ করলে তারও দ্রুত ও কঠোর জবাব দেওয়া হবে।

এর আগে একটি অন্তর্বর্তী চুক্তির আওতায় ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র ৬০ দিনের জন্য কোনো ধরনের ফি ছাড়া জাহাজ চলাচলের অনুমতি দিতে সম্মত হয়েছিল। তবে ইরান স্পষ্ট জানিয়ে দেয়, কোন পথে জাহাজ চলবে সেই নিয়ন্ত্রণ তাদের হাতেই থাকবে। পাশাপাশি ভবিষ্যতে ওই পথ ব্যবহারকারী জাহাজ থেকে ফি আদায়ের পরিকল্পনার কথাও জানায় তেহরান। এতে দীর্ঘদিনের প্রচলিত নৌচলাচল ব্যবস্থায় পরিবর্তন আসে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও উপসাগরীয় অঞ্চলের কয়েকটি আরব দেশ ইরানের ফি আদায়ের পরিকল্পনা প্রত্যাখ্যান করেছে। একই সময়ে ওমান এবং জাতিসংঘের একটি সংস্থা ওমান উপকূলের কাছে বিকল্প নৌপথ চালুর উদ্যোগ নিয়েছে। এর জেরে গত সপ্তাহের শেষ দিকে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন এলাকায় হামলার ঘটনা ঘটে, যা অঞ্চলজুড়ে উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে দেয়।

উত্তেজনার মধ্যেও হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল আবারও বাড়তে শুরু করেছে। সামুদ্রিক তথ্য বিশ্লেষণ প্রতিষ্ঠান লয়েডস লিস্ট ইন্টেলিজেন্সের তথ্য অনুযায়ী, গত সপ্তাহে এই জলপথ দিয়ে অন্তত ২৫৮টি জাহাজ চলাচল করেছে। একই সময়ে ইরান দুটি বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা চালায়। এর আগের সপ্তাহে এই সংখ্যা ছিল ১৩৮টি।

প্রতিষ্ঠানটির প্রধান সম্পাদক রিচার্ড মিড বৃহস্পতিবার এক অনলাইন আলোচনায় বলেন, ২৫ ও ২৭ জুন ইরানের হামলার ঘটনাগুলো যেন অনেকেই ভুলে গেছেন। তার মতে, হামলার পর জাহাজ চলাচল কিছুটা বাড়লেও পরিস্থিতি এখনো পুরোপুরি স্বাভাবিক নয়। যুদ্ধ শুরুর আগে প্রতিদিন প্রায় ১৩০টি জাহাজ হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচল করলেও বর্তমানে সেই তুলনায় সংখ্যা কম। জাহাজ পরিচালনাকারীদের এখন দুটি পথের মধ্যে একটি বেছে নিতে হচ্ছে—হয় ইরানের নির্ধারিত শর্ত মেনে চলতে হবে, নয়তো ওমানের দিকের বিকল্প পথ ব্যবহার করতে হবে, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের বাহিনী নজরদারি করছে।

রিচার্ড মিড আরও বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে কোনো কিছুই স্থিতিশীল নয়। প্রতি ঘণ্টায় নিরাপত্তা পরিস্থিতি ও রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত বিবেচনা করে জাহাজের রুট পরিবর্তন করতে হচ্ছে। এটিকে নতুন স্বাভাবিক অবস্থা বলা যায় না।

এর আগে সপ্তাহের শুরুতে ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন জানায়, রেভল্যুশনারি গার্ডের নির্দেশ অমান্য করায় একটি বিদেশি জাহাজ হরমুজ প্রণালিতে আটকে দেওয়া হয়েছে। তবে জাহাজটির অবস্থান, আকার ও অন্যান্য তথ্য বিশ্লেষণ করে ধারণা করা হচ্ছে, সেটি ইরানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট এবং কয়েক মাস ধরেই সেখানে অবস্থান করছিল।

উত্তেজনার মধ্যেও কূটনৈতিক আলোচনা অব্যাহত রয়েছে। বুধবারের বৈঠকে ‘ইতিবাচক অগ্রগতি’ হয়েছে বলে জানিয়েছেন পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র তাহির আন্দ্রাবি। তিনি বলেন, আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির জানাজা সম্পন্ন হওয়ার পর যত দ্রুত সম্ভব পরবর্তী দফার বৈঠকের তারিখ নির্ধারণ করা হবে বলে পাকিস্তান আশা করছে। 


  বিষয়:   হরমুজ প্রণালি  ইরান  হুঁশিয়ারি 


Loading...
Loading...

আন্তর্জাতিক- এর আরো খবর

Loading...
Loading...
© 2026 Daily Daily Bhorer Dak
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে.এম. বেলায়েত হোসেন
৪-ডি, মেহেরবা প্লাজা, ৩৩ তোপখানা রোড, ঢাকা-১০০০ থেকে প্রকাশিত এবং মনিরামপুর প্রিন্টিং প্রেস ৭৬/এ নয়াপল্টন, ঢাকা থেকে মুদ্রিত। পিএবিএক্স: ৪১০৫২২৪৫, ৪১০৫২২৪৬, ০১৭৭৫-৩৭১১৬৭, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন: ৪১০৫২২৫৮
ই-মেইল : [email protected], [email protected]
ফলো করুন: