প্যানেলে প্যানেলে প্রতিদ্বন্দ্বিতা, নতুন উত্তেজনা আর উৎসবের আবহ—বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির নির্বাচন মানেই এমন চিরচেনা দৃশ্য। তবে ২০২৬–২০২৮ মেয়াদের এবারের নির্বাচন ভিন্ন এক আবেগঘন মাত্রা যোগ করেছে ঢালিউড অঙ্গনে। কিংবদন্তি অভিনেত্রী আনোয়ারার জীবনের শেষ ইচ্ছা—তার কন্যা চিত্রনায়িকা রুমানা ইসলাম মুক্তি যেন শিল্পী সমিতির সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়ে শিল্পীদের পাশে থেকে কাজ করতে পারেন।
মায়ের এই স্বপ্ন পূরণের লক্ষ্য নিয়েই এবার নির্বাচনী মাঠে সক্রিয় হয়েছেন মুক্তি। নব্বই দশকের জনপ্রিয় চলচ্চিত্র ‘চাঁদের আলো’ ও ‘শ্রাবণ মেঘের দিন’-এর নায়িকা রুমানা ইসলাম মুক্তি দীর্ঘদিন পর্দা থেকে দূরে থাকলেও শিল্পীদের সুখ-দুঃখে সবসময় পাশে ছিলেন। বর্তমানে তিনি শিল্পী সমিতির কার্যনির্বাহী পরিষদের সদস্য হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন। এবারের নির্বাচনে তিনি ‘আরমান–মুক্তি’ পরিষদ থেকে সাধারণ সম্পাদক পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
নির্বাচনী প্রচারণার অংশ হিসেবে গত বুধবার রাতে প্যানেল পরিচিতি অনুষ্ঠানে এক আবেগঘন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। অনুষ্ঠানের এক পর্যায়ে কিংবদন্তি অভিনেত্রী আনোয়ারা মঞ্চে উঠলে পুরো পরিবেশ নীরব হয়ে যায়। মেয়ের জন্য ভোট চাইতে গিয়ে তিনি নিজের আবেগ ধরে রাখতে পারেননি। স্মৃতির ভারে কণ্ঠ ভারী হয়ে আসায় প্রকাশ্যেই কেঁদে ফেলেন এই প্রবীণ অভিনেত্রী।
তিনি বলেন, ‘আমার মেয়ে আপনাদেরই সহকর্মী, আপনাদের পরিবারের সদস্য। ও আমার স্বপ্নপূরণ করতে এখানে এসেছে। আপনারা ওকে ফিরিয়ে দেবেন না।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমার অস্তিত্ব আমার মেয়ে। ও শিল্পীদের জন্য কাজ করতে চায়। আমার মেয়েকে ভোট দেওয়া মানে আমাকে ভোট দেওয়া। মুক্তির জয় মানে আমার জয়। তাই সবাই আরমান–মুক্তি প্যানেলের পাশে থাকবেন।’
জানা গেছে, মুক্তি নিজে থেকে এই নির্বাচনে আসতে আগ্রহী ছিলেন না; বরং তার মা আনোয়ারার দীর্ঘদিনের ইচ্ছা এবং সহকর্মীদের উৎসাহেই তিনি প্রার্থী হয়েছেন। চলচ্চিত্রের মানুষের কল্যাণে কাজ করার লক্ষ্যেই তার এই অংশগ্রহণ।
বয়স ও শারীরিক অসুস্থতার কারণে বর্তমানে নিয়মিত এফডিসিতে যেতে না পারলেও মেয়ের প্রচারণা দেখে আবেগাপ্লুত হন আনোয়ারা। চলচ্চিত্রের সহকর্মীদের কাছে মেয়ের জন্য ভোট ও দোয়া চাইতে গিয়ে তার কান্নায় উপস্থিত সবাইও আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন।
চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্টদের মতে, এবারের নির্বাচনে রাজনৈতিক বা প্যানেলগত উত্তেজনার পাশাপাশি আনোয়ারার এই মাতৃত্বের আবেগ ভোটারদের হৃদয়ে গভীরভাবে নাড়া দিয়েছে। এখন দেখার বিষয়, এই আবেগ ভোটের মাঠে মুক্তির পক্ষে কতটা প্রভাব ফেলে।