আগামীকাল বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) থেকে সারা দেশে একযোগে শুরু হচ্ছে ২০২৫ সালের উচ্চ মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এইচএসসি) ও সমমানের পরীক্ষা। দেশের ১১টি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে এবার মোট ১২ লাখ ৭০ হাজার ৫৮৩ জন পরীক্ষার্থী অংশ নেবেন।
এবারও পরীক্ষার্থীদের মধ্যে ছাত্রীর সংখ্যা ছাত্রদের তুলনায় ২৬ হাজারের বেশি। এ ছাড়া দেশের ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে ‘একক ও অভিন্ন’ প্রশ্নপত্রে এইচএসসি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে।
বুধবার (১ জুলাই) সচিবালয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে এসব তথ্য জানান মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব আবদুল খালেক। এ সময় শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন এবং প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা উপদেষ্টা ড. মাহ্দী আমিন উপস্থিত ছিলেন।
সচিব জানান, সারাদেশে মোট ২ হাজার ৬৯৭টি পরীক্ষা কেন্দ্রে ৯ হাজার ৪৩৯টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা পরীক্ষায় অংশ নেবেন। দেশের ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে এবার অভিন্ন প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে।
তিনি বলেন, ১১টি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে মোট পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ১২ লাখ ৭০ হাজার ৫৮৩ জন। এর মধ্যে ছাত্র ৬ লাখ ২১ হাজার ৯৬৯ জন এবং ছাত্রী ৬ লাখ ৪৮ হাজার ৬১৪ জন। অর্থাৎ, ছাত্রদের তুলনায় ২৬ হাজার ৬৪৫ জন বেশি ছাত্রী এবার পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছেন।
পরীক্ষা সুষ্ঠু, স্বচ্ছ ও নকলমুক্ত পরিবেশে সম্পন্ন করতে সব কেন্দ্রে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে বলে জানান সচিব। পাশাপাশি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে একটি কেন্দ্রীয় ‘সিসিটিভি ক্যামেরা মনিটরিং সেল’ চালু করা হয়েছে, যেখান থেকে দেশের যেকোনো কেন্দ্রের পরিস্থিতি সরাসরি পর্যবেক্ষণ করা যাবে।
তিনি আরও জানান, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে কেন্দ্রে দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তাদের ‘বডি অন ক্যামেরা’ থাকবে, যা অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা প্রতিরোধে সহায়ক হবে।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে পরীক্ষার্থী ১০ লাখ ৬৯ হাজার ৭১৪ জন, মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডে ৯২ হাজার ৯০৫ জন এবং কারিগরি শিক্ষা বোর্ডে ১ লাখ ৭ হাজার ৯৬৪ জন। শিক্ষা বোর্ডগুলোর মধ্যে ঢাকা বোর্ডে সবচেয়ে বেশি ৩ লাখ ৩৯৩ জন এবং বরিশাল বোর্ডে সবচেয়ে কম ৫৮ হাজার ৬৯৪ জন পরীক্ষার্থী রয়েছে।
মোট ৭৭টি বিষয়ে ২১ দিনে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। যেসব দিনে পরীক্ষা থাকবে না, সেদিন সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত শ্রেণি কার্যক্রম চলবে।
যানজট এড়াতে পরীক্ষার্থীদের সকাল ৮টা ৩০ মিনিটের মধ্যে কেন্দ্রের ভেতরে প্রবেশ করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে আরও জানানো হয়, প্রশ্নপত্রের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। কেউ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভুয়া প্রশ্ন ছড়ালে বা প্রশ্ন ফাঁসের চেষ্টা করলে সংশোধিত ‘পাবলিক পরীক্ষা আইন, ১৯৮০’ অনুযায়ী দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির মুখোমুখি হতে হবে।
এ ছাড়া পরীক্ষা কেন্দ্রগুলোকে সম্পূর্ণ রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত রাখা হয়েছে। কেন্দ্রে যেকোনো ধরনের অনিয়মের জন্য কেন্দ্র সচিব ব্যক্তিগতভাবে দায়ী থাকবেন।
শিক্ষার্থী বা সংশ্লিষ্ট কেউই পরীক্ষা কেন্দ্রে কোনো ধরনের ডিজিটাল ডিভাইস নিয়ে প্রবেশ করতে পারবেন না। শিক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, একটি স্বচ্ছ, সুষ্ঠু ও বৈষম্যহীন পরীক্ষা আয়োজনের জন্য সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে।