ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলায় মেলায় ঘুরতে গিয়ে নিখোঁজ হওয়ার তিন দিন পর কাশবন থেকে উদ্ধার হওয়া শিশু শাহাদাৎ বেপারী (৮) হত্যা মামলার প্রধান অভিযুক্তসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
মঙ্গলবার (৩০ জুন) দিবাগত রাত প্রায় ২টার দিকে মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগর এলাকা থেকে প্রধান অভিযুক্ত মো. ইয়াছিন (১৯)কে গ্রেপ্তার করে সদরপুর থানা পুলিশ। পরে ইয়াছিনের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মাদারীপুরের শিবচর উপজেলার দত্তপাড়া এলাকা থেকে তার দুই সহযোগী মো. মিন্টু মিয়া (৩০) ও নাজমুল হক মুন্সী (১৯)কে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তার তিনজনই মাদারীপুরের শিবচর উপজেলার দত্তপাড়া ইউনিয়নের খাড়াকান্দি গ্রামের বাসিন্দা।
পুলিশ জানায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ইয়াছিন শিশু শাহাদাৎকে গামছা দিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যার কথা স্বীকার করেছে। তবে কী কারণে শিশুটিকে হত্যা করা হয়েছে, সে বিষয়ে এখনো স্পষ্ট কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে।
এর আগে গত শুক্রবার (২৬ জুন) চন্দ্রপাড়া দরবারসংলগ্ন ট্রলারঘাটে আশুরা উপলক্ষে আয়োজিত মেলায় ঘুরতে গিয়ে নিখোঁজ হয় শাহাদাৎ। পরে পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজির পাশাপাশি মাইকিং করেও তার সন্ধান পাননি। একপর্যায়ে সদরপুর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন তারা।
নিখোঁজের তিন দিন পর সোমবার (২৯ জুন) দুপুরে অভিযুক্ত ইয়াছিন মোবাইল ফোনে শাহাদাতের বোনকে কাশবনে মরদেহ পড়ে থাকার তথ্য জানায়। খবর পেয়ে পুলিশ উপজেলার ঢেউখালী ইউনিয়নের মুন্সীরচর এলাকার একটি কাশবন থেকে শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করে। এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।
সদরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আব্দুল আল মামুন শাহ বলেন, এ ঘটনায় প্রধান অভিযুক্তসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে প্রধান অভিযুক্ত হত্যার কথা স্বীকার করেছে। তবে হত্যার প্রকৃত উদ্দেশ্য এবং এ ঘটনায় অন্য কেউ জড়িত রয়েছে কি না, তা গুরুত্বসহকারে তদন্ত করা হচ্ছে। গ্রেপ্তার তিনজনকে আদালতে হাজির করে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি রেকর্ডের আবেদন করা হয়েছে।