দীর্ঘ ৩৮ বছরের বর্ণাঢ্য শিক্ষকতা জীবনের ইতি টানলেন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) ইনস্টিটিউট অব এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্স অ্যান্ড ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্টের প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক অধ্যাপক ড. মো. আব্দুল বাতেন। প্রিয় শিক্ষককে স্মরণীয় বিদায় জানাতে শিক্ষার্থীরা লাল গালিচা বিছিয়ে ঘোড়ার গাড়িতে শোভাযাত্রার মাধ্যমে তাকে বাসভবনে পৌঁছে দেন।
বুধবার (১ জুলাই) অধ্যাপক ড. মো. আব্দুল বাতেন বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
জানা গেছে, ১৯৮৮ সালে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক হিসেবে যোগদান করেন অধ্যাপক বাতেন। দীর্ঘ শিক্ষকতা জীবনের শেষে মঙ্গলবার (৩০ জুন) তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে অবসর গ্রহণ করেন। ২০২৫ সালে প্রতিষ্ঠিত ইনস্টিটিউট অব এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্স অ্যান্ড ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট প্রতিষ্ঠায় তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন এবং প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। এর আগে প্রতিষ্ঠানটি কৃষি অনুষদের অধীনে পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগ হিসেবে পরিচালিত হতো। এছাড়া তিনি বিএনপিপন্থী শিক্ষকদের সংগঠন ‘সোনালী দল’-এর সাবেক সাধারণ সম্পাদক ছিলেন।
শেষ কর্মদিবসে শিক্ষার্থীদের ভালোবাসা ও ব্যতিক্রমী আয়োজনে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন অধ্যাপক বাতেন।
তিনি বলেন, মঙ্গলবার বিকেলে কৃষি অনুষদ প্রাঙ্গণে বিদায় অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এই অনুভূতি ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়। শিক্ষার্থীরা আমাকে এতটা ভালোবাসে, তা কখনো ভাবিনি। তারা আমার চেম্বারের সামনে লাল গালিচা বিছিয়ে দেয় এবং ঘোড়ার গাড়িতে করে আমাকে বিদায় জানায়।
তিনি আরও বলেন, শিক্ষার্থীরা ঢোল-বাদ্য বাজিয়ে আনন্দ-উৎসবের মধ্য দিয়ে বিদায় দিতে চেয়েছিল। তবে ক্যাম্পাসে চলমান ক্লাসের কথা বিবেচনা করে আমি তাদের শব্দ করতে নিষেধ করি। পরে তারা অত্যন্ত সুশৃঙ্খলভাবে আমাকে ঘোড়ার গাড়িতে করে বাসভবনে পৌঁছে দেয়। এ সময় আমার স্ত্রী, যিনি বাকৃবিরই একজন প্রাক্তন শিক্ষার্থী, বাসার বারান্দা থেকে পুরো দৃশ্যটি উপভোগ করেন।
অধ্যাপক বাতেন জানান, এর আগে দুপুর ২টায় নিজ প্রতিষ্ঠানে আনুষ্ঠানিকভাবে নতুন পরিচালক অধ্যাপক ড. রেহানা খাতুনের কাছে দায়িত্ব হস্তান্তর করেন তিনি। এ সময় সহকর্মীরা অশ্রুসিক্ত নয়নে তাকে বিদায় জানান।
অধ্যাপক বাতেনের শিক্ষার্থী ও বাকৃবি ছাত্রদলের আহ্বায়ক মো. আতিকুর রহমান বলেন, “স্যার শুধু পাঠ্যবইয়ের জ্ঞানই দেননি, আমাদের নৈতিকতা, মানবিকতা ও দায়িত্ববোধের শিক্ষাও দিয়েছেন। তাঁর হাতে গড়ে ওঠা অসংখ্য শিক্ষার্থী আজ দেশের বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদান রাখছেন। আমাদের এই আয়োজন ছিল তাঁর কর্মময় জীবনের প্রতি শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতার প্রতীক। তাঁর শিক্ষা, আদর্শ ও অনুপ্রেরণা আমাদের হৃদয়ে চিরকাল বেঁচে থাকবে। তাঁর সুস্বাস্থ্য, দীর্ঘায়ু ও শান্তিময় অবসরজীবন কামনা করি।”