পাকিস্তানে একটি কোচিং সেন্টারের ছাদ ধসে মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় অন্তত ১৪ শিশুর প্রাণহানি ঘটেছে। আহত হয়েছে আরও বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী, যাদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। দুর্ঘটনার পরপরই উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে উদ্ধার অভিযান চালায়। এ ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে এবং দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত শুরু করেছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
এমনটাই জানা যায় আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম বিবিসির প্রতিবেদনে।
স্থানীয় কর্মকর্তারা জানান, লাহোরের কাহনা এলাকায় অবস্থিত একটি বেসরকারি কোচিং সেন্টারে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহতদের বেশিরভাগের বয়স ছিল ৭ থেকে ১১ বছরের মধ্যে। আহতদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
জরুরি উদ্ধার সংস্থার মুখপাত্র ফারুক আহমেদ জানান, স্থানীয় সময় বিকেল ৪টা ৪৫ মিনিটে খবর পেয়ে উদ্ধারকর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছান। প্রায় এক ঘণ্টার মধ্যেই উদ্ধার অভিযান শেষ করা হয়।
ঘটনার পরপরই তদন্ত শুরু করেছে কর্তৃপক্ষ। প্রাথমিক তদন্তের অংশ হিসেবে দুজনকে আটক করা হয়েছে।
নিহত এক শিশুর স্বজন বিবিসিকে জানান, ভবনটির ছাদের অবস্থা আগে থেকেই খারাপ ছিল। তার দাবি, শিশুরা পড়াশোনা করার সময় ছাদের ওপর মেরামতের কাজ চলছিল। অতিরিক্ত ওজনের কারণেই ছাদটি ধসে পড়ে।
এলাকার আরেক বাসিন্দা বিবিসিকে বলেন, এত পরিবারের শিশু মারা গেছে যে, কার বাসায় গিয়ে আগে সমবেদনা জানাবেন, সেটাই বুঝতে পারছেন না।
ঘটনার পর পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। তিনি আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করে সর্বোচ্চ চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার নির্দেশ দিয়েছেন।
পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী মরিয়ম নওয়াজ শরিফও এ ঘটনাকে হৃদয়বিদারক ট্র্যাজেডি উল্লেখ করে বলেন, ১৪ নিরীহ শিশুর মৃত্যু অপূরণীয় ক্ষতি। এ ঘটনার জন্য দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সূত্র: বিবিসি