দেশের কৃষির টেকসই উন্নয়ন, খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং গ্রামীণ অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করতে কৃষিখাতে বাজেট বরাদ্দ বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর শিল্পবিষয়ক উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী আহমেদ। তিনি বলেছেন, বর্তমান বাজেটে কৃষিতে বরাদ্দ আগের তুলনায় বাড়লেও তা প্রয়োজনের তুলনায় যথেষ্ট নয়। জিডিপিতে কৃষি খাতের বরাদ্দ বর্তমান ৫-৬ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৭-৮ শতাংশে উন্নীত করা উচিত।
সোমবার (২৯ জুন) সকালে রাজধানীর খামারবাড়ির কৃষি ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশ (কেআইবি) মিলনায়তনে এগ্রিকালচারিস্টস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (এএবি) আয়োজিত ‘কৃষি উন্নয়নের রূপান্তর ও বাস্তবায়নের চ্যালেঞ্জ’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
রিজভী বলেন, প্রায় ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার জাতীয় বাজেটে কৃষি খাতে বরাদ্দ কিছুটা বাড়লেও মূল্যস্ফীতির বাস্তবতায় তা পর্যাপ্ত নয়। দেশের প্রায় ৪০ শতাংশ মানুষের জীবিকা কৃষিনির্ভর হওয়ায় এ খাতকে আরও অগ্রাধিকার দেওয়া প্রয়োজন।
তিনি বলেন, কৃষকদের জন্য ৪২ লাখ ৫০০টি কৃষি কার্ড বিতরণ গ্রামীণ অর্থনীতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ। পাশাপাশি কৃষি ঋণ ও গ্রামীণ অর্থায়নের সম্প্রসারণ উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধিতে সহায়ক হবে।
কৃষি গবেষণার ওপর গুরুত্বারোপ করে রিজভী বলেন, গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়ানো গেলে কৃষির প্রতিটি ক্ষেত্রে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন সম্ভব। দেশের নিজস্ব কাঁচামাল ব্যবহার করে কৃষিভিত্তিক শিল্প গড়ে তুলতে পারলে অর্থনীতিতে নতুন সম্ভাবনার সৃষ্টি হবে। এজন্য বিদেশি বিনিয়োগও বাড়ানোর প্রয়োজন রয়েছে।
তিনি বলেন, ১৯৭৪ সালের দুর্ভিক্ষের পর কৃষি ঋণ, সেচ, খাল খনন ও যান্ত্রিকীকরণের মাধ্যমে দেশের কৃষিতে যে অগ্রগতি শুরু হয়েছিল, তা ধরে রাখতে গবেষণা, প্রযুক্তি এবং আধুনিক সংরক্ষণ ব্যবস্থায় আরও বিনিয়োগ জরুরি।
কৃষিপণ্যের রপ্তানি বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিয়ে রিজভী বলেন, সম্প্রতি ভিয়েতনামে ৩০ হাজার মেট্রিক টন আলু রপ্তানির উদ্যোগ বাংলাদেশের জন্য ইতিবাচক বার্তা। আন্তর্জাতিক বাজার সম্প্রসারণ করা গেলে কৃষক ন্যায্যমূল্য পাবেন এবং অতিরিক্ত উৎপাদন নষ্ট হবে না।
তিনি আরও বলেন, শুধু আলু নয়, পেঁয়াজ, আমসহ বিভিন্ন ফল ও সবজি দীর্ঘমেয়াদে সংরক্ষণের আধুনিক প্রযুক্তি চালু করতে হবে। এতে আমদানিনির্ভরতা কমবে এবং কৃষকের আর্থিক ক্ষতি হ্রাস পাবে।
রিজভী বলেন, বাংলাদেশে কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানে দক্ষ জনবল রয়েছে। তাদের উদ্ভাবন ও গবেষণাকে কাজে লাগিয়ে কৃষিভিত্তিক শিল্প গড়ে তোলা সম্ভব। নিউজিল্যান্ড ও ডেনমার্কের মতো দেশ এভাবেই কৃষিকে ভিত্তি করে উন্নত অর্থনীতি গড়ে তুলেছে।
তিনি সতর্ক করে বলেন, কৃষি খাত দুর্বল হলে খাদ্য নিরাপত্তা, কর্মসংস্থান এবং মূল্যস্ফীতির ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। তাই কৃষি, প্রাণিসম্পদ ও পোলট্রিসহ কৃষির সব উপখাতে বিনিয়োগ বাড়িয়ে সরকারের ঘোষিত উন্নয়ন লক্ষ্য বাস্তবায়ন করতে হবে।
সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থ সংস্থান ও ব্যাংকিং বিভাগের প্রধান ড. মো. আক্তারুজ্জামান খান।