ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর নকআউট পর্বকে ঘিরে টিকিটের চাহিদা বাড়ার সুযোগে সক্রিয় হয়ে উঠেছে আন্তর্জাতিক সাইবার প্রতারক চক্র। আধুনিক প্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে তারা ভুয়া টিকিট বিক্রির নামে ফুটবলপ্রেমীদের কাছ থেকে লাখ লাখ ডলার আত্মসাৎ করছে।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, প্রতারকরা আসল টিকিট বিক্রির ওয়েবসাইটের আদলে হুবহু নকল প্ল্যাটফর্ম তৈরি করে ক্রেতাদের ফাঁদে ফেলছে। অফিসিয়াল লোগো, রঙ, ফন্ট ও ডিজাইন ব্যবহার করে তৈরি এসব ভুয়া সাইটে ‘লাস্ট-মিনিট টিকিট’, ‘ভিআইপি হসপিটালিটি’ কিংবা ‘লিমিটেড অফার’-এর মতো আকর্ষণীয় বিজ্ঞাপন দিয়ে অর্থ আদায় করা হচ্ছে। অর্থ পরিশোধের পর অনেকেই টিকিট তো পাচ্ছেনই না, উল্টো হারাচ্ছেন ব্যাংক কার্ড ও ব্যক্তিগত তথ্যও।
সাম্প্রতিক এক তদন্তে মেক্সিকোভিত্তিক একটি প্রতারণা চক্রের বিরুদ্ধে বিশ্বকাপের টিকিট বিক্রির নামে প্রায় ১৭ লাখ মার্কিন ডলার হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এছাড়া একজন সন্দেহভাজন অনলাইনে অন্তত ৬০টি ভুয়া টিকিট বিক্রি করে ম্যাচের দিন ক্রেতাদের সঙ্গে দেখা করার প্রতিশ্রুতি দিলেও পরে আত্মগোপন করে।
সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের ভাষ্য, প্রতারকরা টাইপোস্কোয়াটিং, ডোমেইন স্পুফিং, ব্র্যান্ড ইমপারসোনেশন এবং সোশ্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং কৌশল ব্যবহার করে ব্যবহারকারীদের বিভ্রান্ত করছে। অনেক ক্ষেত্রে তারা আসল ওয়েবসাইটের সঙ্গে মিল রেখে ডোমেইন নিবন্ধন করে, যাতে সাধারণ ব্যবহারকারীদের পক্ষে ভুয়া ও আসল সাইট আলাদা করা কঠিন হয়ে পড়ে।
সাইবার নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠান ক্লাউডসেকের তদন্তে অন্তত ৪০টি ভুয়া ফিফা টিকিটিং ওয়েবসাইট এবং ১৫ জন সক্রিয় সাইবার অপরাধী নিয়ে গড়ে ওঠা একটি প্রতারণা নেটওয়ার্ক শনাক্ত হয়েছে। এসব ওয়েবসাইটে রিয়েল-টাইম কার্ড স্কিমিং, ম্যান-ইন-দ্য-মিডল ফিশিং এবং ওয়ান-টাইম পাসওয়ার্ড (ওটিপি) সংগ্রহের মতো কৌশল ব্যবহার করে ব্যবহারকারীদের আর্থিক তথ্য চুরি করা হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জেনারেটিভ এআই প্রযুক্তির কারণে প্রতারণার ধরন আরও জটিল হয়ে উঠেছে। এখন প্রতারকরা ব্যাকরণগতভাবে নিখুঁত, বহুভাষিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক ফিশিং বার্তা তৈরি করছে। পাশাপাশি এআই-চালিত চ্যাটবট ব্যবহার করে সম্ভাব্য ক্রেতাদের সঙ্গে তাৎক্ষণিক কথোপকথন চালিয়ে ভুয়া টিকিটের বিশ্বাসযোগ্যতা বাড়ানো হচ্ছে।
এ পরিস্থিতিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ভুয়া ওয়েবসাইট শনাক্ত করে অপসারণ, প্রতারণামূলক ডোমেইন জব্দ এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধির কার্যক্রম জোরদার করেছে। বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, বিশ্বকাপের টিকিট কেনার ক্ষেত্রে শুধুমাত্র ফিফার অনুমোদিত প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করা এবং অপরিচিত ওয়েবসাইটে ব্যক্তিগত বা ব্যাংকিং তথ্য প্রদান থেকে বিরত থাকা উচিত।