উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল ও টানা বর্ষণের প্রভাবে যমুনা নদীর পানি বাড়তে শুরু করায় সিরাজগঞ্জে নদীভাঙন নতুন করে তীব্র আকার ধারণ করেছে। সদর, চৌহালী ও কাজীপুর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় বসতভিটা, ফসলি জমি, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ভাঙনের ঝুঁকিতে পড়েছে। সবচেয়ে বেশি উদ্বেগ দেখা দিয়েছে সদর উপজেলার কাওয়াকোলা ইউনিয়নের বর্ণি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ঘিরে, যা যে কোনো সময় নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, চলতি বছরের ১৭ এপ্রিল কাজীপুর উপজেলার পলাশপুর ঘাট এলাকায় নদীতীর সংরক্ষণ প্রকল্পের দুটি অংশ যমুনায় বিলীন হয়। এরপর ৮ জুন চৌহালী উপজেলার চর বিনানই ঘাট এলাকায় প্রায় ১৫০ মিটার এলাকা নদীগর্ভে ধসে পড়ে। সর্বশেষ ২০ জুন সদর উপজেলার রতনকান্দি ইউনিয়নের বাহুকা গ্রামে নদীর ডান তীররক্ষা বাঁধের প্রায় ৩০ মিটার অংশ ভেঙে যায়।
বর্তমানে সদর উপজেলার বড় কয়ড়া, বর্ণি ও কৈগাড়ি জড়তা গ্রাম, রতনকান্দি ইউনিয়নের বাহুকা, চৌহালীর চর বিনানই এবং কাজীপুরের পলাশপুর ঘাট এলাকায় নদীভাঙনের ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি রয়েছে।
ভাটপিয়ারি গ্রামের বাসিন্দা আব্দুস ছালাম বলেন, অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের কারণে নদীর চর বিলীন হয়ে গেছে। আগে ওই চরে আখ, গম, কালাইসহ বিভিন্ন ফসলের আবাদ করতেন তিনি। এখন সব জমি নদীতে চলে যাওয়ায় নিঃস্ব হয়ে পড়েছেন।
কাওয়াকোলা ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান আব্দুর রাজ্জাক ভূইয়া জানান, বড় কয়ড়া, বর্ণি ও কৈগাড়ি জড়তা এলাকায় ভাঙন ভয়াবহ আকার নিয়েছে। বর্ণি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি চরম ঝুঁকিতে থাকায় শিক্ষার্থীদের জন্য দুর্যোগ আশ্রয়ণ প্রকল্পের একটি ঘরে অস্থায়ীভাবে পাঠদানের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
নদীভাঙনের কারণে অনেক পরিবার ইতোমধ্যে ঘরবাড়ি সরিয়ে নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে। নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে অনেকে এলাকা ছাড়ার উদ্যোগ নিয়েছেন। একই সঙ্গে আবাদি জমি হারিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন কৃষকরা।
সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ফজলুর রহমান বলেন, ভাঙনের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত বর্ণি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি ভ্যাট-ট্যাক্সসহ প্রায় ৪ লাখ টাকায় নিলাম করা হয়েছে। বর্তমানে শিক্ষার্থীদের আশ্রয়ণ প্রকল্পে পাঠদান চলছে। তবে সেই ভবনটিও নদীভাঙনের ঝুঁকিতে রয়েছে।
এদিকে সিরাজগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী জাকির হোসেন জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় যমুনা নদীর পানি সিরাজগঞ্জ হার্ড পয়েন্টে ৩ সেন্টিমিটার এবং কাজীপুরের মেঘাইঘাট পয়েন্টে ৬ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে এখনও দুই পয়েন্টেই পানি বিপৎসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মোখলেছুর রহমান বলেন, যেসব এলাকায় ভাঙন দেখা দিয়েছে সেখানে জরুরি ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত তীররক্ষা স্থাপনাগুলোও দ্রুত মেরামতের কাজ চলছে।