মাদারীপুরের শিবচর উপজেলায় চলতি মৌসুমে রেকর্ড পরিমাণ জমিতে পাটের আবাদ হয়েছে। অনুকূল আবহাওয়া ও কৃষি বিভাগের পরামর্শে এবার পাটের ফলনও ভালো হওয়ার আশা করছেন কৃষকরা। তবে পাট কাটার সময় ঘনিয়ে এলেও খাল-বিল ও জলাশয়ে পর্যাপ্ত পানি না থাকায় পাট জাগ দেওয়া এবং আশ ছাড়ানো নিয়ে চরম উদ্বেগে রয়েছেন তারা।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, শিবচর উপজেলার ১৮টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভায় প্রায় ১৩ হাজার ৭০০ হেক্টর জমিতে পাটের আবাদ হয়েছে, যা লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও বেশি। উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, অধিকাংশ ক্ষেতের পাট ভালো অবস্থায় রয়েছে এবং কোথাও কোথাও কৃষকরা ইতোমধ্যে পাট কাটা শুরু করেছেন।
কৃষকদের অভিযোগ, কয়েক বছর আগেও বর্ষা মৌসুমে খাল-বিল ও নিম্নাঞ্চলে পর্যাপ্ত পানি থাকায় সহজেই পাট জাগ দেওয়া যেত। কিন্তু বর্তমানে খাল ভরাট, জলাশয় সংকুচিত হওয়া, বৃষ্টিপাত কমে যাওয়া এবং বিভিন্ন স্থানে পানি প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হওয়ায় পাট পচানোর উপযুক্ত পরিবেশ মিলছে না।
বিশেষ করে কাঠালবাড়ী, পাচ্চর, কাদিরপুর, কুতুবপুর, দত্তীয়াখণ্ড ও শিবচর পৌরসভা এলাকার কৃষকেরা সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়েছেন। এসব এলাকায় অনেক খাল শুকিয়ে যাওয়ায় কৃষকদের দূরবর্তী জলাশয়ে ভ্যানে করে পাট নিয়ে যেতে হচ্ছে। এতে পরিবহন ও শ্রম ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যাচ্ছে।
শিবচরের পাটচাষি আব্দুল কাদের বলেন, এবার পাটের ফলন অনেক ভালো হয়েছে। কিন্তু জাগ দেওয়ার মতো পর্যাপ্ত পানি নেই। দ্রুত বৃষ্টি না হলে অনেক কষ্টে পাট পচাতে হবে।
আরেক কৃষক রফিক মোল্লা বলেন, ভালো ফলন হলেও আশ ছাড়াতে সমস্যা হলে উৎপাদন খরচ অনেক বেড়ে যাবে। দূরের খালে পাট নিয়ে যেতে হচ্ছে। এতে সময়, শ্রম ও অর্থ—সবই বেশি লাগছে।
স্থানীয় কৃষকদের ভাষ্য, অনেকেই পাট কেটে রাস্তার পাশে কিংবা জমির আইলে স্তূপ করে রেখেছেন। দূরে নিয়ে গিয়ে জাগ দিতে গেলে চুরির আশঙ্কাও রয়েছে। ফলে উৎকৃষ্ট মানের পাট উৎপাদন নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. আলীমুজ্জামান বলেন, এ বছর উপজেলায় লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি জমিতে পাটের আবাদ হয়েছে এবং ফলনও ভালো হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে কোথাও পানি সংকট দেখা দিলে কৃষকদের দলবদ্ধভাবে জলাশয় ব্যবহার এবং আধুনিক পদ্ধতিতে পাট পচানোর পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
এদিকে কৃষকদের দাবি, শিবচরের খাল-বিল পুনঃখনন, জলাশয় সংরক্ষণ এবং চরাঞ্চলে পানি সংরক্ষণের স্থায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হলে ভবিষ্যতে পাট জাগ দেওয়া ও আশ ছাড়ানোর সংকট অনেকটাই দূর হবে। এতে সোনালি আঁশের উৎপাদন বৃদ্ধি পাওয়ার পাশাপাশি দেশের বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনেও ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।