ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলার হামিরদী ইউনিয়নের মহেশ্বরদী গ্রামে মাদকবিরোধী সভাকে কেন্দ্র করে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে দুই পক্ষের গ্রামবাসীর মধ্যে তুমুল সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। সংঘর্ষে অন্তত ৪০ জন আহত হয়েছেন।
রবিবার (২৮ জুন) সকাল থেকে শুরু হওয়া এ সংঘর্ষে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র, টেটা, ঢাল-সড়কি ও ইটপাটকেল ব্যবহার করা হয় বলে জানা গেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মহেশ্বরদী গ্রামে দীর্ঘদিন ধরে দুটি পক্ষ সক্রিয় রয়েছে। এক পক্ষের নেতৃত্বে রয়েছেন ছিরু মিয়া, কালাম কাজী, জাহিদ শেখ, মিরাজ মাতুব্বর ও বাকি মাতুব্বর। অপর পক্ষের নেতৃত্ব দেন হামিরদী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান খোকন মিয়া, মোকসেদ খালাসী, ইলিয়াস মাতুব্বর ও বাদল মাতুব্বর।
গত শুক্রবার কালাম কাজীর বাড়িতে এবং শনিবার হামিরদী ইউনিয়ন পরিষদে মাদকবিরোধী সভা অনুষ্ঠিত হয়। এসব সভাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে ভুল বোঝাবুঝির সৃষ্টি হয়। এক পক্ষের অভিযোগ, মাদক কারবারিরা সভার নামে নিজেদের শক্তি বৃদ্ধি করছে। অন্য পক্ষের দাবি, মাদকবিরোধী সভায় অংশগ্রহণকে কেন্দ্র করেই বিরোধের সূত্রপাত।
অভিযোগ রয়েছে, শনিবার সন্ধ্যায় সভা শেষে ছিরু মিয়া পক্ষের লোকজন খোকন মিয়া চেয়ারম্যানের সমর্থক দেলোয়ার মাতুব্বরের বাড়িতে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর ও মারধর করেন। এর জের ধরে রোববার সকালে পার্শ্ববর্তী মানিকদহ ইউনিয়নের সুলতান মাতুব্বর ও মজিবর তালুকদার খোকন মিয়া পক্ষের সঙ্গে যোগ দেন। পরে পুখুরিয়া বাসস্ট্যান্ড এলাকায় দুই পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া শুরু হলে তা রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে রূপ নেয়।
সংঘর্ষে গুরুতর আহত আকতার মাতুব্বর, রিয়াদ মাতুব্বর ও মামুন মাতুব্বরকে ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। এছাড়া আহত অন্যদের স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
হামিরদী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান খোকন মিয়া বলেন, মাদকবিরোধী সভায় অংশ নেওয়ার কারণে দেলোয়ার মাতুব্বরের বাড়িতে হামলা ও ভাঙচুর করা হয়েছে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করেই সংঘর্ষের সৃষ্টি হয়েছে।”
অন্যদিকে ছিরু মিয়া দাবি করেন, মাদকবিরোধী সভার আড়ালে মাদক কারবারিরা খোকন চেয়ারম্যানের নেতৃত্বে একত্রিত হয়েছে। এ কারণেই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।
ভাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান বলেন, ধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কাজ করছে।
পুলিশ জানিয়েছে, পরিস্থিতি বর্তমানে নিয়ন্ত্রণে আনতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।