রাজধানীর পুরান ঢাকায় পবিত্র আশুরা উপলক্ষে তাজিয়া মিছিলে ডুলির রশি ধরা নিয়ে বিরোধের জেরে মো. জাকির হোসেন (৩১) নামে এক যুবককে ছুরিকাঘাতে হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনায় চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)। তাদের মধ্যে একজন প্রাপ্তবয়স্ক এবং বাকি তিনজন অপ্রাপ্তবয়স্ক।
শনিবার (২৭ জুন) বিকেলে রাজধানীর মিন্টো রোডে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লালবাগ বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মুহাম্মদ তালেবুর রহমান এ তথ্য জানান।
পুলিশ জানায়, শুক্রবার (২৬ জুন) বিকেল ৪টার দিকে রাজধানীর সূত্রাপুর থানার বিবিকা রওজা ইমামবাড়া থেকে একটি তাজিয়া মিছিল চকবাজার-লালবাগ হয়ে ধানমন্ডির উদ্দেশে রওনা দেয়। বিকেল পৌনে ৫টার দিকে মিছিলটি বাংলাবাজারের পি কে রায় রোড এলাকায় পৌঁছালে একদল যুবক মো. জাকির হোসেনকে এলোপাতাড়ি মারধর ও ছুরিকাঘাত করে।
খবর পেয়ে পুলিশ স্থানীয়দের সহায়তায় গুরুতর আহত জাকিরকে উদ্ধার করে স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ (মিটফোর্ড) হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
ডিসি তালেবুর রহমান জানান, ঘটনার পরপরই সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে তদন্ত শুরু করা হয়। পরে নিহতের পরিচয় নিশ্চিত করা হয়। জাকির লালবাগ এলাকার বাসিন্দা ছিলেন এবং ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ২৬ নম্বর ওয়ার্ডে পরিচ্ছন্নতা কর্মী হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
এ ঘটনায় নিহতের বড় ভাই বাদী হয়ে সূত্রাপুর থানায় অজ্ঞাতনামা ১৪ থেকে ১৫ জনকে আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করেন। পরে শুক্রবার দিবাগত রাত দেড়টা থেকে শনিবার সকাল ৭টা পর্যন্ত গেন্ডারিয়াসহ রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তারদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত একটি সুইচ গিয়ার চাকু, একটি চাপাতি এবং ঘটনার সময় ব্যবহৃত পোশাক উদ্ধার করেছে পুলিশ।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের বরাত দিয়ে ডিএমপির এই কর্মকর্তা বলেন, তাজিয়া মিছিলে থাকা ডুলির রশি ধরা নিয়ে জাকির ও হামলাকারীদের মধ্যে প্রথমে বাগবিতণ্ডা ও পরে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। একপর্যায়ে জাকিরকে বাংলাবাজার এলাকায় একা পেয়ে হামলাকারীরা ধাওয়া করে। আত্মরক্ষার জন্য তিনি পি কে রায় রোডের ইস্পাহানি ভবনের নিচে আশ্রয় নিলেও সেখানে তাকে ঘিরে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করা হয়। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে তার মৃত্যু হয়।
পুলিশ জানিয়েছে, সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে এ ঘটনায় ১০ থেকে ১২ জনের সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া গেছে। তাদের মধ্যে কেউ সরাসরি হামলায় অংশ নিয়েছে, আবার কেউ ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিল। গ্রেপ্তার বাকি আসামিদের শনাক্ত ও আটকের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।