সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে মাদকের দৌরাত্ম্য কমেছে

অনলাইন ডেস্ক

রাজধানী

রাজধানীর অন্যতম উন্মুক্ত বিনোদনকেন্দ্র সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে পুলিশের ধারাবাহিক অভিযান ও কঠোর নজরদারির ফলে মাদকসেবন ও মাদক ব্যবসা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে এসেছে।

2026-06-26T20:00:08+00:00
2026-06-26T20:00:08+00:00
  শনিবার, ২৭ জুন ২০২৬,
১৩ আষাঢ় ১৪৩৩
 
শনিবার, ২৭ জুন ২০২৬
রাজধানী
সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে মাদকের দৌরাত্ম্য কমেছে
অনলাইন ডেস্ক
শুক্রবার, ২৬ জুন, ২০২৬, ৮:০০ পিএম 
সংগৃহীত ছবি
রাজধানীর অন্যতম উন্মুক্ত বিনোদনকেন্দ্র সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে পুলিশের ধারাবাহিক অভিযান ও কঠোর নজরদারির ফলে মাদকসেবন ও মাদক ব্যবসা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে এসেছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দাবি, গত দেড় বছরের ধারাবাহিক অভিযানে উদ্যানের মাদক কার্যক্রম প্রায় ৯০ থেকে ৯৫ শতাংশ নিয়ন্ত্রণে এসেছে।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরের মার্চ, এপ্রিল ও মে—এই তিন মাসে মাদক সেবন ও বিক্রির অভিযোগে সোহরাওয়ার্দী উদ্যান থেকে মোট ৫৩৯ জনকে আটক করা হয়েছে। এর মধ্যে মার্চে ১১৭ জন, এপ্রিলে ১৭৬ জন এবং মে মাসে ২৪৬ জনকে আটক করা হয়।

একসময় রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা ছাড়াও দূর-দূরান্ত থেকে মাদকসেবীরা সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আসত। বিশেষ করে গাঁজার ব্যবহার ছিল বেশি, পাশাপাশি সীমিত আকারে ইয়াবা ও ইনজেকশনজাতীয় মাদকও পাওয়া যেত। তবে বর্তমানে পুলিশের কড়া নজরদারি ও নিয়মিত অভিযানের কারণে সেই পরিস্থিতির বড় ধরনের পরিবর্তন হয়েছে বলে দাবি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের।

পুলিশ জানায়, উদ্যানে সক্রিয় মাদক বিক্রেতাদের অধিকাংশই ভাসমান প্রকৃতির। তাদের অনেকের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে। অতীতে অভিযান চালিয়েও কাঙ্ক্ষিত সাফল্য না মিললেও গত দেড় বছরে ধারাবাহিক অভিযানের ফলে মাদক ব্যবসায়ীদের তৎপরতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। এছাড়া অস্থায়ী টংঘর উচ্ছেদ করায় তাদের অবস্থানও দুর্বল হয়েছে।

মাদকবিরোধী অভিযানে শাহবাগ থানা পুলিশ গত ১৩ মে একটি ব্যতিক্রমী কৌশল গ্রহণ করে। সেদিন রাতে ছদ্মবেশে গিটার বাজিয়ে গান গাওয়ার আয়োজন করা হয়। একপর্যায়ে সেখানে জড়ো হওয়া মাদকসেবী ও কারবারিদের মধ্যে থেকে গাঁজাসহ সাতজনকে হাতেনাতে আটক করা হয়। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালত তাদের বিভিন্ন মেয়াদে সশ্রম কারাদণ্ড দেন।

নীলক্ষেত পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ আলামিন বলেন, সোহরাওয়ার্দী উদ্যানকে মাদকমুক্ত রাখতে নিয়মিত ও বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। ধারাবাহিক কার্যক্রমের ফলে এখানে মাদক কার্যক্রম অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে এসেছে। তাদের লক্ষ্য শুধু মাদক নিয়ন্ত্রণ নয়, সাধারণ মানুষের জন্য উদ্যানকে নিরাপদ ও পরিচ্ছন্ন বিনোদনকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা।

শাহবাগ থানার ওসি (তদন্ত) জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ভাসমান ব্যক্তিদের মাধ্যমে উদ্যানে মাদক কেনাবেচা হলেও পুলিশের জিরো টলারেন্স নীতির কারণে এখন সেই দৌরাত্ম্য অনেক কমেছে।

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের রমনা বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার শেখ জাহিদুল ইসলাম জানান, উদ্যানে ২৪ ঘণ্টা ফুট পেট্রোল ও সাদা পোশাকে বিশেষ টিম দায়িত্ব পালন করছে। পাশাপাশি কমিউনিটি পুলিশিং কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে, যাতে সন্দেহভাজনদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হয়।

এদিকে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের শিক্ষার্থী মেহেদী হাসান শান্ত বলেন, উদ্যানে মাদক কার্যক্রম আগের তুলনায় কমেছে। তবে তিনি রমনা পার্কের মতো পরিচ্ছন্ন ও নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করার আহ্বান জানান, যাতে সব শ্রেণি-পেশার মানুষ নির্বিঘ্নে সেখানে সময় কাটাতে পারেন।

পুলিশের দাবি, মাদক নিয়ন্ত্রণে আসায় ছিনতাই ও ইভটিজিংয়ের মতো অপরাধও কমেছে। পাশাপাশি তরুণদের মাদক থেকে দূরে রাখতে সচেতনতামূলক প্রচারণা, মাইকিং এবং শিক্ষার্থীদের সম্পৃক্ত করে বিভিন্ন কর্মসূচি পরিচালনা করা হচ্ছে।

সূত্র: বাসস


Loading...
Loading...

রাজধানী- এর আরো খবর

Loading...
Loading...
© 2026 Daily Daily Bhorer Dak
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে.এম. বেলায়েত হোসেন
৪-ডি, মেহেরবা প্লাজা, ৩৩ তোপখানা রোড, ঢাকা-১০০০ থেকে প্রকাশিত এবং মনিরামপুর প্রিন্টিং প্রেস ৭৬/এ নয়াপল্টন, ঢাকা থেকে মুদ্রিত। পিএবিএক্স: ৪১০৫২২৪৫, ৪১০৫২২৪৬, ০১৭৭৫-৩৭১১৬৭, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন: ৪১০৫২২৫৮
ই-মেইল : [email protected], [email protected]
ফলো করুন: