রাজধানীতে যত্রতত্রে বসছে শত শত অবৈধ বাজার

সাইদুল ইসলাম

রাজধানী

নগরবাসী সুবিধার্থে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের অধিনে প্রতিটি ওয়ার্ডে বৈধ কাঁচা বাজার রয়েছে। এর বাহিরে নতুন করে কোন

2026-06-27T12:31:49+00:00
2026-06-27T12:31:49+00:00
  রবিবার, ২৮ জুন ২০২৬,
১৪ আষাঢ় ১৪৩৩
 
রবিবার, ২৮ জুন ২০২৬
রাজধানী
বিপুল অংকের রাজস্ব হারাচ্ছে দুই সিটি
রাজধানীতে যত্রতত্রে বসছে শত শত অবৈধ বাজার
সাইদুল ইসলাম
শনিবার, ২৭ জুন, ২০২৬, ১২:৩১ পিএম 
সংগৃহীত ছবি
নগরবাসী সুবিধার্থে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের অধিনে প্রতিটি ওয়ার্ডে বৈধ কাঁচা বাজার রয়েছে। এর বাহিরে নতুন করে কোন বাজার স্থাপনে দুই সিটির অনুমোদন নিতে হয়। কিন্তু স্থানীয় অসাধু প্রশাসন ও প্রভাবশালীদের মদদে প্রধান সড়কের পাশে ও যত্রতত্র বসছে শত শত অনুমোদনহীন কাঁচা বাজারসহ বিভিন্ন প্রসাধনীর বাজার। এসব বাজার থেকে মাসে লাখ লাখ টাকা আদায় করছে প্রভাবশালী চক্র। এ বিষয়ে কোন ধরনের ব্যবস্থা না নেয়ার দিন দিন এর সংখ্যা বাড়ছেই। তাছাড়া, সড়কের উপর অধিকাংশ বাজার গড়ে ওঠায় নগরবাসীর দুর্ভোগ, যানজট ও দুর্ঘটনায় প্রাণহানির ঘটনাও ঘটছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, দুই সিটির বাজারগুলোতে একসময় ক্রেতাদের উপচে পড়া ভির ছিল। কিন্তু এখন আর সেই ভির দেখা যাচ্ছে না। কারণ এখন যত্রতত্র গড়ে উঠেছে অনুমোদনহীন কাঁচা বাজার। আর এসব বাজার বাসার কাছে থাকায় এখন আর সিটি কর্পোরেশনের বাজারগুলোতে ক্রেতারা তেমন একটা যাচ্ছে না। ফলে অবৈধ কাঁচাবাজারের দাপটে বৈধ বাজারগুলো কোণঠাসা হয়ে পড়ছে। তবে এসব অবৈধ বাজার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নাকের ডগায় গড়ে উঠলেও ব্যবস্থা না নেয়ায় কোটি কোটি টাকার রাজস্ব হারাচ্ছে দুই সিটি।

জানা গেছে, নগরীতে বেসরকারী যে কোন বাজার স্থাপন করার আগে দুই সিটি করপোরেশনের অনুমোদন নিতে হয়। কিন্ত কর্তৃপক্ষের অনুমোদন না নিয়েই সড়ক দখলসহ যত্রতত্র অবৈধভাবে কাঁচাবাজার গড়ে তুলছে স্থানীয় প্রভাবশালীরা।  

বর্তমানে শত শত এমন বাজার বসিয়ে এক শ্রেণীর চাঁদাবাজরা মাসে লাখ লাখ টাকা আদায় করছে। অথচ বৈধভাবে এসব বাজার গড়ে উঠলে সরকার এসব বাজার থেকে মোটা অংকের রাজস্ব পেতো।  

অভিযোগ রয়েছে, দুই সিটির এক শ্রেনীর অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারি ও স্থানীয় প্রভাবশালীদের সহায়তায় সড়কের পাশেই গড়ে তোলা হচ্ছে এসব বাজার। আর এ থেকে মাসে কোটি টাকার উপরে চাঁদা আদায় করছে অসাধু প্রভাবশালীরা। এসব চক্রকে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে সহায়তা দিচ্ছে স্থানীয় প্রশাসনও।  ফলে এসব উচ্ছেদ না হয়ে বাজার রয়ে যাচ্ছে বহাল তবিয়তে।

খোঁজ নিয়ে আরো জানা গেছে, দুই সিটির অধিনে পর্যাপ্ত কাঁচাবাজার রয়েছে। এর বাইরে পাঁচ শতাধিক বেসরকারি বাজার রয়েছে। এরমধ্যে কিছু বাজার অনুমোদন নিয়ে তাদের ব্যবসার কার্যক্রম চালালেও অধিকাংশই অবৈধভাবে ব্যবসা চালাচ্ছে। 

নগরীর বিভিন্ন স্থানের বাসিন্দারা অভিযোগ করেছেন স্থানীয় প্রশাসন ও প্রভাবশালীদের মদদে এসব বাজার গড়ে উঠেছে। এসব বাজার থেকে অসাধু কিছু আইন শৃঙ্খলাবাহীনী ও স্থানীয় প্রভাবশালীরা প্রতিমাসে কোটি টাকার উপরে চাঁদা আদায় করছে। 

অন্যদিকে, রাস্তার উপর এসব বাজার গড়ে ওঠায় নগরবাসীর দুর্ভোগ, যানজট ও দুর্ঘটনায় প্রাণহানির ঘটনাও ঘটছে। মগবাজার, রামপুরা, খিলগাঁও, উত্তরা, গাবতলী, আদাবর, মিরপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় এ ধরনের শত শত বাজার গড়ে উঠেছে। 

এ ধরনের একাধিক বাজারের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, এসব এলাকায় কিছু দূর্নীতিবাজ কর্মকর্তা ও প্রভাবশালীদের যোগসাজসে অনুমোদন ছাড়াই এসব বাজার গড়ে তোলা হচ্ছে। এখানে কম টাকায় দোকান ভাড়া পাওয়ায় অনেকেই স্বাচ্ছন্দে ব্যবসা করছেন। তাদের এ থেকে ভাড়াবাবদ প্রতি মাসে কোটি টাকার উপরে হাতিয়ে নেয়া হচ্ছে। 

এরমধ্যে সব চেয়ে বড় বাজার হলো মিরপুর ২ আগারগাঁও গাবতলী বড় বাজার,গাবতলী ভেরিবাধ বাজার ও কল্যাণপুর বাজার। এভাবে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় অনুমোদনহীন একের পর এক বিভিন্ন ধরনের বাজার স্থাপন করা হচ্ছে। 

সরেজমিনে নগরীর বিভিন্ন স্থান ঘুরে দেখা গেছে, সড়কেরই পাশে কাঁচা বাজার বসানোয় নগরবাসীর চলাচলে অনেক দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। এমনিভাবে মতিঝিল এলাকায় প্রতিদিন রাস্তার পাশে বাজার বসছে। পথচারীদের চলাচল দুরূহ হয়ে উঠেছে। 

স্থানীয়রা জানান, রাজধানীর রাজপথে গড়ে ওঠা বাজারগুলোর কারণে যানজট সৃষ্টি হচ্ছে এ কথা যেমন সত্য, এসব বাজারগুলো অনেক ক্ষেত্রেই উপকারে আসছে সে কথাও সত্য। তারা বলেন, এ বিষয়ে সিটি কর্পোরেশনের পক্ষ থেকে ব্যবস্থা না নেয়ায় এসব বাজারের সংখ্যা দিনদিন বাড়ছে। 

একই অবস্থা দেখা গেছে, মানিকনগর, যাত্রাবাড়ী, নয়াবাজার, মালিবাগ, গোড়ানসহ নগরীর বিভিন্ন স্থানে। জুরাইন ও খিলগাঁও এলাকায় রেললাইনের উপর বসে খোলা বাজার। অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ এসব বাজারের ভয়াবহতা দিন দিন বেড়েই চলেছে। 

এদিকে, মিরপুর মাজার রোডে গিয়ে দেখা গেছে ভয়াবহ চিত্র। এই রাস্তার উপর প্রতিদিনই বসছে বাজার। ভোররাত থেকে প্রায় দুপুর পর্যন্ত রাস্তার এক কিলোমিটার জুড়ে চলে তরিতরকারি, মাছ, মাংস, সবিজর পাইকারি বাজার। শত শত ব্যবসায়ী ও ক্রেতার ভিড়ে বিশাল এই রাস্তা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় প্রতিদিনই আশপাশের রাস্তায় তীব্র যানজট লেগে থাকে। এতে চরম দুর্ভোগে পড়তে হয় সাধারণ মানুষকে। পাইকার ও ক্রেতাদের ভিড় যানবাহন চলাচলে চরম বিঘ্ন ঘটছে। ভোর থেকে আইনশৃঙ্খলাবাহীনীর একটি টিম বাজার এলাকায় অবস্থান করলেও যানজট নিরসনে কোন ভূমিকা দেখা যাচ্ছে না। 

সবজি ব্যবসায়ী কবির হোসেন জানান, স্থানীয় বাসিন্দাদের দৈনন্দিন চাহিদা মেটাতেই তারা প্রশাসনের সহায়তায় বাজার বসিয়েছেন। কেরানীগঞ্জ, সাভার, দোহার, নবাবগঞ্জ থেকে অনেকেই বিভিন্ন সামগ্রী নিয়ে এই বাজারে আসেন। 

বাজারের এক পাইকার বলেন, স্থানীয় কিছু প্রশাসন এখান থেকে প্রতি ব্যবসায়ীর কাছ থেকে দৈনিক দুই’শ টাকা করে নিচ্ছে। এছাড়া, কিছু প্রভাবশালীকেও টাকা দিতে হচ্ছে। এসব চাঁদা দিতে গিয়ে তাদের ব্যবসার তেমন কিছু থাকে না বলেও তিনি জানান। এছাড়া মিরপুর মাজার রোডেই কাঠ-বাশের জমজমাট ব্যবসা চলছে। বাঁশ, কাঠ, ইট, বালির ব্যবসা গড়ে তোলা হয়েছে রাস্তার উপর। তছাড়া, চিড়িয়াখানা রোডেও বসছে তরিতরকারীর বিশাল বাজার। ভুক্তভোগীরা জানান, এখান থেকেও স্থানীয় কিছু প্রশাসন ও সরকারি দলের কিছু নেতাকর্মীও বাজারগুলো থেকে চাঁদা আদায় করছে। 

নগর বিশেষজ্ঞ ইকবাল হাবিব বলেন, ঢাকায় বসবাসকারীদের পর্যাপ্ত বৈধ বাজার রয়েছে। তাই এভাবে যত্রতত্র বাজার বসানোর প্রয়োজন নেই। এতে সবারই ভোগান্তি হচ্ছে। বিশেষ করে সড়কের উপর অবৈধ বাজারগুলো বসানোয় যানজট সৃষ্টি হচ্ছে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে হবে। 


Loading...
Loading...

রাজধানী- এর আরো খবর

Loading...
Loading...
© 2026 Daily Daily Bhorer Dak
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে.এম. বেলায়েত হোসেন
৪-ডি, মেহেরবা প্লাজা, ৩৩ তোপখানা রোড, ঢাকা-১০০০ থেকে প্রকাশিত এবং মনিরামপুর প্রিন্টিং প্রেস ৭৬/এ নয়াপল্টন, ঢাকা থেকে মুদ্রিত। পিএবিএক্স: ৪১০৫২২৪৫, ৪১০৫২২৪৬, ০১৭৭৫-৩৭১১৬৭, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন: ৪১০৫২২৫৮
ই-মেইল : [email protected], [email protected]
ফলো করুন: