খুলনার পাইকগাছা উপজেলার কপিলমুনি ইউনিয়নের লবণাক্ত বারুইডাঙ্গা গ্রামে দীর্ঘদিনের নিরাপদ খাবার পানির সংকট নিরসনে স্থাপন করা হয়েছে সৌরবিদ্যুৎচালিত ডিস্যালাইনেশন (রিভার্স অসমোসিস) প্ল্যান্ট। প্রত্যন্ত এই গ্রামের শতাধিক পরিবারের জন্য আশীর্বাদ হয়ে ওঠা প্ল্যান্টটি থেকে প্রতিদিন প্রায় এক হাজার লিটার বিশুদ্ধ সুপেয় পানি সরবরাহ করা হচ্ছে।
প্ল্যান্টটির বিশেষত্ব হলো, এটি পরিচালনায় জাতীয় গ্রিডের বিদ্যুতের প্রয়োজন হয় না। সম্পূর্ণ সৌরবিদ্যুতের মাধ্যমে গভীর নলকূপ থেকে লবণাক্ত ভূগর্ভস্থ পানি উত্তোলন করে রিভার্স অসমোসিস প্রযুক্তিতে পরিশোধন করা হয়। এরপর সেই পানি পানযোগ্য অবস্থায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে সরবরাহ করা হচ্ছে।
ডিস্যালাইনেশন প্ল্যান্ট এমন একটি প্রযুক্তি, যার মাধ্যমে সমুদ্র বা ভূগর্ভস্থ লবণাক্ত পানি থেকে লবণ ও ক্ষতিকর খনিজ পদার্থ অপসারণ করে নিরাপদ সুপেয় পানি উৎপাদন করা হয়। বিশেষ করে উপকূলীয় এলাকায়, যেখানে মিঠা পানির তীব্র সংকট রয়েছে, সেখানে এ ধরনের প্ল্যান্ট নিরাপদ পানির অন্যতম কার্যকর সমাধান হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
স্থানীয়দের ভাষ্য, ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস ও লবণাক্ততার প্রভাবে এ অঞ্চলের নদী, পুকুর এবং ভূগর্ভস্থ পানির অধিকাংশই দীর্ঘদিন ধরে পানের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। ফলে নিরাপদ পানির অভাবে বাসিন্দারা নানা স্বাস্থ্যঝুঁকিতে রয়েছেন।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, অতিরিক্ত লবণাক্ত পানি দীর্ঘদিন পান করলে উচ্চ রক্তচাপ, কিডনি জটিলতাসহ নানা রোগের ঝুঁকি বাড়ে। বিশেষ করে নারীদের প্রজনন স্বাস্থ্য এবং গর্ভবতী মায়েদের জন্য এটি মারাত্মক ক্ষতিকর। গবেষণায় দেখা গেছে, লবণাক্ত পানির কারণে উপকূলীয় অঞ্চলে প্রি-এক্লামশিয়া, এক্লামশিয়া, উচ্চ রক্তচাপ এবং মাতৃ ও নবজাতকের স্বাস্থ্যঝুঁকি বৃদ্ধি পাচ্ছে।
এ অবস্থায় বারুইডাঙ্গা গ্রামের সৌরবিদ্যুৎচালিত ডিস্যালাইনেশন প্ল্যান্ট স্থানীয় মানুষের নিরাপদ পানির চাহিদা পূরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। পরিবেশবান্ধব এই উদ্যোগ উপকূলীয় লবণাক্ত এলাকায় বিশুদ্ধ পানি সরবরাহের একটি কার্যকর ও টেকসই মডেল হিসেবে ইতোমধ্যে সাড়া ফেলেছে।