বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জ উপজেলার ১৯০ নম্বর পশ্চিম তেলিগাতী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দীর্ঘ পাঁচ বছর ধরে পলিথিন ও গোলপাতার ছাপড়ার নিচে চলছে শিক্ষা কার্যক্রম। জরাজীর্ণ পরিবেশে ৯৭ জন শিক্ষার্থীকে পাঠদান করতে গিয়ে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। দ্রুত নতুন ভবন নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন অভিভাবক, এলাকাবাসী ও বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।
জানা গেছে, তেলিগাতী ইউনিয়নের এ বিদ্যালয়টি ১৯৮৯ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। ২০২১ সালে পুরোনো ভবনটি অপসারণ করা হলেও আজ পর্যন্ত নতুন ভবন নির্মাণ করা হয়নি। ফলে অস্থায়ী গোলপাতার ছাপড়া ও পলিথিনে ঢাকা ঘরেই চলছে শ্রেণিকক্ষের কার্যক্রম।
বিদ্যালয়টিতে অনুমোদিত শিক্ষক পদ ছয়টি হলেও বর্তমানে কর্মরত রয়েছেন মাত্র তিনজন। ২০২৪ সাল থেকে প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য রয়েছে। এছাড়া সহকারী শিক্ষকের আরও দুটি পদও খালি থাকায় সীমিত জনবল নিয়ে দুই শিফটে পাঠদান পরিচালনা করতে হচ্ছে।
বিদ্যালয়ে বিদ্যুৎ ও বৈদ্যুতিক পাখার ব্যবস্থা নেই। গরমে শিক্ষার্থীরা চরম কষ্টে ক্লাস করছে, আর বৃষ্টি শুরু হলেই পাঠদান কার্যত বন্ধ হয়ে যায়। বই-খাতা ভিজে যাওয়ার আশঙ্কায় শিক্ষার্থীদের ছোট একটি টিনশেড অফিসকক্ষে আশ্রয় নিতে হয়। এমনকি কয়েকটি পরীক্ষাও ওই কক্ষেই নেওয়া হয়েছে।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, রোদ-বৃষ্টি উপেক্ষা করে প্রতিদিন ঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশে পড়াশোনা করতে হচ্ছে। অন্যদিকে অভিভাবকদের আশঙ্কা, নিরাপদ পরিবেশের অভাবে অনেকেই সন্তানদের অন্য বিদ্যালয় ও মাদ্রাসায় ভর্তি করিয়ে দিচ্ছেন।
ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক রোজিনা আক্তার জানান, নতুন ভবনের জন্য একাধিকবার উপজেলা শিক্ষা অফিসে আবেদন করা হয়েছে। তবে এখনো কোনো বরাদ্দ পাওয়া যায়নি।
বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি মুজিবুর রহমান বলেন, দ্রুত নতুন ভবন নির্মাণ না হলে বিদ্যালয়টির অস্তিত্বই হুমকির মুখে পড়বে।
এদিকে ক্লাস্টার সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা আসাদুজ্জামান জানান, বিদ্যালয়টির ভবন সংকটের বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে এবং নতুন ভবনের প্রস্তাবিত তালিকায় বিদ্যালয়টির নাম রয়েছে। আগামী বরাদ্দে বিদ্যালয়টি নতুন ভবন পাবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
স্থানীয়দের দাবি, শিক্ষার্থীদের নিরাপদ ও মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করতে দ্রুত নতুন বিদ্যালয় ভবন নির্মাণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি উদ্যোগ প্রয়োজন।