বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জ উপজেলার গুলিশাখালী ফাজিল (স্নাতক) মাদরাসায় অধ্যক্ষের অবসরের পরও হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করাকে কেন্দ্র করে প্রশাসনিক জটিলতা ও উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। এ ঘটনায় শিক্ষক-কর্মচারীদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
জানা গেছে, মাদরাসার অধ্যক্ষ মাওলানা আব্দুল বারী হাওলাদারের চাকরির বয়স গত ২৯ জুন শেষ হয়। তবে বুধবার (১ জুলাই) তিনি অধ্যক্ষ হিসেবে হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করলে শিক্ষক-কর্মচারীদের মধ্যে বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়।
এ ঘটনায় মাদরাসার উপাধ্যক্ষ গাজী মো. শহিদুল ইসলামসহ কয়েকজন শিক্ষক অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে স্বেচ্ছাচারিতা, অনিয়ম, দুর্নীতি ও পেশিশক্তি প্রয়োগের অভিযোগ তোলেন। একই সঙ্গে প্রাণনাশের আশঙ্কা প্রকাশ করে তিনি মোরেলগঞ্জ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।
উপাধ্যক্ষের অভিযোগ, চাকরির মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও অধ্যক্ষ বহিরাগতদের সহায়তায় জোরপূর্বক হাজিরা খাতা নিজের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে তাতে স্বাক্ষর করেন এবং পরে খাতাটি আটকে রাখেন। তিনি দাবি করেন, বহিরাগতদের সহযোগিতায় অধ্যক্ষের চেয়ারও দখলে রাখা হয়েছে। শিক্ষক-কর্মচারীরা এ ধরনের কর্মকাণ্ড মেনে নেবেন না বলেও জানান তিনি।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে অধ্যক্ষ মাওলানা আব্দুল বারী হাওলাদার বলেন, পরিচালনা কমিটি তাকে দুই বছরের জন্য চুক্তিভিত্তিক ও অবৈতনিক অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পালনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সেই সিদ্ধান্তের ভিত্তিতেই তিনি দায়িত্ব পালন করছেন বলে দাবি করেন। পাশাপাশি পেশিশক্তি প্রয়োগ বা অনিয়মের অভিযোগ ভিত্তিহীন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
অন্যদিকে, মাদরাসা পরিচালনা কমিটির সভাপতি ও বাগেরহাটের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক অনুপ দাস বলেন, অধ্যক্ষের চাকরির মেয়াদ শেষ হওয়ায় বর্তমানে তিনি দায়িত্বে নেই। তাই হাজিরা খাতায় তার স্বাক্ষরের কোনো আইনগত বৈধতা নেই। তিনি জানান, এখনো তাকে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের অনুমোদন দেওয়া হয়নি। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদন পাওয়ার পরই তিনি অবৈতনিক অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে পারবেন।
মোরেলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. হাবিবুল্লাহ বলেন, প্রচলিত বিধান অনুযায়ী অধ্যক্ষের পদ শূন্য হলে উপাধ্যক্ষ ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। পরিস্থিতির অবনতি হলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।
প্রায় ৮০০ শিক্ষার্থী অধ্যয়নরত এ মাদরাসায় সৃষ্ট প্রশাসনিক সংকট দ্রুত নিরসন করে শিক্ষা কার্যক্রমের স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনার দাবি জানিয়েছেন শিক্ষক-কর্মচারীরা।