ভোলার চরফ্যাশন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে তীব্র চিকিৎসক সংকট ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সরঞ্জামের অভাবে ব্যাহত হচ্ছে স্বাস্থ্যসেবা। ৪২ জন মেডিকেল অফিসারের পদ থাকলেও বর্তমানে কর্মরত রয়েছেন মাত্র ১৫ জন। পাশাপাশি ১০ জন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের স্থলে দায়িত্ব পালন করছেন মাত্র দুজন। ফলে প্রতিদিন শত শত রোগীর চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে হিমশিম খেতে হচ্ছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে।
চরফ্যাশন উপজেলার ৫ লাখের বেশি মানুষের পাশাপাশি লালমোহন, তজুমদ্দিন ও মনপুরা উপজেলার বাসিন্দারাও এই হাসপাতালের ওপর নির্ভরশীল। সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী হাসপাতালটি ১০০ শয্যায় উন্নীত করার প্রক্রিয়া চলমান থাকলেও জনবল ও অবকাঠামোগত সংকট এখনো কাটেনি।
হাসপাতাল ঘুরে জানা যায়, প্রতিদিন বহির্বিভাগে ৫০০ থেকে ৬০০ জন রোগী চিকিৎসাসেবা নেন। এছাড়া শতাধিক রোগী ভর্তি থাকেন। ২৪ ঘণ্টা চালু জরুরি বিভাগেও প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক রোগী চিকিৎসা নিতে আসেন। সীমিত সংখ্যক চিকিৎসক দিয়ে এই বিশাল চাপ সামাল দিতে গিয়ে সেবার মান ব্যাহত হচ্ছে বলে অভিযোগ রোগীদের।
রোগীদের স্বজনরা জানান, হাসপাতালে প্রয়োজনীয় বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক না থাকায় অনেক রোগীকেই ভোলা সদর হাসপাতাল, বরিশাল কিংবা ঢাকার বিভিন্ন বিশেষায়িত হাসপাতালে রেফার করা হয়। দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে গিয়ে অনেক রোগীর শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে।
হাসপাতালের প্যাথলজি বিভাগেও রয়েছে আধুনিক যন্ত্রপাতির সংকট। প্রয়োজনীয় ব্লাড কাউন্ট মেশিন, বায়োকেমিস্ট্রি অ্যানালাইজার, সেন্ট্রিফিউজ, আধুনিক মাইক্রোস্কোপসহ বিভিন্ন যন্ত্রপাতির অভাবে অনেক পরীক্ষা বাইরে থেকে করাতে হচ্ছে। এতে রোগীদের অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় করতে হচ্ছে।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. মাকলুকুর রহমান বলেন, ৫০ শয্যার জনবল কাঠামো অনুযায়ী ৪২ জন মেডিকেল অফিসার থাকার কথা থাকলেও বর্তমানে কর্মরত রয়েছেন মাত্র ১৬ জন। এছাড়া ১০ জন কনসালট্যান্টের বিপরীতে দায়িত্ব পালন করছেন মাত্র দুজন। জনবল সংকটের কারণে কাঙ্ক্ষিত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়েছে।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. শোভন বসাক বলেন, জনবল সংকট থাকা সত্ত্বেও চিকিৎসকরা আন্তরিকতার সঙ্গে রোগীদের চিকিৎসাসেবা দিয়ে যাচ্ছেন। হাসপাতালটি ১০০ শয্যায় উন্নীত করার কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
স্থানীয়দের দাবি, চরফ্যাশনের বিশাল জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে দ্রুত শূন্য পদে চিকিৎসক ও বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক নিয়োগ, আধুনিক চিকিৎসা সরঞ্জাম সরবরাহ এবং হাসপাতালের অবকাঠামোগত উন্নয়ন জরুরি।