পবিত্র আশুরা উপলক্ষে কারবালার শোকাবহ ঘটনা স্মরণে চট্টগ্রামে শিয়া সম্প্রদায়ের উদ্যোগে শোক মজলিস ও শোক র্যালি অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার (২৬ জুন) সকালে নগরের সদরঘাট হোসাইনিয়া ইমামবারগাহ থেকে শুরু হওয়া এ কর্মসূচিতে শত শত নারী-পুরুষ ও শিশু-কিশোর অংশ নেন।
সকাল সাড়ে ১০টায় হোসাইনিয়া ইমামবারগাহে অনুষ্ঠিত মাসায়েব মজলিসে কারবালার প্রান্তরে ইমাম হোসাইন (আ.) ও তাঁর পরিবারের শাহাদাতের ঘটনা তুলে ধরেন হুজ্জাতুল ইসলাম মাওলানা আমজাদ হোসেন। তাঁর বক্তব্যে কারবালার আত্মত্যাগের শিক্ষা, সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে অবিচল থাকার গুরুত্ব এবং মানবতার মূল্যবোধ তুলে ধরা হয়। মজলিস শেষে অংশগ্রহণকারীরা বুক চাপড়ে মাতমের মাধ্যমে শোহাদায়ে কারবালার প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।
পরে হুজ্জাতুল ইসলাম মাওলানা আমজাদ হোসেনের নেতৃত্বে শোক র্যালি বের হয়। র্যালিটি সদরঘাট থেকে নিউমার্কেট, জিপিও, কালীবাড়ি মোড়, কোতোয়ালী মোড়সহ নগরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে পুনরায় ইমামবারগাহে গিয়ে শেষ হয়।
র্যালিতে অংশগ্রহণকারীরা ইমাম হোসাইন (আ.) এর প্রতীকী কফিন, কালো পতাকা (আলাম) ও তাজিয়া বহন করেন। পুরো মিছিলজুড়ে কারবালার শহীদদের স্মরণে নওহা ও মার্সিয়া পাঠ করা হয়। পাশাপাশি ‘ইয়া হোসাইন’, ‘লাব্বাইক ইয়া হোসাইন’ এবং ‘নারায়ে তাকবির, আল্লাহু আকবর’সহ বিভিন্ন শোকধ্বনিতে মুখরিত হয়ে ওঠে আশপাশের এলাকা। ধর্মীয় নাত ও গজল পরিবেশনের পাশাপাশি অংশগ্রহণকারীরা মাতম পালন করেন। কর্মসূচিতে পিপাসার্ত পথচারীদের মধ্যে শরবতও বিতরণ করা হয়।
নিউমার্কেট এলাকায় অনুষ্ঠিত সংক্ষিপ্ত সমাবেশে মাওলানা আমজাদ হোসেন বলেন, কারবালার শিক্ষা কেবল একটি ঐতিহাসিক ঘটনা নয়; এটি সত্য, ন্যায়বিচার ও মানবতার পক্ষে দাঁড়ানোর চিরন্তন আহ্বান। তিনি মুসলিম উম্মাহর ঐক্য, বিশ্ব শান্তি প্রতিষ্ঠা এবং জঙ্গিবাদ ও উগ্রবাদের বিরুদ্ধে সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে তিনি বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে সংঘাত, হত্যা ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে শান্তি প্রতিষ্ঠায় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কার্যকর ভূমিকা কামনা করেন। এছাড়া তিনি আয়াতুল্লাহ সাইয়্যেদ আলী খামেনি-এর নিরাপত্তার বিষয়েও বক্তব্য দেন।
শোক র্যালিতে অংশ নেওয়া এক অভিভাবক বলেন, কারবালার আত্মত্যাগের ইতিহাস নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতেই তিনি সন্তানকে সঙ্গে নিয়ে মিছিলে এসেছেন। অপর এক নারী অংশগ্রহণকারী বলেন, পবিত্র আশুরায় কারবালার শহীদদের স্মরণ এবং তাঁদের আত্মত্যাগের শিক্ষা ধারণ করতেই তারা প্রতিবছর এ কর্মসূচিতে অংশ নেন।
প্রতিবছরের মতো এবারও ১০ মহরম উপলক্ষে সদরঘাট হোসাইনিয়া ইমামবারগাহে দিনব্যাপী শিয়া সম্প্রদায়ের বিভিন্ন ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান, আলোচনা ও প্রার্থনার আয়োজন করা হয়।