গাজীপুরের শ্রীপুরে একটি পোশাক কারখানায় কর্মরত এক নারী শ্রমিকের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে বিক্ষোভ, সড়ক অবরোধ ও কয়েকটি কারখানায় ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। শ্রমিকদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন অসুস্থ থাকার পরও ছুটি না পেয়ে বুধবার দিবাগত রাতে কর্মস্থলে কাজ করার সময় মারা যান ওই শ্রমিক।
উপজেলার তেলিহাটি ইউনিয়নের টেপিরবাড়ি এলাকায় অবস্থিত কালার অ্যান্ড কোম্পানি লিমিটেড কারখানায় এ ঘটনা ঘটে।
এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) সকাল ৯টার দিকে টেপিরবাড়ি এলাকায় কারখানার সামনে বিক্ষোভ শুরু করেন শ্রমিকেরা। একপর্যায়ে তারা মাওনা-বরমী আঞ্চলিক সড়ক অবরোধ করলে ওই সড়কে যান চলাচল ব্যাহত হয়।
নিহত শ্রমিক লিজা বেগম (৩৭) পিরোজপুর জেলার নাজিরপুর উপজেলার হুগলাবানিয়া গ্রামের আশরাফ আলীর মেয়ে। তিনি শ্রীপুর পৌরসভার কড়ইতলা এলাকায় ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন এবং কালার অ্যান্ড কোম্পানি লিমিটেডে সুইং অপারেটর হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
সহকর্মীদের অভিযোগ, প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে অসুস্থ ছিলেন লিজা বেগম। শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় বুধবার রাতে তিনি কর্তৃপক্ষের কাছে ছুটির আবেদন করেন। তবে ছুটি না পাওয়ায় কাজ চালিয়ে যেতে বাধ্য হন। রাত পৌনে ১টার দিকে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে মেঝেতে লুটিয়ে পড়েন তিনি। পরে সহকর্মীরা তাকে মৃত অবস্থায় দেখতে পান।
শ্রমিক মোর্শেদুল ইসলাম বলেন, অসুস্থতার কারণে লিজা একাধিকবার ছুটির আবেদন করলেও তা মঞ্জুর করা হয়নি। এ ঘটনায় শ্রমিকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।
ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে বৃহস্পতিবার দুপুরে কালার অ্যান্ড কোম্পানি লিমিটেড, ট্রিপল অ্যাপারেলস, এমএসসি এবং ব্লু প্ল্যানেট নিটওয়্যার লিমিটেডসহ আশপাশের বিভিন্ন কারখানার শ্রমিকরা বিক্ষোভে অংশ নেন। তারা বরমী-মাওনা আঞ্চলিক সড়ক অবরোধ করে প্রতিবাদ জানান। এ সময় কয়েকটি কারখানায় ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটে। ট্রিপল অ্যাপারেলস কারখানার ভেতরে থাকা কয়েকটি যানবাহন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানা গেছে।
কালার অ্যান্ড কোম্পানি লিমিটেডের পরিচালক (অপারেশন) মো. শাহিদুল ইসলাম বলেন, একজন নারী শ্রমিক অসুস্থ অবস্থায় মারা গেছেন। তিনি ছুটির আবেদন করেছিলেন কি না, সে বিষয়ে আমার জানা নেই। ঘটনার পর কারখানায় এক দিনের সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে।
শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শাহীনুর আলম বলেন, এক শ্রমিকের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে আশপাশের কয়েকটি কারখানার শ্রমিকদের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। কয়েকটি কারখানায় ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে জেলা পুলিশ ও শিল্প পুলিশ কাজ করছে।
ঘটনার পর এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। শ্রমিকের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এবং অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত চলছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।