হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী কোনো জাহাজের কাছ থেকে টোল, বীমা ফি বা অন্য কোনো ধরনের অর্থ নেওয়া হবে না বলে যুক্তরাষ্ট্রকে জানিয়েছে ইরান।
বুধবার (২৪ জুন) এমন দাবি করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় ট্রাম্প বলেন, বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত উদ্বেগজনক প্রতিবেদনের বিপরীতে ইরান যুক্তরাষ্ট্রকে আশ্বস্ত করেছে যে, হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী জাহাজের ওপর কোনো ধরনের ফি আরোপ করা হবে না। তিনি সতর্ক করে বলেন, এই তথ্য সত্য না হলে চলমান আলোচনা তাৎক্ষণিকভাবে শেষ হয়ে যাবে।
ট্রাম্প আরও দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানকে কোনো অর্থ দেয়নি এবং দেশটির জব্দ করা সম্পদও পুরোপুরি মুক্ত করেনি। তবে নিয়ন্ত্রণে থাকা কিছু অর্থ ছাড় করা হতে পারে, যাতে ইরান যুক্তরাষ্ট্রের কৃষকদের কাছ থেকে ভুট্টা, গম, সয়াবিনসহ বিভিন্ন কৃষিপণ্য কিনতে পারে। তার ভাষ্য, ইরান বর্তমানে খাদ্য সংকটে রয়েছে।
এদিকে মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট জানিয়েছেন, জব্দ করে রাখা ইরানি সম্পদের একটি বড় অংশ খাদ্য ও ওষুধ কেনার কাজে ব্যবহারের সুযোগ দেওয়া হতে পারে।
অন্যদিকে সুইজারল্যান্ডে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে প্রথম দফার আলোচনার পর ইরান দাবি করে, তাদের জব্দ করা কিছু সম্পদ ইতোমধ্যে মুক্ত করা হয়েছে। তবে তারা যুক্তরাষ্ট্র থেকে কৃষিপণ্য কেনার বিষয়টি অস্বীকার করেছে।
দুই দেশের মধ্যে হওয়া সমঝোতা অনুযায়ী, আগামী ৬০ দিন হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী জাহাজের কাছ থেকে কোনো ফি নেবে না ইরান। তবে এই সময়সীমা শেষ হওয়ার পর ওমানের সঙ্গে চুক্তির ভিত্তিতে নৌচলাচল সেবা, নিরাপত্তা এবং পরিবেশ সুরক্ষার জন্য ফি আরোপের পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটি।
সংযুক্ত আরব আমিরাত সফরকালে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেন, হরমুজ একটি আন্তর্জাতিক জলপথ এবং আন্তর্জাতিক জলপথে কোনো দেশ এককভাবে টোল বা ফি আরোপ করতে পারে না।
তবে ইরানের দাবি, হরমুজ প্রণালি আন্তর্জাতিক জলপথ নয়; এটি ইরান ও ওমানের আঞ্চলিক জলসীমার অংশ।