তীব্র তাপপ্রবাহে বিপর্যস্ত ইউরোপের বিভিন্ন দেশের মধ্যে ফ্রান্সে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠেছে। দেশটিতে প্রচণ্ড গরম থেকে স্বস্তি পেতে অনিরাপদ স্থানে সাঁতার কাটতে গিয়ে অন্তত ৪০ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। একই সময়ে দেশটিতে রেকর্ড করা হয়েছে সর্বকালের সবচেয়ে উষ্ণ রাত।
ফরাসি প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়ান লেকর্নু মঙ্গলবার (২৩ জুন) এক জরুরি বৈঠকের পর জানান, গত বৃহস্পতিবার থেকে তাপপ্রবাহ-সম্পর্কিত ঘটনায় বহু মানুষের মৃত্যু হয়েছে, যাদের বেশিরভাগই তরুণ। তিনি বলেন, ‘এরা এই সংকটের প্রথম শিকার।’ প্রায় ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রার কারণে দেশজুড়ে জনজীবনে চরম চাপ তৈরি হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
ফরাসি আবহাওয়া সংস্থা মেটিও-ফ্রান্স জানায়, সোমবার থেকে মঙ্গলবার পর্যন্ত রাতটি ছিল ১৯৪৭ সাল থেকে সংরক্ষিত রেকর্ডের মধ্যে সবচেয়ে উষ্ণ রাত। এ সময়ে গড় তাপমাত্রা ছিল ২১ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা ২০১৯ সালের আগের রেকর্ডকে ছাড়িয়ে গেছে।
তীব্র গরমে ফ্রান্সের একাধিক শহরে তাপমাত্রা নতুন রেকর্ড ছুঁয়েছে। বোর্দো ও পোয়াতিয়েরসহ বিভিন্ন এলাকায় অস্বাভাবিক উচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ৫৪টি অঞ্চলে লাল সতর্কতা জারি করা হয়েছে।
গরমের কারণে দেশজুড়ে স্কুলগুলো আগেভাগে বন্ধ করা হয়েছে বা সময়সূচিতে পরিবর্তন আনা হয়েছে। পাশাপাশি বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থার ওপরও অতিরিক্ত চাপ পড়েছে।
স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, অনেক মানুষ অনুমোদনহীন নদী ও জলাশয়ে সাঁতার কাটতে গিয়ে প্রাণ হারিয়েছেন। এ ছাড়া গাড়ির ভেতরে অচেতন অবস্থায় পাওয়া দুই শিশু এবং কয়েকজন বৃদ্ধের মৃত্যুর ঘটনাও তদন্তাধীন রয়েছে, যা তাপপ্রবাহজনিত হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ইউরোপজুড়ে চলমান এই তাপপ্রবাহ যুক্তরাজ্য ও স্পেনেও প্রভাব ফেলেছে। যুক্তরাজ্যে তাপমাত্রা ৩৯ ডিগ্রি সেলসিয়াসের কাছাকাছি পৌঁছাতে পারে বলে সতর্ক করা হয়েছে। স্পেনের কিছু এলাকায়ও ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ইউরোপজুড়ে এই অস্বাভাবিক তাপপ্রবাহের পেছনে ‘ওমেগা ব্লক’ নামে একটি আবহাওয়াগত পরিস্থিতি কাজ করছে, যা উষ্ণ বাতাসকে দীর্ঘ সময় আটকে রাখছে এবং উত্তর আফ্রিকা ও সাহারা অঞ্চল থেকে গরম বাতাস ইউরোপে প্রবেশ করছে।
সূত্র: আল-জাজিরা