মাদারীপুরের শিবচর উপজেলার বিভিন্ন চরাঞ্চলে চলতি মৌসুমে ৩২৫ হেক্টর জমিতে ‘কালো সোনা’ খ্যাত কালোজিরার বাম্পার ফলন হয়েছে। কৃষকের ঘরে উঠেছে সোনালি স্বপ্নের ফসল।
তবে অধিকাংশ কৃষক ধার দেনা পরিষোধ করতে ও নিজেদের সংরক্ষণ সুবিধা না থাকায় উৎপাদিত কালোজিরা হাটে বাজারে বিক্রি করছে তুলনামূলক কমমূল্যে। অধিক লাভের আশায় কিনে নিচ্ছে মাহাজনেরা সরাসরি চলে যাচ্ছে স্থানীয় মহাজন ও আড়তদারদের গুদামে।
উপজেলার চরজানাজাত, কাঁঠালবাড়ী, বন্দরখোলা,সন্যাসিরচর, বাঁশকান্দি, দত্তপাড়া ও উমেদপুর ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ চরাঞ্চলে এবার ব্যাপকভাবে কালোজিরার আবাদ হয়েছে। অনুকূল আবহাওয়া ও তুলনামূলক ভালো বাজারদরের কারণে কৃষকরা এ ফসল চাষে আগ্রহী হয়ে উঠেছেন। কম পরশ্রমে ভালো আবাদ ও বেশী লাভ পেয়ে আনন্দিত কৃষক। শিবচরে এ বছর কালোজিরার আবাদ উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে বলে জানিয়েছে কৃষি বিভাগ।
বৃহস্পতি ও রবিবারে মাদবরেরচর হাট ও মঙ্গলবারে উতরাইল হাটে গিয়ে দেখা যায় স্হানীয় ও ঢাকার মাহাজনরা ৬ হাজার থেকে ৭ হাজার টাকা দরে কালোজিরা কিনে গুদামজাত করছে।
স্থানীয় কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ফসল ঘরে তোলার পরপরই অধিকাংশ কৃষক ঋণ পরিশোধ করতে বিক্রি করতে হচ্ছে কালো সোনা ক্ষাত কালেজিরা। সংসার পরিচালনা ও নগদ অর্থের প্রয়োজন মেটাতে কম দামে কালোজিরা বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন। ফলে মৌসুম শেষে দাম বাড়লেও সেই লাভ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন তারা।
চরজানাজাত ইউনিয়নের কৃষক আব্দুল মালেক বলেন, এবার ফলন ভালো হয়েছে। কিন্তু ঘরে মজুত রাখার ব্যবস্থা না থাকায় ফসল তুলেই মহাজনের কাছে বিক্রি করতে হয়েছে। পরে দাম বাড়লে সেই লাভ আমরা পাই না।
আরেক কৃষক সাইফুল ইসলাম জানান, নিজস্ব গুদাম বা সরকারি সংরক্ষণ ব্যবস্থা থাকলে আমরা কিছুদিন অপেক্ষা করে ভালো দামে বিক্রি করতে পারতাম।
স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানান, কৃষকদের কাছ থেকে কালোজিরা সংগ্রহ করে তারা গুদামজাত করছেন। পরে বাজার পরিস্থিতি বিবেচনায় বিভিন্ন জেলায় সরবরাহ করা হবে।
শিবচর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোঃ আলীমুজ্জামান বলেন, গত বছরের তুলনায় এবছর কালোজিরার চাষ বেশী হয়েছে। সব মাটিতে কালোজিরা চাষ হয়না। বেলে ও দোয়াস মাটিতে কালোজিরা চাষ ভালো হয়।
শিচরে চরজানাজাত, কাঠালবাড়ী এবং বন্দরখোলা এর আবাদ বেশী। নদীগর্ভে ফসলীজমি বিলীন হওয়ায় পূর্বে কালোজিরা আবাদ কম ছিলো। এখন জেগে উঠা চরে কৃষকরা কালোজিরার আবাদ শুরু করেছে।
কৃষকদের প্রযুক্তি গত সব ধরনের সহযোগিতা প্রদান করা হবে। একটি লাভজনক মসলা ফসল হওয়ায় প্রতি বছর এর আবাদ বাড়ছে। কৃষকদের প্রশিক্ষণ ও পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে, যাতে তারা অধিক লাভবান হতে পারেন।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে শিবচরের চরাঞ্চলে কালোজিরা চাষ কৃষকদের অর্থনৈতিক অবস্থার উন্নয়নে ইতিবাচক ভূমিকা রাখছে।
কৃষকদের দাবি, উৎপাদিত কালোজিরা সংরক্ষণের জন্য সরকারি উদ্যোগে গুদাম নির্মাণ ও সহজ শর্তে কৃষিঋণের ব্যবস্থা করা হলে তারা ন্যায্যমূল্য পেয়ে আরও বেশি লাভবান হবেন।