চট্টগ্রামে ২৭ বছর আগের এক দুর্নীতির মামলায় বাংলাদেশ টেলিফোন ও টেলিগ্রাফ বোর্ড (বিটিটিবি)-এর তিন সাবেক কর্মকর্তাকে বিভিন্ন ধারায় মোট ৪৪ বছর করে কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।
সোমবার (২২ জুন) চট্টগ্রাম বিভাগীয় বিশেষ জজ আদালতের বিচারক মো. মিজানুর রহমান এ রায় ঘোষণা করেন। রায়ের সময় তিন আসামিই পলাতক ছিলেন।
দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন, বিটিটিবির সাবেক উচ্চমান সহকারী কাম-ক্যাশিয়ার মোহাম্মদ হোসেন, সাবেক বিভাগীয় প্রকৌশলী মো. কামরুল আলম এবং সাবেক বিভাগীয় প্রকৌশলী সাদিকুর রহমান খান।
আদালত সূত্রে জানা যায়, ১৯৯৪ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ২৬ ডিসেম্বরের মধ্যে বিটিটিবির বিভাগীয় প্রকৌশলী (ইমারত নির্মাণ) কার্যালয়ে কর্মরত থাকাকালে মোহাম্মদ হোসেন ২৪টি চেকের অঙ্ক পরিবর্তন ও জালিয়াতির মাধ্যমে অনুমোদিত অর্থের অতিরিক্ত এক কোটি ৬৬ লাখ টাকা উত্তোলন করেন। উত্তোলিত অর্থ ক্যাশবুকে প্রদর্শন করা হয়নি এবং সরকারি কোষাগারেও জমা দেওয়া হয়নি।
তদন্তে উঠে আসে, এ অনিয়মে তৎকালীন বিভাগীয় প্রকৌশলী কামরুল আলম ও সাদিকুর রহমান খান সহযোগিতা করেছিলেন। এ ঘটনায় ১৯৯৯ সালের ৩১ অক্টোবর নগরের ডবলমুরিং থানায় মামলা দায়ের করা হয়। পরে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) তদন্ত শেষে ২০১৩ সালে তিনজনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করে। ২০১৪ সালের ৮ জুন আদালত অভিযোগ গঠন করে বিচার কার্যক্রম শুরু করেন।
দুদকের পিপি অ্যাডভোকেট রেজাউল করিম রনি জানান, ১৩ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য ও অন্যান্য প্রমাণে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় আদালত তিন আসামিকে দণ্ডবিধির ৪০৯ ধারায় ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও ৫০ লাখ টাকা জরিমানা করেন।
এ ছাড়া ৪২০ ধারায় ৭ বছর কারাদণ্ড ও ১০ লাখ টাকা জরিমানা, ৪৬৭ ধারায় ১০ বছর কারাদণ্ড ও ২০ লাখ টাকা জরিমানা, ৪৬৮ ও ৪৭১ ধারায় ৫ বছর কারাদণ্ড ও ৫ লাখ টাকা জরিমানা এবং ৪৭৭(এ) ধারায় ৫ বছর কারাদণ্ড ও ৫ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। পাশাপাশি দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২) ধারায় ৭ বছরের কারাদণ্ড ও ১০ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
তবে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, সব সাজা একসঙ্গে কার্যকর হবে। আসামিরা পলাতক থাকায় তাদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে।