সিলেটে হযরত শাহজালাল (র.)-এর মাজারের দানবাক্সে সদ্য প্রত্যাহারকৃত জেলা প্রশাসক (ডিসি) মো. সারওয়ার আলমকে নিয়ে প্রশংসা ও মাজারের অভ্যন্তরীণ অনিয়ম-দুর্নীতি সংক্রান্ত একটি বেনামি চিঠি পাওয়া গেছে।
সোমবার (২২ জুন) বিকেলে মাজারের তিনটি দানবাক্সের টাকা গণনার সময় চিঠিটি পাওয়া যায়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন জেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার (সাধারণ শাখা) তানভীর হোসাইন সজীব।
তিনি জানান, দানবাক্স খোলার সময় নগদ টাকার পাশাপাশি কয়েকটি চিঠি ও কিছু স্বর্ণালঙ্কার পাওয়া যায়। এর মধ্যে একটি চিঠি সদ্য প্রত্যাহারকৃত জেলা প্রশাসকের উদ্দেশে লেখা, যেখানে মাজারের অভ্যন্তরীণ অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনার অভিযোগ তুলে ধরা হয়েছে। পাশাপাশি এক কর্মচারীর বিরুদ্ধে মাজারের জায়গা দখল করে দোকান ও বসতঘর নির্মাণের অভিযোগও করা হয়।
চিঠিতে ‘একজন শুভাকাঙ্ক্ষী’র নামে লেখা বক্তব্যে বলা হয়েছে, মাজারের অর্থ ব্যবস্থাপনায় অনিয়ম রয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট এক কর্মচারীর বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে। তাকে মাজারের জায়গা দখল ও অর্থ আত্মসাতের সঙ্গে জড়িত বলে উল্লেখ করা হয়।
চিঠিতে আরও বলা হয়, এসব বিষয় তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
দীর্ঘদিন ধরে হযরত শাহজালাল (র.) মাজারে ভক্তরা দান করে আসছেন। তবে এবার প্রশাসনের উপস্থিতিতে প্রকাশ্যে দানবাক্স খোলার মাধ্যমে টাকা গণনা করা হয়, যা সাধারণত প্রকাশ্যে করা হয় না। সোমবার দুপুর আড়াইটা থেকে সিল করা দানবাক্স খুলে আনুষ্ঠানিকভাবে গণনা কার্যক্রম শুরু হয়। এ ঘটনায় মাজার এলাকায় ভক্ত ও দর্শনার্থীদের মধ্যে ব্যাপক কৌতূহল সৃষ্টি হয়।
উল্লেখ্য, সিলেটের জেলা প্রশাসক (ডিসি) মো. সারওয়ার আলমকে সম্প্রতি প্রত্যাহার করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে উপসচিব হিসেবে সংযুক্ত করা হয়েছে। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপনে বিষয়টি জানানো হয় এবং তা অবিলম্বে কার্যকর করা হয়।