জয়পুরহাটের কালাই উপজেলায় প্রায় ৮ কোটি ৩৫ লাখ টাকা ব্যয়ে চলমান একটি সড়ক প্রশস্তকরণ ও সংস্কার প্রকল্পে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার, কাদামাটির ওপর বিটুমিন ছিটিয়ে দায়সারা কার্পেটিং এবং দিনের পরিবর্তে রাতের আঁধারে কাজ করার মাধ্যমে প্রকল্পটি দ্রুত শেষ করার চেষ্টা করছে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান।
ঘটনাটি উপজেলার পুনট-মোসলেমগঞ্জ ভায়া শান্তিনগর সড়কের ৭ দশমিক ৩৮ কিলোমিটার অংশে।
শুক্রবার (১৯ জুন) দিবাগত রাত সাড়ে ১০টার দিকে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ঠিকাদারের লোকজন পাথর ও পিচ বিছানোর কাজ করছেন। তবে সেখানে কাজ তদারকির দায়িত্বে থাকা প্রকৌশল বিভাগের কোনো কর্মকর্তাকে দেখা যায়নি।
স্থানীয়দের অভিযোগ, শুরু থেকেই প্রকল্পে নিম্নমানের ইট, পুরোনো ও পরিত্যক্ত পাথর, ইটের গুঁড়া (রাবিশ) এবং মাটি ব্যবহার করা হচ্ছে। নতুন অংশে বালুর সঙ্গে খোয়া দেওয়ার কথা থাকলেও তা না করে পুরোনো রাস্তার উচ্ছিষ্ট উপকরণ ব্যবহার করা হয়েছে। এর ওপর জমে থাকা মাটি পরিষ্কার না করেই সামান্য বিটুমিন ছিটিয়ে রাতের বেলায় কার্পেটিং করা হচ্ছে।
এলাকাবাসীর দাবি, অনিয়মের প্রতিবাদ করলে ঠিকাদারের লোকজন উল্টো তাদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার ও হুমকি-ধামকি দেন।
উপজেলা প্রকৌশল অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, শান্তিনগর বাজার থেকে মোসলেমগঞ্জ বাজার পর্যন্ত সড়ক সংস্কার ও একপাশে নতুন করে ৩ দশমিক ৭ মিটার প্রশস্তকরণে গত বছরের ৩ জুন দরপত্র আহ্বান করা হয়। প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয় ৮ কোটি ৩৫ লাখ ১৯৪ টাকা। কাজটি বাস্তবায়নের দায়িত্ব পায় নওগাঁর ইথেন এন্টারপ্রাইজ। গত বছরের ২ ডিসেম্বর কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ করতে পারেনি প্রতিষ্ঠানটি। বর্তমানে আগামী ৩০ জুনের মধ্যে কাজ শেষ করতে তড়িঘড়ি কার্যক্রম চালানো হচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল জোব্বার বলেন, শুরু থেকেই তিন নম্বর ইট, রাবিশ ও পরিত্যক্ত পাথর দিয়ে কাজ করা হচ্ছে। কাদামাটির ওপর বিটুমিন ছিটিয়ে রাতে কার্পেটিং করা হয়েছে। সকালে দেখেছি পায়ের চাপেই পিচ উঠে যাচ্ছে।
বিনইল গ্রামের আনোয়ার বলেন, এখনই রাস্তার পিচ উঠে যাচ্ছে। ছয় মাস পর এই সড়কের কী অবস্থা হবে, তা সহজেই অনুমান করা যায়। মনে হচ্ছে সংস্কারের নামে সরকারি টাকা লোপাটের চেষ্টা চলছে।
অভিযোগের বিষয়ে ইথেন এন্টারপ্রাইজের ব্যবস্থাপক নুর আলম বলেন, এটি কৃষিপ্রধান এলাকা। ইরি-বোরো মৌসুমে কৃষকদের অসুবিধা এড়াতেই রাতে কাজ করা হয়েছে। তবে কোনো অনিয়ম হয়নি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শ্রমিক বলেন, আমাদের যেভাবে নির্দেশ দেওয়া হয়, সেভাবেই কাজ করি। এখন মূল লক্ষ্য দ্রুত কাজ শেষ করা।
উপ-সহকারী প্রকৌশলী আবু জাফর বলেন, রাতে কার্পেটিং করার কোনো সুযোগ নেই। আমার অনুপস্থিতিতে কাজ করার প্রশ্নই আসে না। শুনেছি রাতে কাজ হয়েছে, প্রয়োজনে তা পুনরায় উঠিয়ে দেওয়া হবে।
ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারী রাসেল আহম্মেদ বলেন, আমি সাইটে থাকি না। যদি রাতে কার্পেটিং করা হয়ে থাকে, তাহলে সেটি ভুল হয়েছে।
এ বিষয়ে উপজেলা প্রকৌশলী সুমন কুমার দেবনাথ বলেন, রাতে কার্পেটিং করার বিষয়টি শুনেছি। প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিয়ে কাজ বন্ধ করা হবে।