চট্টগ্রাম নগরের চান্দগাঁও বিসিক শিল্প এলাকায় আবারও একদল সশস্ত্র যুবকের মহড়া ও ফাঁকা গুলির ঘটনা ঘটেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, কুখ্যাত ‘বোরহান বাহিনী’র সদস্যরা প্রকাশ্য দিবালোকে আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে এ তাণ্ডব চালায়। ঘটনার পর এক স্থানীয় যুবদল নেতাকে মুঠোফোনে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ারও অভিযোগ উঠেছে। ঘন ঘন এমন সহিংসতায় চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন ওই এলাকার ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষ।
চান্দগাঁও থানা পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত শনিবার দুপুরে বিসিক শিল্প এলাকার একটি কারখানার সামনে পাঁচজনের একটি সশস্ত্র দল অবস্থান নেয়। কারখানায় প্রবেশের চেষ্টা করার সময় তারা দুই রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছুড়ে এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি করে। গুলির শব্দে আশপাশের বিপণিবিতান ও কারখানার কর্মকর্তা-কর্মচারীরা হুড়োহুড়ি করে নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যান। মুহূর্তের মধ্যে পুরো শিল্প এলাকায় থমথমে পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
যুবদল নেতাকে মুঠোফোনে হুমকি
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় একাধিক সূত্র জানায়, গুলির ঘটনার কিছুক্ষণের মধ্যেই ৪ নম্বর ওয়ার্ডের সম্ভাব্য কাউন্সিলর পদপ্রার্থী ও এক যুবদল নেতাকে মুঠোফোনে কল দেওয়া হয়। ফোনে তাকে লক্ষ্য করে অত্যন্ত অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজসহ শারীরিকভাবে বড় ধরনের ক্ষতি ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়।
এলাকাবাসীর দাবি, এই হামলার পেছনে স্থানীয়ভাবে চিহ্নিত ‘বোরহান বাহিনী’ জড়িত। দীর্ঘদিন ধরে বিসিক শিল্প এলাকায় চাঁদাবাজি, ফ্যাক্টরি নিয়ন্ত্রণ এবং একক আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে এই চক্রটি নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছে। চক্রের মূলহোতা বোরহান বিভিন্ন সময় রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের সাথে সাথে নিজের দলীয় পরিচয় বদলে এলাকায় প্রভাব খাটাতেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বোরহানের দৌরাত্ম্য আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। তার বিরুদ্ধে একাধিক হত্যা মামলাসহ বিভিন্ন গুরুতর অপরাধের অভিযোগ রয়েছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য নেওয়ার জন্য বোরহানের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।
চান্দগাঁও থানার ওসি জসিম উদ্দিন সংবাদমাধ্যমকে জানান, বিসিক শিল্প এলাকায় গুলির খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে এবং বিষয়টি গুরুত্বের সাথে তদন্ত করছে। প্রাথমিক অনুসন্ধানে ধারণা করা হচ্ছে, চাঁদা দাবি বা আদায়কে কেন্দ্র করেই এই ঘটনা ঘটেছে। তদন্তের স্বার্থে এই মুহূর্তে জড়িতদের নাম প্রকাশ করা যাচ্ছে না।
ওসি আরও জানান, ঘটনার পর এখন পর্যন্ত কোনো ভুক্তভোগী থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেননি। তবে পুলিশ নিজ উদ্যোগে অপরাধীদের শনাক্ত করতে কাজ শুরু করেছে এবং দ্রুতই তাদের আইনের আওতায় আনা হবে।
স্থানীয় ব্যবসায়ী ও বাসিন্দাদের অভিযোগ, গত বছরের আগস্ট মাসের পর থেকে বিসিক শিল্প এলাকায় বেশ কয়েকবার সশস্ত্র মহড়া ও গুলির ঘটনা ঘটেছে। একের পর এক এমন সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের ফলে দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই বিসিক শিল্প অঞ্চলের ব্যবসায়িক পরিবেশ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। ব্যবসায়ীরা সেখানে চরম বিনিয়োগ ঝুঁকিতে রয়েছেন। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে শিল্প এলাকার নিরাপত্তা জোরদার এবং চিহ্নিত সন্ত্রাসীদের অবিলম্বে গ্রেপ্তারের জোর দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় শিল্পপতি ও সাধারণ মানুষ।