চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলা ভূমি অফিসকে ঘিরে সম্প্রতি প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনের বিভিন্ন তথ্য ও উপস্থাপনাকে প্রশ্নবিদ্ধ বলে দাবি করেছে উপজেলা ভূমি প্রশাসন। দপ্তরটির অভিযোগ, প্রতিবেদনে উত্থাপিত অভিযোগের পক্ষে পর্যাপ্ত তথ্য-প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়নি এবং কিছু ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্যও সঠিকভাবে প্রতিফলিত হয়নি।
উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মং এছেন স্বাক্ষরিত এক লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, একটি জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত ‘লোহাগাড়ায় তদবির ছাড়া এগোয় না ফাইল’ শিরোনামের প্রতিবেদনে ভূমি অফিসে সেবা গ্রহণে তদবির ও অতিরিক্ত অর্থের প্রয়োজন হয় বলে যে চিত্র তুলে ধরা হয়েছে, তা বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। দপ্তরের দাবি, এমন অভিযোগের সমর্থনে কোনো নির্দিষ্ট ঘটনা, ভুক্তভোগীর পরিচয়, লিখিত অভিযোগ কিংবা গ্রহণযোগ্য দালিলিক উপাত্ত প্রতিবেদনে উপস্থাপন করা হয়নি।
লিখিত বক্তব্যে আরও বলা হয়, সংবাদ প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য গ্রহণ এবং তথ্য যাচাইয়ের যে সাংবাদিকতাগত প্রয়োজনীয়তা রয়েছে, তা যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়নি। ফলে প্রতিবেদনের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ নিয়ে বিভ্রান্তির সৃষ্টি হয়েছে।
প্রতিবেদনে সহকারী কমিশনারের (ভূমি) নামে যে বক্তব্য প্রকাশ করা হয়েছে, সে বিষয়ে আপত্তি জানিয়ে মং এছেন বলেন, প্রতিবেদক তার সঙ্গে কোনো সাক্ষাৎকার বা আনুষ্ঠানিক আলাপ করেননি। তাই তার নামে উদ্ধৃত বক্তব্যের উৎস ও গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন থেকে যায়।
একইভাবে প্রতিবেদনে উদ্ধৃত ভূমি অফিসের কয়েকজন কর্মচারীর বক্তব্যের বিষয়েও ব্যাখ্যা দিয়েছে দপ্তরটি। লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, কর্মচারী রবিউলের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সাংবাদিকের কোনো কথোপকথনই হয়নি। ফলে তার নামে প্রকাশিত বক্তব্যের সত্যতা নিয়েও প্রশ্ন ওঠে।
অন্যদিকে সার্ভেয়ার-কাম-কানুনগো নূরে আলমের বিষয়ে ভূমি অফিস জানায়, একজন সাংবাদিক ব্যক্তিগত মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করে বিভিন্ন অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি ব্যক্তিগত মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকেন এবং বিষয়টি নিয়ে অফিস প্রধানের সঙ্গে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেন। এর বাইরে তিনি কোনো মন্তব্য করেননি বলে দাবি করা হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদনের প্রেক্ষাপটে সংবাদ সংগ্রহের পদ্ধতি নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে উপজেলা ভূমি প্রশাসন। তাদের দাবি, সংশ্লিষ্ট সাংবাদিকের নিজের বা অন্য কোনো ব্যক্তির ভূমি-সংক্রান্ত কাজ না থাকা সত্ত্বেও তিনি দীর্ঘ সময় ধরে অফিসে অবস্থান করেন।
ভূমি অফিসের মতে, বর্তমানে ভূমি সেবা আরও স্বচ্ছ, দ্রুত ও জবাবদিহিমূলক করতে সরকার বিভিন্ন সংস্কারমূলক পদক্ষেপ বাস্তবায়ন করছে। এ অবস্থায় যাচাইবিহীন বা অসম্পূর্ণ তথ্যের ভিত্তিতে প্রকাশিত সংবাদ সাধারণ মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করতে পারে এবং সরকারি সেবা কার্যক্রম সম্পর্কে নেতিবাচক ধারণা তৈরি করতে পারে।
তবে প্রকৃত অনিয়ম, দুর্নীতি কিংবা জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট অভিযোগের অনুসন্ধান ও প্রকাশকে তারা ইতিবাচকভাবেই দেখে বলে লিখিত বক্তব্যে উল্লেখ করা হয়েছে। একই সঙ্গে যেকোনো অভিযোগ প্রকাশের ক্ষেত্রে তথ্যের নির্ভুলতা নিশ্চিত করা, সংশ্লিষ্ট পক্ষের বক্তব্য গ্রহণ করা এবং সাংবাদিকতার পেশাগত মানদণ্ড অনুসরণের ওপর গুরুত্বারোপ করেছে উপজেলা ভূমি অফিস।