ব্যক্তিগত সুখ-সুবিধা বা নিজের জীবনমানের উন্নয়নই শেষ কথা নয়; বরং রাষ্ট্র ও সমাজ গঠনে কে কতটুকু অবদান রাখতে পারলেন, সেটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বলে মন্তব্য করেছেন চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক (ডিসি) মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা। তিনি বলেন, জনগণের করের টাকায় বেতন ও সুযোগ-সুবিধা ভোগ করে আমরা সমাজকে কী দিতে পারলাম, তা প্রত্যেকের ভাবা উচিত।
রোববার (২১ জুন) চট্টগ্রাম প্রাইমারি টিচার্স ট্রেনিং ইনস্টিটিউটে (পিটিআই) ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা ও হিসাব সহকারীদের জন্য আয়োজিত তিন দিনব্যাপী ‘অফিস ও আর্থিক ব্যবস্থাপনা’ বিষয়ক প্রশিক্ষণ কোর্সের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ আহ্বান জানান। জাতীয় স্থানীয় সরকার ইনস্টিটিউটের (এনআইএলজি) আয়োজনে ও চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের বাস্তবায়নে এ প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
আমরা প্রায়ই অন্যের পরিবর্তন চাই, কিন্তু নিজের চিন্তা বা দৃষ্টিভঙ্গি বদলাতে চাই না। এই সংকীর্ণ মানসিকতা থেকে আমাদের বের হয়ে আসতে হবে।
ডিসি জাহিদুল ইসলাম মিঞা সরকারি কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে বলেন, জনগণের প্রতি অঙ্গীকার: সরকারি চাকরি কেবল একটি পদ নয়, এটি জনগণের প্রতি বড় অঙ্গীকার। সেবাগ্রহীতারা যেন কোনোভাবেই হয়রানি বা অবহেলার শিকার না হন।
আজকে যিনি সেবা দিচ্ছেন, কর্মজীবন শেষে তাকেও সাধারণ নাগরিক হিসেবে সেবা নিতে হবে। তাই নিজের প্রত্যাশিত আচরণ মাথায় রেখেই দায়িত্ব পালন করা উচিত।
শুধু আইন বা প্রশিক্ষণ পরিবর্তন আনতে পারে না, যদি না মানুষের ভেতরে দায়িত্ববোধ, নৈতিকতা ও বিবেক জাগ্রত হয়।সরকারি দপ্তরের সেবায় মানুষের অসন্তোষ দূর করতে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সেবার মান বৃদ্ধির পাশাপাশি মানবিক হওয়ার তাগিদ দেন তিনি।
অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. শরীফ উদ্দিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন জেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার এস এম আমিরুল মোস্তফা, ফারজানা রহমান মীম এবং মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের উপপরিচালক আতিয়া চৌধুরী।
উল্লেখ্য, ২১ থেকে ২৩ জুন পর্যন্ত চলমান এই প্রশিক্ষণে জেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন পরিষদের ১৬০ জন কর্মকর্তা অংশ নিচ্ছেন। এতে অফিস ও আর্থিক ব্যবস্থাপনা, হিসাব সংরক্ষণ, পিপিআর এবং তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহারিক বিষয়ে ধারণা দেওয়া হবে।