হবিগঞ্জের লাখাই উপজেলার বামৈ গ্রামের লেচু বিবি খুনের সুরতহাল রিপোর্ট নিয়ে ধুম্রজাল সৃষ্টি হওয়ায় আদালত পাড়া সহ উপজেলা জুড়ে চলছে নানা গুঞ্জন।
বাদীর দায়েরকৃত মামলা সুত্রে জানা যায়, চলতি বছরের ১৭ মার্চ তারিখে বামৈ গ্রামের প্রতিপক্ষ আব্দুল জলিল মাষ্টার গংরা পাশের বাড়ীর তাজু মিয়া ও তার স্ত্রী নিহত লেচু বিবি (৬৫) নিজ বাড়ীতে পানি নিষ্কাশনের নালা করাকে কেন্দ্র করে উভয় পক্ষের মাঝে বাকবিতন্ডার এক পর্যায়ে জলিল মাষ্টার গংরা তাজু মিয়া ও তার স্ত্রী লেচু বিবির উপর আক্রমণ চালায় এবং লেচু বিবির শরীরের বিভিন্ন স্থানে ফোলা জখম করে এক পর্যায়ে একটি কোদাল দিয়ে আঘাত করলে সে মাটিতে পড়ে যায়।
এ ঘটনার পর লেচু বিবি কে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্য চিকিৎসক পরিক্ষা নিরীক্ষা শেষে তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এ সংবাদ পেয়ে পুলিশের উপপরিদর্শক জাহাঙ্গীর আলম হাসপাতালে এসে নিহতের সুরতহাল তৈরি করার সময় নিহত লেচু বিবির শরীরের বিভিন্ন স্থানে ফোলা জখম আছে মর্মে উল্লেখ করে মৃত ব্যক্তিকে ময়না তদন্তের জন্য হবিগঞ্জ সদরে মর্গে পাঠানো হয়।
পরবর্তীতে নিহতের মেয়ে খাইরন নেছা বাদী হয়ে লাখাই থানায় মামলা দায়ের করার দীর্ঘদিন পর্যন্ত মামলা রেকর্ড না করায় বাদী পক্ষ হবিগঞ্জ জেলা সদরে সংশ্লিষ্ট আদালতে মামলা দায়ের করার পর আমল আদালত ৭ এর বিচারক লাখাই থানার যাবতীয় কাগজপত্র তলব করে উভয় নথি সংযুক্ত করে দীর্ঘ শুনানির পর আমল আদালত পুলিশের দাখিলীয় কাগজ পত্র পর্যালোচনা করে বলেন, একই ঘটনার উপর ২টি সুরতহাল রিপোর্ট একটিতে কাটাছেঁড়া দৃশ্যমান এবং অপর সুরতহাল রিপোর্টে আঘাতের কথা স্পষ্ট লিখা রয়েছে।
এতে করে আমল আদালত ওই কাটাছেঁড়া সুরতহাল রিপোর্ট অসামঞ্জস্য হওয়ায় ৩ দিনের মধ্যে মামলা রুজু পূর্বক তদন্ত শুরুর নির্দেশ দেয়া হয়।
এ বিষয়ে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা পুলিশের উপপরিদর্শক জাহাঙ্গীর আলম বলেন, এ বিষয়ে আমি কোন বক্তব্য দিব না বক্তব্য নিতে হলে আমার উর্ধতন কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে বক্তব্য নিবেন।
এ বিষয়ে ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শরীফ আহমেদ বলেন, ঘটনাটি আমার যোগদানের আগে সেহেতু মামলা তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত কোন কিছু বলতে পারব না।
এ বিষয়ে সাবেক ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোঃ জাহিদুল হক বলেন, এ বিষয়ে তদন্তকারী কর্মকর্তা পুলিশের উপপরিদর্শক জাহাঙ্গীর আলম সুরতহাল রিপোর্ট তৈরী করেছেন তিনিই ভালো জানেন, আমার কিছু বলার নেই।
এদিকে ওই মামলার সার্বিক বিষয়ে বাদী ও স্বাক্ষীদের অভিযোগ করে এই প্রতিনিধিকে জানান, মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তার প্রতি আমাদের আস্তা ও বিশ্বাস হারিয়ে ফেলেছি। লাখাই থানার পুলিশের দ্বারা আমরা ন্যায় বিচার বা সুষ্ঠু তদন্ত পাব না। কারণ যে পুলিশ সুরতহাল রিপোর্ট নিয়ে নয় ছয় করেছে সেহেতু আমাদের দাবী পিবিআই দ্বারা মামলা তদন্ত করার দাবী জানান।
এ বিষয়ে মামলার বাদী পক্ষের আইনজীবী আজিজুননেছা খাতুন বলেন, এ বিষয়টি নিয়ে আদালতের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।