চট্টগ্রামের পটিয়ায় চাঞ্চল্যকর শিশু জায়হান হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় প্রধান আসামি সাদিয়া সুলতানা নিহার বাড়িঘর ভাঙচুর করেছে উত্তেজিত জনতা। এ ঘটনায় পুরো এলাকায় শোক ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত মঙ্গলবার দুপুরে পটিয়া পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের পূর্বপাড়া এলাকায় নিজ বাড়ির আঙিনায় খেলাধুলার সময় শিশু জায়হান নিখোঁজ হয়। তদন্তে উঠে এসেছে, প্রতিবেশী সাদিয়া সুলতানা নিহা তাকে নিজের বাড়িতে নিয়ে হত্যা করে।
ঘটনার পর হত্যাকাণ্ড ধামাচাপা দিতে এবং নিজের এক চাচাকে ফাঁসানোর উদ্দেশ্যে একটি চিরকুট লিখে পরিকল্পিত নাটক সাজানোর চেষ্টা করা হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ। তবে চিরকুটের হাতের লেখা বিশ্লেষণসহ বিভিন্ন তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে রহস্য উদঘাটন করতে সক্ষম হয় তদন্তকারী সংস্থা। পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে বৃহস্পতিবার ভোরে নিহাদের বাড়ির পেছনের একটি নর্দমা থেকে বস্তাবন্দি অবস্থায় শিশু জায়হানের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
এ ঘটনায় প্রধান অভিযুক্ত সাদিয়া সুলতানা নিহা, তার বাবা সাইফুদ্দিন এবং মা শাহানুর আক্তারকে আটক করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। চট্টগ্রাম জেলার পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
এদিকে শিশু জায়হানের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে বিক্ষুব্ধ জনতা প্রধান আসামির বাড়িঘরে ভাঙচুর চালায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করে।
পরে দক্ষিণ গোবিন্দরখীল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে শিশু জায়হানের নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়। এর আগে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে মরদেহের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করা হয়।
পটিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ জিয়াউল হক জানান, ক্ষুব্ধ জনতা আবেগের বশে ভাঙচুরের ঘটনা ঘটিয়েছে। কোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে এলাকায় অতিরিক্ত নজরদারি ও পুলিশি তৎপরতা জোরদার করা হয়েছে।