চট্টগ্রামের সাতকানিয়ায় নবম শ্রেণীতে পড়ুয়া ১৪ বছর বয়সী এক স্কুলছাত্রীকে অপহরণ ও ধর্ষণের অভিযোগে মামলা হয়েছে। এ ঘটনায় টুটুল রায় (২১) নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ভুক্তভোগীকে চট্টগ্রামের মিরসরাই থানা এলাকা থেকে উদ্ধার করা হয়।
শনিবার (২০ জুন) ভিকটিমের পিতা জয়নুল আবেদীন বাদী হয়ে সাতকানিয়া থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করেন।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, উপজেলার চরতী ইউনিয়নের তালগাঁও এলাকার বাসিন্দা জয়নুল আবেদীনের কন্যা স্থানীয় একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নবম শ্রেণীর ছাত্রী। স্কুলে যাতায়াতের পথে পুকুরিয়া চা বাগান এলাকার এক মুদি দোকানের কর্মচারী টুটুল রায় তাকে দীর্ঘদিন ধরে প্রেমের প্রস্তাব দিয়ে হয়রানি করে আসছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। পরিবারের পক্ষ থেকে সতর্ক করা হলেও সে তা উপেক্ষা করে।
গত ৯ জুন সকালে স্কুলে যাওয়ার পথে অভিযুক্ত ব্যক্তি তাকে পথ থেকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে অটোরিকশায় অপহরণ করে নিয়ে যায় বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়। এরপর পরিবারের পক্ষ থেকে খোঁজাখুঁজির পর একই দিন সাতকানিয়া থানায় একটি নিখোঁজ জিডি করেন। এরপর পুলিশ ও পরিবারের সদস্যরা যৌথভাবে সন্ধান অব্যাহত রাখে।
ঘটনার ১০ দিন পর, গত ১৯ জুন সাতকানিয়া থানা পুলিশ গোপন সংবাদের ভিত্তিতে চট্টগ্রামের মিরসরাই থানা এলাকায় স্থানীয়দের সহযোগিতায় অভিযান চালিয়ে ভিকটিমকে উদ্ধার এবং অভিযুক্ত টুটুল রায়কে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়।
উদ্ধার হওয়া ভিকটিম জানায়, তাকে ভয়ভীতি দেখিয়ে অপহরণের পর মিরসরাইয়ের একটি অজ্ঞাত স্থানে আটকে রেখে তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে একাধিকবার ধর্ষণ করা হয়েছে।
তবে উদ্ধারের পর সম্প্রতি ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিও বার্তায় কিশোরী ও যুবক বলতে দেখা যায়,স্বেচ্ছায় ওই যুবকের সাথে আসার দাবি করলেও, যুবকের দাবি-তাকে ব্ল্যাকমেইল করে সেখানে আনা হয়েছে। উভয়ের এমন পরস্পরবিরোধী বক্তব্যে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
এই বিষয়ে সাতকানিয়া সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সাতকানিয়া সার্কেল) আরিফুল ইসলাম সিদ্দিকী জানান, তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় অত্যন্ত তৎপরতার সাথে মিরসরাই এলাকা থেকে এলাকাবাসীর সহযোগিতায় মেয়েটিকে উদ্ধার এবং আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়।
তিনি আরও বলেন, অপরাধী যে ধর্মেরই হোক না কেন, আইনের চোখে সে একজন অপহরণকারী ও ধর্ষক। ভিকটিমের ডাক্তারি পরীক্ষা (মেডিকেল টেস্ট) ও আদালতে জবানবন্দী রেকর্ডের প্রক্রিয়া চলছে। আসামিকে কঠোর আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে এবং আমরা এই মামলায় দ্রুততম সময়ে চার্জশিট দাখিলের ব্যবস্থা নেব।
এলাকায় এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় এলাকাবাসী ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা এই বর্বরোচিত ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে অপরাধীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।