পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় কুয়াকাটা সমুদ্রসৈকত ও উপকূলীয় এলাকায় সরকারি নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে অব্যাহতভাবে চলছে গলদা ও বাগদা চিংড়ির রেণু (পোনা) সংগ্রহ। এ প্রক্রিয়ায় প্রতিদিন ধ্বংস হচ্ছে অসংখ্য দেশীয় মাছ ও জলজ প্রাণীর পোনা, যা সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্যের জন্য মারাত্মক হুমকি হয়ে উঠেছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, কুয়াকাটা উপকূল ও সংলগ্ন নদ-নদীতে নিষিদ্ধ মশারি জাল ব্যবহার করে চিংড়ির রেণু আহরণ করছেন স্থানীয় জেলেরা। সংগৃহীত রেণু স্থানীয় আড়তদার ও ব্যবসায়ীদের মাধ্যমে বিক্রি হচ্ছে কলাপাড়া, মহিপুর, আলীপুর ও কুয়াকাটার বিভিন্ন চিংড়ি ঘের মালিকদের কাছে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, প্রতিবছর মে থেকে আগস্ট পর্যন্ত মাছের প্রজনন মৌসুমে সরকারি নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও নদী ও সমুদ্র উপকূলে ব্যাপক হারে পোনা সংগ্রহ করা হয়। জীবিকার তাগিদে শত শত মানুষ এ কাজে জড়িয়ে পড়েছেন।
পোনা আহরণকারীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, একটি গলদা বা বাগদা চিংড়ির রেণু সংগ্রহ করতে গিয়ে জালে কোরাল, কাঁকড়া, চিরিং, বাইলা, তফসে, বাটা, চাপিলা, টেংরা, পোমা, কাঁচকিসহ বিভিন্ন প্রজাতির মাছ ও জলজ প্রাণীর পোনা উঠে আসে। তবে চিংড়ির রেণু আলাদা করার পর অধিকাংশ পোনা ফেলে দেওয়া হয়, ফলে সেগুলো অল্প সময়েই মারা যায়।
জব্বার মিয়া নামের এক পোনা আহরণকারী জানান, চিংড়ির রেণুর সঙ্গে অনেক ধরনের মাছের পোনা উঠে আসে। আমরা শুধু চিংড়ির পোনা রেখে বাকিগুলো ফেলে দিই।
সবচেয়ে উদ্বেগজনক চিত্র দেখা যায় কুয়াকাটা সমুদ্রসৈকতে। প্রতিদিন শত শত জেলে সমুদ্রের তীরে জাল টেনে চিংড়ির রেণু সংগ্রহ করছেন। এ সময় জালে উঠে আসা অন্যান্য মাছের পোনা সৈকতের বালুচরে ফেলে দেওয়া হয়। ফলে প্রতিদিন হাজার হাজার মাছের রেণু ধ্বংস হচ্ছে।
স্থানীয় এক ব্যক্তি জানান, ১০০টি চিংড়ির রেণু মাত্র ৪০ টাকায় বিক্রি করা হয়। পরে বিভিন্ন হাত ঘুরে একই পরিমাণ রেণু চাষিদের কাছে ১০০ টাকা বা তারও বেশি দামে বিক্রি হয়। সামান্য আর্থিক লাভের জন্য বিপুল পরিমাণ মাছের পোনা ধ্বংস করা হচ্ছে।
বুলবুল নামের আরেক পোনা সংগ্রহকারী বলেন, ‘চিংড়ির পোনার ভালো দাম পাওয়া যায়। কিন্তু অন্য মাছের পোনা বিক্রি হয় না। তাই বেশিরভাগ সময় সেগুলো ফেলে দিতে হয়। কিছু পোনা বড় হলে কাঁচকি মাছ হিসেবে বাজারে বিক্রি করা হয়।’
মৎস্য সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, এভাবে নির্বিচারে রেণু সংগ্রহ চলতে থাকলে ভবিষ্যতে সামুদ্রিক ও উপকূলীয় মৎস্যসম্পদের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। তারা অবিলম্বে অবৈধ রেণু আহরণ বন্ধে কঠোর নজরদারি ও আইন প্রয়োগের দাবি জানিয়েছেন।
সচেতন মহলের মতে, জীবিকার বিকল্প ব্যবস্থা নিশ্চিত করার পাশাপাশি রেণু আহরণের ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধি না করলে উপকূলীয় অঞ্চলের জীববৈচিত্র্য রক্ষা করা কঠিন হয়ে পড়বে।