বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি রোগীদের মাঝে নিম্নমানের খাবার পরিবেশন, অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে।
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রোগী ও তাদের স্বজনদের অভিযোগ, সরকার নির্ধারিত খাবারের মান ও পরিমাণ অনুযায়ী খাবার সরবরাহ না করে নিম্নমানের ও অপ্রতুল খাবার দেওয়া হচ্ছে।
বৃহস্পতিবার (১৭ জুন) সরেজমিনে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে ভর্তি রোগী ও তাদের স্বজনদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, তারা খাবারের পুষ্টিগুণ ও মান নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন।
রোগীরা জানান, অনেক সময় পরিবেশিত খাবারের মান এতটাই খারাপ থাকে যে তা খাওয়ার অনুপযোগী হয়ে পড়ে। গত তিন দিন ধরে ভর্তি রোগী ও স্বজনরা অভিযোগ করেন, প্রতিদিন একই ধরনের খাবার দেওয়া হচ্ছে এবং খাবারের মানও অত্যন্ত নিম্নমানের হওয়ায় বাধ্য হয়ে বাইরে থেকে খাবার কিনে খেতে হচ্ছে।
রোগীদের স্বজনদের অভিযোগ, খাদ্য বাবদ সরকারি বরাদ্দ থাকলেও তার সঠিক ব্যবহার হচ্ছে না। একটি অসাধু চক্র ও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের যোগসাজশে দীর্ঘদিন ধরে অনিয়ম চলছে বলেও তারা দাবি করেন। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, উন্নতমানের চিকন চালের (মিনিকেট) ভাত সরবরাহের কথা থাকলেও রোগীদের দেওয়া হচ্ছে নিম্নমানের চালের ভাত। এছাড়া রান্নায় খোলা পাম তেল, মরিচের গুঁড়া ও হলুদের গুঁড়া ব্যবহারের অভিযোগও উঠেছে।
হাসপাতালের কয়েকজন কর্মচারী নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, প্রতিটি রোগীর জন্য খাবারের বরাদ্দ ১৭৫ টাকা। সকালে ডিম, কলা ও পাউরুটি দেওয়া হয়। তবে অনেক সময় নির্ধারিত তালিকা অনুযায়ী খাবারের পরিমাণ কম সরবরাহ করা হয় বলেও তারা জানান।
স্থানীয়রা বলেন, অসুস্থ রোগীদের সুস্থতার জন্য পুষ্টিকর খাবার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু খাদ্য সরবরাহে অনিয়মের কারণে রোগীরা ভোগান্তিতে পড়ছেন। তারা দ্রুত স্বাস্থ্য বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
এ বিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সুমি আক্তার জানান, উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা ছাড়া এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে পারবো না।
অন্যদিকে বরিশালের সিভিল সার্জন ডা. এস এম মঞ্জুর-এ-এলাহী বলেন, বিষয়টি আগে জানা ছিল না, এখন অবগত হয়েছেন। তিনি জানান, অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।