একসময় শিবচরের গ্রামবাংলার মাঠ-ঘাট, রাস্তার ধারে ও বাড়ির আঙিনায় সারি সারি দেশি খেজুর গাছ দেখা যেত। গ্রীষ্মকালে পাকা খেজুর কুড়িয়ে খাওয়া ছিল শিশু-কিশোরদের অন্যতম আনন্দ।
কিন্তু সময়ের পরিবর্তনে সেই পরিচিত দেশি খেজুর এখন বিলুপ্তির পথে।
একই সঙ্গে এই ফলের প্রতি আগ্রহও কমে গেছে নতুন প্রজন্মের শিশুদের মধ্যে। চৈত্র মাসের শেষ ও আষাড়ের শুরুতেই পাকতে শুরু করতো খেজুর। পাখির ভিড় জমতো খেজুরের ডালে। পাকা খেজুর পড়ে থাকতো গাছের তলায়। শিশুরা স্কুলে যাবার ও আসবার, সময় তাহা সংগ্রহ করতো।
বিদেশী খেজুর আসবার কারনে এবং গাছ সংকটের কারনে দেশী খেজুর চোখে পরছে না। কেও ডিল ছুরে খেজুর পারতো কেহ বাশের মাথায় কোটা বানিয়ে অথবা গাছে উঠে কাদি ধরে কেটে এনে বাড়িতে জাগদিয়ে পাকাতো।
স্থানীয় প্রবীণরা জানান, একসময় বৈশাখ-জ্যৈষ্ঠ মাসে খেজুর গাছের নিচে শিশুদের ভিড় লেগে থাকত। স্কুল ছুটির পর কিংবা বিকেলে দলবেঁধে খেজুর কুড়াতে যেত তারা। বর্তমানে মোবাইল ফোন , বিভিন্ন বিদেশি ফল ও প্রক্রিয়াজাত খাবারের প্রতি ঝোঁক বাড়ায় দেশি খেজুরের প্রতি আগ্রহ কমে গেছে শিশুদের।
স্থানীয়দের মতে, অপরিকল্পিতভাবে গাছ কেটে ফেলা, বসতবাড়ি ও সড়ক সম্প্রসারণ এবং নতুন করে খেজুর গাছ রোপণ না করায় দিন দিন কমে যাচ্ছে এ গাছের সংখ্যা। ফলে গ্রামীণ ঐতিহ্যের অংশ দেশি খেজুর এখন হারিয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় রয়েছে।
দেশের বিভিন্ন এলাকাতেও দেশি খেজুর ও খেজুর গাছের সংখ্যা কমে যাওয়ার বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে।
শিবচর উপজেলার বেশ কয়েকটি গ্রামের বাসিন্দারা বলেন, আগে বাড়ির পাশে অনেক খেজুর গাছ ছিল। এখন হাতে গোনা কয়েকটি গাছ দেখা যায়, ইট ঋাটায় সব গাছ কেটে লাকরি হিসেবে ব্যবহার করায় গাছ সংকট । নতুন প্রজন্মের অনেক শিশুই দেশি খেজুরের স্বাদ চেনে না।
কৃষি সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দেশি ফল ও গ্রামীণ জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে খেজুর গাছ রোপণ এবং সচেতনতা বৃদ্ধি জরুরি। পাশাপাশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও পরিবার পর্যায়ে দেশীয় ফল সম্পর্কে শিশুদের আগ্রহ বাড়াতে উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।
গ্রামীণ ঐতিহ্য ও প্রকৃতির সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত দেশি খেজুর সংরক্ষণে এখনই কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে আগামী প্রজন্মের কাছে এটি শুধুই স্মৃতির অংশ হয়ে থাকবে।